আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার শুরু করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা জানান, জাতীয় ছাত্রশক্তির দেশব্যাপী ‘হ্যাঁ’ যাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৪ দিনব্যাপী ক্যাম্পাসে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কর্মসূচির বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রাষ্ট্র সংস্কার করার জন্য রাস্তায় নেমেছিল। এর ফলশ্রুতিতে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলেই শুধু সেই সংস্কারকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। আমরা আশা করছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি ও সব ছাত্র-জনতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেবেন। ফলে সরকার ও জনগণের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। তাই রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সবার প্রতি আমাদের আহ্বান গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কেই জয়ী করুন।”
জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “আমরা যারা সংস্কারসাধনের লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, তাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে গণভোটের প্রচার করার জন্য, সংস্কার করার জন্য। অন্তর্বর্তী সরকারেরও সংস্কারসাধনের দায়বদ্ধতা আছে, তাদের বসানোই হয়েছিল সংস্কার করার জন্য। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় তারা না পেরে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা যারা সচেতন আছি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর জন্য প্রচার চালাব, যেন আবার বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিরাজ না করে।”
প্রচারে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “আমরা যত জায়গায় গিয়েছি, মানুষের রেসপন্স পজিটিভ। বিগত ১৭ বছরে বিষয়টি এমন ছিল যে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মানুষ কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করত না কিংবা প্রশ্ন করত না। কিন্তু এখন মানুষ আমাদের জিজ্ঞেস করছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে কী হবে কিংবা ‘না’ দিলে কী হবে। জুলাই সনদের পয়েন্টগুলো নিয়ে আলাপ করছে, এটা ভালো লাগছে।”
তিনি আরও বলেন, “নিম্নবিত্ত মানুষ, ক্যাম্পাসে যারা দোকান করে কিংবা শিক্ষার্থী সবার কাছে পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। একই সঙ্গে মানুষ যে প্রশ্ন করতে শিখেছে, এই বিষয়টি ভালো লাগছে। এই পরিবর্তনটাই হয়তো আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশে।”
























































