মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি সেবার দরজায় এখন কাঁদা-পানি, ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:১১:১০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
  • ৭৫৪ বার পড়া হয়েছে

সাকিব আল হাসান,স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ছাদ থেকে বর্ষার পানি গড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে চলে আসছে নিচতলায়।এই পানি গন্তব্য খুঁজে নিচ্ছে সোজা হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট—জরুরি বিভাগে।

বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে নামে সিঁড়ি হয়ে, ছড়িয়ে পড়ে পুরো মেঝে জুড়ে।ফ্লোরজুড়ে কাদা ও পানি মিলে তৈরি হয় একটি পিচ্ছিল ফাঁদ, যেখানে চিকিৎসা নিতে এসে আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন রোগী ও স্বজনেরা।

টাইলস করা মেঝে ভেজা থাকায় পা রাখতেই পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা, যা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বৃদ্ধ, শিশু বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য।

একজন রোগীর কন্যা জানান, “আব্বু স্ট্রোক করে ভর্তি হয়েছেন, অথচ আমি নিজেই পিছলে যাচ্ছি। এই অবস্থায় রোগীকে আগলে রাখবো, না নিজেকে সামলাবো—বোঝা যাচ্ছে না।”

এই দৃশ্য শুধু এক দিনের নয়—প্রতিবার বৃষ্টি হলেই এই একই অবস্থা।ভবনের ছাদে সঠিক ড্রেনেজ না থাকায় বর্ষার পানি চুইয়ে নেমে আসে। সিঁড়ি হয়ে তা গড়িয়ে জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়ে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করতে হয় রোগী ও স্বজনদের।

হাসপাতালের একজন কর্মচারী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা। বললেও ব্যবস্থা হয় না। আমরা শুধু মুছি আর রোগীদের সাবধানে চলতে বলি।”

একেকটি পানির ফোঁটা যেন অব্যবস্থাপনার চিৎকার, কিন্তু শুনছে না কেউ।

জরুরি বিভাগে যেখানে সবচেয়ে সচেতন আর সুরক্ষিত থাকার কথা, সেখানে রোগী আগে পড়ছে পানিতে, পরে পৌঁছাচ্ছে চিকিৎসকের কাছে।এই অবস্থা যে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ তাই নয়—স্বাস্থ্যসেবার মানবিক মূল্যবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কী এমন গাফিলতি রয়েছে, যা বছরের পর বছরেও সমাধান পায় না?আরও গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের এই করুণ চিত্রই ইঙ্গিত দেয়—হাসপাতালের অন্যঅংশগুলোতেও লুকিয়ে আছে আরও কত অনিয়ম, কত অব্যবস্থাপনা!
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রতিটি ইট যেন এখন একেকটি নীরব অভিযোগ।

আর হাসপাতালের অভিভাবকেরা হয়তো চোখ বন্ধ করে বসে আছেন—অথবা দেখেও দেখছেন না।চিকিৎসাসেবার মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।দ্রুতই এসব ভোগান্তির অবসান ঘটুক—এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি সেবার দরজায় এখন কাঁদা-পানি, ঝুঁকিতে রোগী-স্বজন

আপডেট সময় : ০২:১১:১০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫

সাকিব আল হাসান,স্টাফ রিপোর্টার:চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ছাদ থেকে বর্ষার পানি গড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে চলে আসছে নিচতলায়।এই পানি গন্তব্য খুঁজে নিচ্ছে সোজা হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট—জরুরি বিভাগে।

বৃষ্টি হলেই পানি চুইয়ে নামে সিঁড়ি হয়ে, ছড়িয়ে পড়ে পুরো মেঝে জুড়ে।ফ্লোরজুড়ে কাদা ও পানি মিলে তৈরি হয় একটি পিচ্ছিল ফাঁদ, যেখানে চিকিৎসা নিতে এসে আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন রোগী ও স্বজনেরা।

টাইলস করা মেঝে ভেজা থাকায় পা রাখতেই পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা, যা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বৃদ্ধ, শিশু বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য।

একজন রোগীর কন্যা জানান, “আব্বু স্ট্রোক করে ভর্তি হয়েছেন, অথচ আমি নিজেই পিছলে যাচ্ছি। এই অবস্থায় রোগীকে আগলে রাখবো, না নিজেকে সামলাবো—বোঝা যাচ্ছে না।”

এই দৃশ্য শুধু এক দিনের নয়—প্রতিবার বৃষ্টি হলেই এই একই অবস্থা।ভবনের ছাদে সঠিক ড্রেনেজ না থাকায় বর্ষার পানি চুইয়ে নেমে আসে। সিঁড়ি হয়ে তা গড়িয়ে জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়ে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করতে হয় রোগী ও স্বজনদের।

হাসপাতালের একজন কর্মচারী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা। বললেও ব্যবস্থা হয় না। আমরা শুধু মুছি আর রোগীদের সাবধানে চলতে বলি।”

একেকটি পানির ফোঁটা যেন অব্যবস্থাপনার চিৎকার, কিন্তু শুনছে না কেউ।

জরুরি বিভাগে যেখানে সবচেয়ে সচেতন আর সুরক্ষিত থাকার কথা, সেখানে রোগী আগে পড়ছে পানিতে, পরে পৌঁছাচ্ছে চিকিৎসকের কাছে।এই অবস্থা যে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ তাই নয়—স্বাস্থ্যসেবার মানবিক মূল্যবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কী এমন গাফিলতি রয়েছে, যা বছরের পর বছরেও সমাধান পায় না?আরও গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের এই করুণ চিত্রই ইঙ্গিত দেয়—হাসপাতালের অন্যঅংশগুলোতেও লুকিয়ে আছে আরও কত অনিয়ম, কত অব্যবস্থাপনা!
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রতিটি ইট যেন এখন একেকটি নীরব অভিযোগ।

আর হাসপাতালের অভিভাবকেরা হয়তো চোখ বন্ধ করে বসে আছেন—অথবা দেখেও দেখছেন না।চিকিৎসাসেবার মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।দ্রুতই এসব ভোগান্তির অবসান ঘটুক—এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।