বুধবার | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নীলকমল ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তারা যেনো ভিন্ন কোনো গ্রহের -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ Logo আমরা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে সাতক্ষীরার ৬নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি Logo চাঁদপুর জেলা কারাগারে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্ভাবনা নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জাবিতে ছাত্রশক্তির ক্যাম্পেইন শুরু Logo মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ডিএনসি: চাঁদপুরে আলোচনা সভা ও গণভোট সচেতনতা কার্যক্রম Logo শেরপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo খালাসের সময় ১৪ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় তেল ঘাটতির অভিযোগে দুদকের অভিযান Logo হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হতে হবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছানো-জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর Logo সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির উদ্যোগে ৫নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত

খালাসের সময় ১৪ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় তেল ঘাটতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৭১০ বার পড়া হয়েছে

মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল খালাসের সময় প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ক্রুড অয়েল উধাও হওয়ার অভিযোগে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এ অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ এমরানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম ইস্টার্ন রিফাইনারিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে। অভিযানে তেল খালাস, পরিমাপ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কের দূরত্ব প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজের তেল জেটিতে যুক্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রিফাইনারির ট্যাঙ্কে স্থানান্তর করার কথা থাকলেও খালাসের পর হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত পরিমাণে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।
বিএসসির নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা দুটি জাহাজে মোট দুই লাখ ৯ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৯০ টন ক্রুড অয়েল ছিল। তবে জাহাজ থেকে খালাসের পর ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কে পরিমাপ করে পাওয়া যায় মাত্র দুই লাখ সাত হাজার ২২১ দশমিক ৯৪৬ টন। অর্থাৎ খালাসের প্রক্রিয়ায় দুই হাজার ৩৬২ দশমিক ১৪৪ টন ক্রুড অয়েলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এই তেলের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘নরডিক স্কিয়ার’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ ৯ হাজার ৭৪১ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের আরেকটি জাহাজ ৯৯ হাজার ৮৯৩ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একই স্থানে নোঙর করে।
দুটি জাহাজ থেকে যৌথ সার্ভের মাধ্যমে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কে নেওয়ার কথা থাকলেও পরিমাপে অস্বাভাবিক ঘাটতি ধরা পড়ে, যা বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন,
“সরকারি তেল খালাসের সময় প্রায় ১৪ কোটি টাকার তেলের হিসাব না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে বিস্তারিত প্রতিবেদন দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দুদক সূত্র আরো জানায়, তদন্তের আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা, পরিমাপ পদ্ধতি, পাইপলাইন ট্রান্সফার সিস্টেম এবং সার্ভে রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।

ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলকমল ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, তারা যেনো ভিন্ন কোনো গ্রহের -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

খালাসের সময় ১৪ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় তেল ঘাটতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল খালাসের সময় প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ক্রুড অয়েল উধাও হওয়ার অভিযোগে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এ অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ এমরানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম ইস্টার্ন রিফাইনারিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে। অভিযানে তেল খালাস, পরিমাপ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কের দূরত্ব প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজের তেল জেটিতে যুক্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রিফাইনারির ট্যাঙ্কে স্থানান্তর করার কথা থাকলেও খালাসের পর হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত পরিমাণে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।
বিএসসির নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা দুটি জাহাজে মোট দুই লাখ ৯ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৯০ টন ক্রুড অয়েল ছিল। তবে জাহাজ থেকে খালাসের পর ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কে পরিমাপ করে পাওয়া যায় মাত্র দুই লাখ সাত হাজার ২২১ দশমিক ৯৪৬ টন। অর্থাৎ খালাসের প্রক্রিয়ায় দুই হাজার ৩৬২ দশমিক ১৪৪ টন ক্রুড অয়েলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এই তেলের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘নরডিক স্কিয়ার’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ ৯ হাজার ৭৪১ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের আরেকটি জাহাজ ৯৯ হাজার ৮৯৩ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একই স্থানে নোঙর করে।
দুটি জাহাজ থেকে যৌথ সার্ভের মাধ্যমে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কে নেওয়ার কথা থাকলেও পরিমাপে অস্বাভাবিক ঘাটতি ধরা পড়ে, যা বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও তেল পাচারের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন,
“সরকারি তেল খালাসের সময় প্রায় ১৪ কোটি টাকার তেলের হিসাব না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে বিস্তারিত প্রতিবেদন দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দুদক সূত্র আরো জানায়, তদন্তের আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারি ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা, পরিমাপ পদ্ধতি, পাইপলাইন ট্রান্সফার সিস্টেম এবং সার্ভে রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হতে পারে।

ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।