শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা Logo হাদী হত্যা বিচারের দাবিতে খুবির কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনের ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ Logo খুবিতে এআই ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুর ডিএনসির উদ্যোগে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ Logo গাছতলা দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না-মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ Logo নোবিপ্রবিতে ‘বর্ধিত সাদা দল’-এর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু Logo বীরগঞ্জে আলেম সমাজের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে Logo বীরগঞ্জে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৭০৮ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস।

সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষের মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যাঁরাই বিজয়ী হবেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাস সম্ভব হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ান সদস্যপদের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সরকার এই উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা

ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ মন্তব্য করেন অধ্যাপক ইউনূস।

সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষের মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যাঁরাই বিজয়ী হবেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক হ্রাস সম্ভব হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসিয়ান সদস্যপদের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

ভবিষ্যৎ সরকার এই উদ্যোগ এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।