বুধবার | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কালিগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতার Logo ভেঙ্গে পরেছে পলাশবাড়ী উপজেলার প্রশাসনিক ব্যবস্থা! কর্মস্থলে নেই কর্মকর্তারা!জন সেবায় চরম ভোগান্তি Logo চাঁদপুরে মহাসড়ক দখল করে বেপরোয়া অবৈধ বালু ব্যবসা: বিপর্যস্ত জনজীবন Logo হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান এক কাতারে—৫ নং ওয়ার্ডে ৮ দফা ও ফ্যামিলি কার্ড আলোচনা Logo চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo খুবিতে নাগরিক সচেতনতা ও তথ্য যাচাই শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo পলাশবাড়ীতে পিতার দায়েরকৃত মামলায় কুলাঙ্গার সন্তান গ্রেফতার Logo গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুরে অবহিতকরণ সভা Logo শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা  Logo মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

চাঁদপুরে মহাসড়ক দখল করে বেপরোয়া অবৈধ বালু ব্যবসা: বিপর্যস্ত জনজীবন

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক অবৈধ বালুর ব্যবসা। কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে এসব ব্যবসা পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিন দিন এই অবৈধ ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখা বালু থেকে সারাক্ষণ ধুলাবালি উড়ে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা। বালুর কারণে সড়ক পিচ্ছিল ও দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি হাজীগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, টোরাগঞ্জ থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অন্তত ১৫টি অবৈধ বালুর ঘাট। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অথচ সড়কের দুই পাশে প্রকাশ্যে চলছে বালু কেনাবেচা। প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে এসব ব্যবসার জন্য নেওয়া হয়নি কোনো অনুমতিপত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী জানান, সড়কের পাশে বালু রাখলে পরিবহন সহজ হয় এবং ক্রেতারাও সহজে নিতে পারেন। তবে রাস্তা খারাপ থাকায় পরিবহনের সময় কিছু বালু সড়কে পড়ে যায় বলে স্বীকার করেন তারা। যদিও তারা দাবি করেন, যতটুকু সম্ভব রাস্তা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের কোনো অনুমতি না থাকায় তাদের ব্যবসা যে সম্পূর্ণ অবৈধ, সেটিও তারা স্বীকার করেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার মতো চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের সাপদী, বাগাদী, গাছতলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বালুর ব্যবসা। এতে সড়কজুড়ে সারাক্ষণ বালু উড়ে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী বাস চালক ইসহাক খান বলেন,রাস্তায় সারাক্ষণ বালু উড়ে। এতে চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগতে হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এর থেকে দ্রুত নিস্তার চাই।

চাঁদপুর সদর উপজেলার গাছতলা এলাকার বাসিন্দা তারেক হোসেন বলেন, বালুর কারণে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। পুরো জেলাজুড়ে সড়কের পাশে অবৈধ বালুর ব্যবসা গড়ে উঠেছে। প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতাম।

চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, যত্রতত্র বালুর ব্যবসা গড়ে ওঠার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতাও হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতার

চাঁদপুরে মহাসড়ক দখল করে বেপরোয়া অবৈধ বালু ব্যবসা: বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ১২:১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক অবৈধ বালুর ব্যবসা। কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে এসব ব্যবসা পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দিন দিন এই অবৈধ ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে স্তূপ করে রাখা বালু থেকে সারাক্ষণ ধুলাবালি উড়ে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা। বালুর কারণে সড়ক পিচ্ছিল ও দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি হাজীগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, টোরাগঞ্জ থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অন্তত ১৫টি অবৈধ বালুর ঘাট। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অথচ সড়কের দুই পাশে প্রকাশ্যে চলছে বালু কেনাবেচা। প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে এসব ব্যবসার জন্য নেওয়া হয়নি কোনো অনুমতিপত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী জানান, সড়কের পাশে বালু রাখলে পরিবহন সহজ হয় এবং ক্রেতারাও সহজে নিতে পারেন। তবে রাস্তা খারাপ থাকায় পরিবহনের সময় কিছু বালু সড়কে পড়ে যায় বলে স্বীকার করেন তারা। যদিও তারা দাবি করেন, যতটুকু সম্ভব রাস্তা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের কোনো অনুমতি না থাকায় তাদের ব্যবসা যে সম্পূর্ণ অবৈধ, সেটিও তারা স্বীকার করেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলার মতো চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের সাপদী, বাগাদী, গাছতলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বালুর ব্যবসা। এতে সড়কজুড়ে সারাক্ষণ বালু উড়ে স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী বাস চালক ইসহাক খান বলেন,রাস্তায় সারাক্ষণ বালু উড়ে। এতে চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগতে হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এর থেকে দ্রুত নিস্তার চাই।

চাঁদপুর সদর উপজেলার গাছতলা এলাকার বাসিন্দা তারেক হোসেন বলেন, বালুর কারণে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। পুরো জেলাজুড়ে সড়কের পাশে অবৈধ বালুর ব্যবসা গড়ে উঠেছে। প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতাম।

চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, যত্রতত্র বালুর ব্যবসা গড়ে ওঠার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতাও হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।