শিরোনাম :
Logo শেরপুরে পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবির Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশীকে আটক করে বিজিবির হাতে দিল বিএসএফ Logo তরুণরাই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত পুনর্গঠন করবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo সিরাজগঞ্জে সড়কদ্বীপে আগাছা পরিস্কার Logo চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ৫ম বই উপহার মাস ঘোষণা Logo অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করতে চান হিরো মনির Logo কয়রায় সিপিপির আড়ালে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ Logo চাঁদপুর সদর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সলের যোগদান Logo খুবিতে আন্তঃডিসিপ্লিন কুইজ প্রতিযোগিতা শুরু Logo মৃত্যুদণ্ড বজায় রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

খুবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সিনার্জি’ বিষয়ক  জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

শিক্ষা ও শিল্পখাতের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সুগম নয় এই উপলব্ধি থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সেমিনার ‘এমপাওয়ারিং দ্য ফিউচার উইথ ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সিনার্জি’।

সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুল, সহযোগিতায় ছিল খুলনা ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব এবং এইচআরএম সোসাইটি।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান,
“আমরা প্রত্যেক ডিসিপ্লিনকে অন্তত একটি ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করেছি এবং সে অনুযায়ী ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রেখেছি। বিজনেস স্কুল তার বাস্তব উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম বিবিএ প্রোগ্রাম চালু হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তা বাস্তবায়িত হয়। এখন সময় এসেছে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে গভীর রিসার্চ ও কোলাবোরেটিভ কাজ বাড়ানোর।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশিদ খান, প্রোভিসি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নুর আলম।

সেমিনারে আমন্ত্রিত তিনজন শিল্পখাতের প্রতিনিধি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কর্মজগতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ কর্পোরেট বিজনেস অফিসার, মেটলাইফ বাংলাদেশ
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো এক মহাসাগরের মতো এখানে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ থাকে। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, জীবনের নানা বাস্তব দিকও শেখা জরুরি।”
তিনি শিক্ষার্থীদের প্রোডাক্টিভ স্টুডেন্ট লাইফ গড়তে উৎসাহিত করেন এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানে স্কিল ডেভেলপমেন্টের পরামর্শ দেন।

দেওয়ান আতিফ রশিদ
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডিটিসি লিমিটেড; ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে আসতে হলে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন লক্ষ্য, ধৈর্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতা।”
তিনি বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি খাতের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, স্কিলড জনশক্তির ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের তিনি ইন্ডাস্ট্রি-রেডি হওয়ার আহ্বান জানান।

ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম দুলু
সিইও, মার্কটেল বাংলাদেশ; সেক্রেটারি জেনারেল, মার্কেটারস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (এমআইবি)
তিনি বলেন,
“আমি শুরু থেকেই মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের আগে বুঝতে হবে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সংযোগটা কী এবং সেটি কেমনভাবে কাজ করে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শেখায় কীভাবে শিখতে হয় এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সেমিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ পেয়ে দারুণ অনুপ্রাণিত হন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবির

খুবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সিনার্জি’ বিষয়ক  জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

শিক্ষা ও শিল্পখাতের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সুগম নয় এই উপলব্ধি থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সেমিনার ‘এমপাওয়ারিং দ্য ফিউচার উইথ ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সিনার্জি’।

সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুল, সহযোগিতায় ছিল খুলনা ইউনিভার্সিটি বিজনেস ক্লাব এবং এইচআরএম সোসাইটি।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান,
“আমরা প্রত্যেক ডিসিপ্লিনকে অন্তত একটি ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করেছি এবং সে অনুযায়ী ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রেখেছি। বিজনেস স্কুল তার বাস্তব উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম বিবিএ প্রোগ্রাম চালু হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তা বাস্তবায়িত হয়। এখন সময় এসেছে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে গভীর রিসার্চ ও কোলাবোরেটিভ কাজ বাড়ানোর।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশিদ খান, প্রোভিসি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নুর আলম।

সেমিনারে আমন্ত্রিত তিনজন শিল্পখাতের প্রতিনিধি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কর্মজগতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ কর্পোরেট বিজনেস অফিসার, মেটলাইফ বাংলাদেশ
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হলো এক মহাসাগরের মতো এখানে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ থাকে। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, জীবনের নানা বাস্তব দিকও শেখা জরুরি।”
তিনি শিক্ষার্থীদের প্রোডাক্টিভ স্টুডেন্ট লাইফ গড়তে উৎসাহিত করেন এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানে স্কিল ডেভেলপমেন্টের পরামর্শ দেন।

দেওয়ান আতিফ রশিদ
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডিটিসি লিমিটেড; ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে আসতে হলে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন লক্ষ্য, ধৈর্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতা।”
তিনি বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি খাতের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, স্কিলড জনশক্তির ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের তিনি ইন্ডাস্ট্রি-রেডি হওয়ার আহ্বান জানান।

ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম দুলু
সিইও, মার্কটেল বাংলাদেশ; সেক্রেটারি জেনারেল, মার্কেটারস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (এমআইবি)
তিনি বলেন,
“আমি শুরু থেকেই মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের আগে বুঝতে হবে ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সংযোগটা কী এবং সেটি কেমনভাবে কাজ করে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শেখায় কীভাবে শিখতে হয় এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সেমিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ পেয়ে দারুণ অনুপ্রাণিত হন।