মঙ্গলবার | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া Logo এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলো যদি লাইনের বাইরে চলে যায়, তাহলে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে-সাতক্ষীরায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করলেন উপ-উপাচার্য Logo আজ শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী Logo জিয়াউর রহমান : এক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতি গঠনের কারিগর Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা

কেন শ্রীলঙ্কা,পাকিস্তানের পর বাংলাদেশেও একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ?

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০২৪
  • ৭৬৬ বার পড়া হয়েছে

আজ বুধবার (২১ আগস্ট) চীনের জাতীয় দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট একটি বিশেষ মতামত প্রকাশ করেছে, যার হেডিং ‘বাংলাদেশ আনরেস্ট সিগনালস ট্রাবেলিং হেডউইন্ডস ফর গ্লোবাল সাউথ’ । এই মতামতের লেখক, Chietigj Bajpaee ।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের সাথে এক ভয়ঙ্কর সাদৃশ্য বহন করে। বলা হয়,  মাত্র দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কায় সরকার বিরোধী যে বিক্ষোভ হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে যেভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তেমনই বাংলাদেশে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যান।

কলম্বোর জনতা  গণভবন এবং সংসদ দখল করেছিল। একইভাবে এ বছর ঢাকায়ও পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

২০২৩ সালে পাকিস্তানেও সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা একটি সেনা গ্যারিসন এবং কর্পস কমান্ডারের বাসভবনে হামলা করে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছিল।

এই তিন দেশের মধ্যে যেন আগে পরে একই চিত্র দেখা গেলো। তিনটি দেশই
ভয়াবহ ঋণের বোঝা বহন করছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান সবাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেলআউটের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি তার ২৪ তম আইএমএফ বেলআউটের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। শ্রীলঙ্কা তার ২০২২ সালের অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বেলআউটের মধ্যে রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক এমন দুর্দশার জন্য পশ্চিমারা চীনের অস্বচ্ছ ঋণদান এবং জোরপূর্বক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে থাকে। পাকিস্তানের বৈদেশিক দ্বিপাক্ষিক ঋণের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি, মালদ্বীপের ৬০ শতাংশের বেশি, শ্রীলঙ্কার ৫০ শতাংশের বেশি এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি চীন থেকে নেয়া। বেইজিং প্রকল্পের জন্য ৯৯ বছরের ইজারা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর প্রকল্পটি চীনের কথিত ঋণ-ফাঁদ কূটনীতির বর্ণনার সমর্থক হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা না করেই সরকারগুলো চীনের কাছ থেকে এভাবে ঋণ নিতে থাকে। রাজাপাকসের অধীনে শ্রীলঙ্কা, হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ এবং একদল সামরিক নেতার অধীনে পাকিস্তান তাদের তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী জনগোষ্ঠীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না করে একের পর এক ঋণে জর্জড়িত করে দেশের জনগণকে।

তাই দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি সার্বিক দিক থেকে ভয়াবহ রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থানকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীনরা। ভারতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভূমিধস জয় পাবে বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। কাজ করেছে তার বিপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার।
শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও এই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করেছে আন্দোলনকারীরা। এই তিনদেশেই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।  প্রকাশ্যে উন্নয়নের চেহারা দেখা গেলেও ভেতরে প্রচুর অনিয়ম, টাকার লুটপাট হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে এই তিনদেশের  অবস্থাই যেন হুমকি।

মুল লেখা :https://www.scmp.com/opinion/asia-opinion/article/3274931/bangladesh-unrest-signals-troubling-headwinds-global-south

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া

কেন শ্রীলঙ্কা,পাকিস্তানের পর বাংলাদেশেও একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ?

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০২৪

আজ বুধবার (২১ আগস্ট) চীনের জাতীয় দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট একটি বিশেষ মতামত প্রকাশ করেছে, যার হেডিং ‘বাংলাদেশ আনরেস্ট সিগনালস ট্রাবেলিং হেডউইন্ডস ফর গ্লোবাল সাউথ’ । এই মতামতের লেখক, Chietigj Bajpaee ।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অস্থিরতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের সাথে এক ভয়ঙ্কর সাদৃশ্য বহন করে। বলা হয়,  মাত্র দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কায় সরকার বিরোধী যে বিক্ষোভ হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে যেভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তেমনই বাংলাদেশে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যান।

কলম্বোর জনতা  গণভবন এবং সংসদ দখল করেছিল। একইভাবে এ বছর ঢাকায়ও পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

২০২৩ সালে পাকিস্তানেও সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীরা একটি সেনা গ্যারিসন এবং কর্পস কমান্ডারের বাসভবনে হামলা করে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছিল।

এই তিন দেশের মধ্যে যেন আগে পরে একই চিত্র দেখা গেলো। তিনটি দেশই
ভয়াবহ ঋণের বোঝা বহন করছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান সবাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেলআউটের মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তান সম্প্রতি তার ২৪ তম আইএমএফ বেলআউটের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। শ্রীলঙ্কা তার ২০২২ সালের অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বেলআউটের মধ্যে রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক এমন দুর্দশার জন্য পশ্চিমারা চীনের অস্বচ্ছ ঋণদান এবং জোরপূর্বক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে থাকে। পাকিস্তানের বৈদেশিক দ্বিপাক্ষিক ঋণের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি, মালদ্বীপের ৬০ শতাংশের বেশি, শ্রীলঙ্কার ৫০ শতাংশের বেশি এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি চীন থেকে নেয়া। বেইজিং প্রকল্পের জন্য ৯৯ বছরের ইজারা পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর প্রকল্পটি চীনের কথিত ঋণ-ফাঁদ কূটনীতির বর্ণনার সমর্থক হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা না করেই সরকারগুলো চীনের কাছ থেকে এভাবে ঋণ নিতে থাকে। রাজাপাকসের অধীনে শ্রীলঙ্কা, হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ এবং একদল সামরিক নেতার অধীনে পাকিস্তান তাদের তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী জনগোষ্ঠীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না করে একের পর এক ঋণে জর্জড়িত করে দেশের জনগণকে।

তাই দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি সার্বিক দিক থেকে ভয়াবহ রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থানকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীনরা। ভারতের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভূমিধস জয় পাবে বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। কাজ করেছে তার বিপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার।
শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশেও এই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করেছে আন্দোলনকারীরা। এই তিনদেশেই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।  প্রকাশ্যে উন্নয়নের চেহারা দেখা গেলেও ভেতরে প্রচুর অনিয়ম, টাকার লুটপাট হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে এই তিনদেশের  অবস্থাই যেন হুমকি।

মুল লেখা :https://www.scmp.com/opinion/asia-opinion/article/3274931/bangladesh-unrest-signals-troubling-headwinds-global-south