বুধবার | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কচুয়ার কাদলা-দরবেশগঞ্জ সমাজকল্যাণ খেলা ঘরের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ Logo সাতক্ষীরার ৪টি আসনে ২০ চূড়ান্ত প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ Logo খুবিতে ফ্যাক্টচেকিং এন্ড ডিজিটাল ভেরিফিকেশন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo প্রতীক পেলেন চাঁদপুরের পাঁচ আসনের ৩৫ প্রার্থী, জমে উঠছে নির্বাচনী মাঠ Logo সংসদ নির্বাচন: ৩০৫ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, লড়াইয়ে ১,৯৬৭ প্রার্থী Logo নোবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ও নোকসু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন Logo অর্ধশত মিউজিক ভিডিওতে মডেল হলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রানা বাপ্পী Logo বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের আনকাট ছাড়পত্র পেল ‘অফিসার’ Logo নির্বাচনী নিরাপত্তায় কয়রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সচেতনতামূলক ফুট পেট্রোলিং Logo ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থমকে গেছে খুবি ছাত্রের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন, চিকিৎসায় সহায়তা চায় পরিবার

‘আয়নাঘরের’ প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে: গুম তদন্ত কমিশন

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৫৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৫
  • ৮২০ বার পড়া হয়েছে

৫ আগস্টের পর গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা লুকাতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলের (জেআইসি) প্রমাণাদি নষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন।

গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অংশ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রকাশ করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৫ আগস্টের পর ডিজিএফআই সদর দপ্তরে ইন্টারোগেশন সেলের আংশিক পরিবর্তন করা হয়েছে, দেয়ালে রং করা হয়েছে, যেখানে বন্দিরা অনেক কিছু লিখেছিলেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিছু প্রমাণ আমাদের পরিদর্শনের আগের দিনই নষ্ট করা হয়। পরিদর্শনের কথা জানানোর পরও আমরা পরিদর্শনের সময় দেয়ালে কাঁচা রং দেখতে পেয়েছি। ভেজা রং এবং অসম্পূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন স্পষ্টই তাড়াহুড়ো করে অপরাধ গোপনের চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।’

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল ‘আয়নাঘর’ হিসেবেই এখন পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ সেপ্টেম্বর গুম তদন্ত কমিশন গঠন করে। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন ডিজিএফআই কার্যালয়ের ভেতরে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন করে। তখন মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন। পরে ১৭ অক্টোবর তাকে বদলি করা হয়।

গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘তৎকালীন ডিজি শক্ত যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি তার মেয়াদের আগে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। প্রমাণ নষ্টের ক্ষেত্রে তার এমন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দায়মুক্তির সংস্কৃতির জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার প্রকাশ। আগেকার অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য তার এমন উদ্যোগ ছিল ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং পেশাগত সততার বিরুদ্ধে।’গুম কমিশন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় এটা স্পষ্ট যে, তাদের বেশিরভাগই নিজেদের অপরাধের জন্য কখনো জবাবদিহি করবেন বলে আশা করেননি। তারা অবশ্য অপরাধকে অপরাধ হিসেবেও দেখেননি।’

নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উদাহরণ হিসেবে সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্তদের গুম করা তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে কমিশনের মনোযোগ আকর্ষণের বিষয় নয় বলে উপেক্ষা করা হয়। একইভাবে হেফাজতে নির্যাতনকে অপরাধ দমনে অপরিহার্য ভেবে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে। প্রমাণ নষ্ট করার এবং অসহযোগিতার এমন ধরন শুধু ডিজিএফআই নয়, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো গত ১৫ বছর ব্যবহার করেছে। এটি শুধু গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন এবং নিজেদের অপরাধ লুকাতে চেয়েছিলেন তারাই নন, পরবর্তীতে যারা বিভিন্ন শীর্ষপদে বসেছেন তারাও করেছেন।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ার কাদলা-দরবেশগঞ্জ সমাজকল্যাণ খেলা ঘরের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‘আয়নাঘরের’ প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে: গুম তদন্ত কমিশন

আপডেট সময় : ০১:১৬:৫৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৫

৫ আগস্টের পর গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা লুকাতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলের (জেআইসি) প্রমাণাদি নষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন।

গতকাল সোমবার (২০ জানুয়ারি) গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অংশ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রকাশ করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৫ আগস্টের পর ডিজিএফআই সদর দপ্তরে ইন্টারোগেশন সেলের আংশিক পরিবর্তন করা হয়েছে, দেয়ালে রং করা হয়েছে, যেখানে বন্দিরা অনেক কিছু লিখেছিলেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিছু প্রমাণ আমাদের পরিদর্শনের আগের দিনই নষ্ট করা হয়। পরিদর্শনের কথা জানানোর পরও আমরা পরিদর্শনের সময় দেয়ালে কাঁচা রং দেখতে পেয়েছি। ভেজা রং এবং অসম্পূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন স্পষ্টই তাড়াহুড়ো করে অপরাধ গোপনের চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।’

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল ‘আয়নাঘর’ হিসেবেই এখন পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ সেপ্টেম্বর গুম তদন্ত কমিশন গঠন করে। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশন ডিজিএফআই কার্যালয়ের ভেতরে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন করে। তখন মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন। পরে ১৭ অক্টোবর তাকে বদলি করা হয়।

গুম তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘তৎকালীন ডিজি শক্ত যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি তার মেয়াদের আগে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। প্রমাণ নষ্টের ক্ষেত্রে তার এমন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দায়মুক্তির সংস্কৃতির জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার প্রকাশ। আগেকার অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য তার এমন উদ্যোগ ছিল ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং পেশাগত সততার বিরুদ্ধে।’গুম কমিশন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় এটা স্পষ্ট যে, তাদের বেশিরভাগই নিজেদের অপরাধের জন্য কখনো জবাবদিহি করবেন বলে আশা করেননি। তারা অবশ্য অপরাধকে অপরাধ হিসেবেও দেখেননি।’

নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উদাহরণ হিসেবে সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্তদের গুম করা তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে কমিশনের মনোযোগ আকর্ষণের বিষয় নয় বলে উপেক্ষা করা হয়। একইভাবে হেফাজতে নির্যাতনকে অপরাধ দমনে অপরিহার্য ভেবে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে। প্রমাণ নষ্ট করার এবং অসহযোগিতার এমন ধরন শুধু ডিজিএফআই নয়, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো গত ১৫ বছর ব্যবহার করেছে। এটি শুধু গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন এবং নিজেদের অপরাধ লুকাতে চেয়েছিলেন তারাই নন, পরবর্তীতে যারা বিভিন্ন শীর্ষপদে বসেছেন তারাও করেছেন।’