ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার রূপকার, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীরা সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘দিনদুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কী করে’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ইন্টেরিম সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, এই সরকার যদি এতদিনেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা কোথায়? ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে আশা নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছিল, শহীদ হাদি হত্যার ঘটনায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় ছয় মাস পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াকে তারা চরম ব্যর্থতা ও লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তারা দাবি করেন, বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদকালেই সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও আগামী রবিবার প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম রহমান বলেন, “যে আমাদের বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছেন, তার হত্যার বিচারের দাবিতে আজও আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। কার ভয় বা কার স্বার্থে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—তা আমরা জানতে চাই। র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না কেন? আমরা মনে করি, সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে। অবিলম্বে হত্যার আদেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের সামনে আনতে হবে।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “আমরা যতই ঘাম ঝরাই-কখনো ক্লান্ত হবো না, যতই রক্ত ঝরুক-কখনো হতাশ হবো না। আমাদের চেতনা ও স্মৃতিপট থেকে শহীদ ওসমান হাদিকে মুছে যেতে দেব না। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি গণআন্দোলনের পেছনে সাধারণ মানুষের রক্ত রয়েছে, কিন্তু বারবার সেই রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। শহীদ হাদি চেয়েছিলেন এই দেশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। আধিপত্যবাদবিরোধী সেই চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী—একজন হাদি চলে গেলে হাজারো হাদি জন্ম নেয়। আমরা কোনো আধিপত্য মেনে নেব না। অবিলম্বে শহীদ হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”





































