শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo আর্ট সার্কেল খুলনা’র আত্মপ্রকাশ ও তিন দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু Logo চাঁদপুর পৌর ৭ নং ওয়ার্ডে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক Logo চাঁদপুরে স্বর্ণ শিশুদের নিয়ে দৈনিক বাংলাদেশের আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo নির্বাচনি প্রচারণায় বাধার অভিযোগ: গাইবান্ধা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন Logo খুলনা-৬ আসনে জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর Logo অ্যাসেটের অর্থায়নে কর্মমুখী সেমিনার ও জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠতে হবে-যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মূনীরুজ্জামান ভূঁইয়া Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে মোমবাতি মার্কার গণসংযোগ Logo ভোট চাইতে গিয়ে মিলছে হাসি, ভোটারদের কণ্ঠে একটাই কথা—ধানের শীষ’ Logo ধানের শীর্ষের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় পলাশবাড়ীতে কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পরিবার  Logo নীলকমল ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তারা যেনো ভিন্ন কোনো গ্রহের -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

ফারাক্কার পানি বণ্টন, ভারতের কারণে ফলাফল শূন্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

  • নীলকন্ঠ অনলাইন নীলকন্ঠ অনলাইন
  • আপডেট সময় : ১২:২২:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • ৭৭৫ বার পড়া হয়েছে
গঙ্গা নদীর বুকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের তৈরি করা ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বনিবনা হচ্ছিলো না বাংলাদেশের। ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অপর দিকে ভরা মৌসুমে বাংলাদেশকে আগাম কোনো কিছু না জানিয়েই বাঁধ খুলে দেওয়ায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।যা নিয়ে সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে দুই দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছেই শেষ হয়েছে বৈঠক।

ফারাক্কায় গঙ্গার পানি মাপার পর দুদিন ধরে বৈঠক করেন ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের প্রথমদিকে সব ঠিকঠাক এগোলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় জটিলতা দেখা দেয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ফারাক্কায় গঙ্গার পানি মাপেন। প্রথম দিন গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতা বৈঠকের মিনিটসে সই করেন। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের বৈঠক ছিল সীমান্তের নদীগুলি নিয়ে। আর সেই বৈঠকের পর মিনিটসে কোনো সই হয়নি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা মোহাম্মদ আবুল হোসেন ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ‘পরিকল্পনা মতো আমাদের বৈঠক হয়েছে। এর থেকে বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খোলেননি এ বিষয়ে। বৈঠক শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন হয়নি। কেউ কোনো কথা বলেননি।

দ্বিতীয় বৈঠকের সমস্যা

শুক্রবারের বৈঠকে আলোচ্য ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগি, বন্যা রিপোর্ট, সীমান্ত নদীগুলিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পরিকল্পনার বিষয়টি। একাধিক বিষয়ের আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে পারার কারণে বৈঠকের পর এখনো কোনো মিনিটসে সই করা হয়নি বলে সূত্র জানাচ্ছে।

গত বছর বন্যায় একাধিক সীমান্ত নদীতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙে পড়েছে। সীমান্ত নদী হওয়ার কারণে যা মেরামতের জন্য দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন। সূত্র জানাচ্ছে, ৭ মার্চের মিটিংয়ে বাংলাদেশ এই নদীগুলির মেরামতের কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারত এখনো তাদের সম্মতি দেয়নি। তারা বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখতে চায়।

তথ্য ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং ভারত তাতে রাজি থাকলেও তা মিনিটসের খাতায় তোলা নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। ফলে, শেষ পর্যন্ত মিনিটস-এ সই হয়নি।

ফারাক্কা সফর

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি মেনে পানি ভাগাভাগি হচ্ছে কিনা তা দেখতে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান প্রতিনিধিরা। এবছর ৪ মার্চ ফারাক্কায় গিয়ে পানি মাপার পর ভাগাভাগি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সেই সঙ্গে আরও জানান, এবছর পানি কম থাকার জন্য দুই দেশই পানি কম পাচ্ছে।

এরপর ৬ মার্চ ভারত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন, গঙ্গায় কম পানি এবং নদীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মিটিং শেষে আলোচনার সারাংশে সই করেন ভারত ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব শরদ চন্দ্র এবং মোহাম্মদ আবুল হোসেন।সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক জটিলতা কেটে গেলে পরবর্তীকালে সই হতে পারে সমঝোতা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আর্ট সার্কেল খুলনা’র আত্মপ্রকাশ ও তিন দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু

ফারাক্কার পানি বণ্টন, ভারতের কারণে ফলাফল শূন্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আপডেট সময় : ১২:২২:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
গঙ্গা নদীর বুকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের তৈরি করা ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বনিবনা হচ্ছিলো না বাংলাদেশের। ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অপর দিকে ভরা মৌসুমে বাংলাদেশকে আগাম কোনো কিছু না জানিয়েই বাঁধ খুলে দেওয়ায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।যা নিয়ে সম্প্রতি উভয় দেশের মধ্যে দুই দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় না পৌঁছেই শেষ হয়েছে বৈঠক।

ফারাক্কায় গঙ্গার পানি মাপার পর দুদিন ধরে বৈঠক করেন ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের প্রথমদিকে সব ঠিকঠাক এগোলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনায় জটিলতা দেখা দেয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ফারাক্কায় গঙ্গার পানি মাপেন। প্রথম দিন গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের নেতা বৈঠকের মিনিটসে সই করেন। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের বৈঠক ছিল সীমান্তের নদীগুলি নিয়ে। আর সেই বৈঠকের পর মিনিটসে কোনো সই হয়নি।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা মোহাম্মদ আবুল হোসেন ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ‘পরিকল্পনা মতো আমাদের বৈঠক হয়েছে। এর থেকে বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খোলেননি এ বিষয়ে। বৈঠক শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন হয়নি। কেউ কোনো কথা বলেননি।

দ্বিতীয় বৈঠকের সমস্যা

শুক্রবারের বৈঠকে আলোচ্য ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তথ্য ভাগাভাগি, বন্যা রিপোর্ট, সীমান্ত নদীগুলিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পরিকল্পনার বিষয়টি। একাধিক বিষয়ের আলোচনায় কোনো সিদ্ধান্তে না আসতে পারার কারণে বৈঠকের পর এখনো কোনো মিনিটসে সই করা হয়নি বলে সূত্র জানাচ্ছে।

গত বছর বন্যায় একাধিক সীমান্ত নদীতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশি কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙে পড়েছে। সীমান্ত নদী হওয়ার কারণে যা মেরামতের জন্য দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন। সূত্র জানাচ্ছে, ৭ মার্চের মিটিংয়ে বাংলাদেশ এই নদীগুলির মেরামতের কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারত এখনো তাদের সম্মতি দেয়নি। তারা বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখতে চায়।

তথ্য ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং ভারত তাতে রাজি থাকলেও তা মিনিটসের খাতায় তোলা নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। ফলে, শেষ পর্যন্ত মিনিটস-এ সই হয়নি।

ফারাক্কা সফর

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি মেনে পানি ভাগাভাগি হচ্ছে কিনা তা দেখতে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান প্রতিনিধিরা। এবছর ৪ মার্চ ফারাক্কায় গিয়ে পানি মাপার পর ভাগাভাগি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। সেই সঙ্গে আরও জানান, এবছর পানি কম থাকার জন্য দুই দেশই পানি কম পাচ্ছে।

এরপর ৬ মার্চ ভারত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন, গঙ্গায় কম পানি এবং নদীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মিটিং শেষে আলোচনার সারাংশে সই করেন ভারত ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব শরদ চন্দ্র এবং মোহাম্মদ আবুল হোসেন।সূত্র জানিয়েছে, সাময়িক জটিলতা কেটে গেলে পরবর্তীকালে সই হতে পারে সমঝোতা।