মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

এবার মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ! গবেষকদের যুগান্তকারী আবিষ্কার

  • নীলকন্ঠ অনলাইন নীলকন্ঠ অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • ৮৩৪ বার পড়া হয়েছে

ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমাতে মানুষকে নয় বরং মশাকেই ম্যালেরিয়ার ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি বের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গবেষক। খবর- বিবিসি

প্রতি বছর অন্তত ছয় লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যায়, যারা মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। নারী মশা মানুষের রক্ত পান করার সময় ছড়ায় এই রোগটি। বর্তমানে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমানোর জন্য কীটনাশক দিয়ে মশা নিধন ছাড়া আর তেমন কোনো উপায় নেই। অনেক বছর ধরে কীটনাশক ব্যবহার করছে মানুষ, এর ফলে অনেক দেশের মশার ওপর কীটনাশক আর কাজ করে না।

কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেখেন, ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার ওপর একজোড়া ওষুধ প্রয়োগ করতে পারলে মশাগুলোর শরীর থেকে ম্যালেরিয়া চলে যায়, ফলে ওই মশারা মানুষকে কামড়ালেও আর ম্যালেরিয়া ছড়ায় না। মশার শরীরে থাকা ম্যালেরিয়ার পরজীবীগুলো মেরে ফেলতে ওষুধ দুটি শতভাগ কার্যকর।

ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী Anopheles প্রজাতির মশার মাধ্যমে, যারা মানুষের রক্ত পান করে। এতদিন পর্যন্ত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মূলত কীটনাশক ব্যবহার এবং মশা নিধনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেক দেশে মশার মধ্যে কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো কার্যকর নয় এসব পদ্ধতি।

হার্ভার্ড গবেষকরা দেখেছেন, ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার শরীরে দুটি নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করলে, তাদের দেহে থাকা ম্যালেরিয়ার পরজীবী (Plasmodium) পুরোপুরি ধ্বংস হয়। ফলে মশাগুলো জীবিত থাকলেও তারা আর ম্যালেরিয়া ছড়াতে পারে না।

কীভাবে মশাকে ওষুধ দেওয়া হবে?
গবেষকরা বলছেন, ‘মানুষ যেহেতু মশারি ব্যবহার করে, তাই মশারিকেই বানানো হচ্ছে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যম।’
মশারিতে ওই ওষুধ দুটি মাখিয়ে দেওয়া হবে। যখন মশা মশারিতে এসে বসবে, তখন তার পায়ের মাধ্যমে ওষুধ ঢুকে যাবে শরীরে।
বলা হচ্ছে, মশাটি যদি তাতে মারা না-ও যায়, তবু তার দেহ থেকে ম্যালেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যাবে।

এই পদ্ধতিতে ম্যালেরিয়া ঠেকানোর একটি উপকারিতা হলো, একবার ওষুধ প্রয়োগের পর ওই মশারিটি ব্যবহার করা যাবে এক বছর পর্যন্ত। ফলে এই পদ্ধতিটি বেশ সহজলভ্য ও সস্তা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গবেষণাগারে এই পদ্ধতিটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এর পরের ধাপ হিসেবে ইথিওপিয়ায় এই ম্যালেরিয়ারোধী মশারি ব্যবহার করে দেখা হবে নিয়মিত ব্যবহারে তার কার্যকারিতা কেমন। সব মিলিয়ে এ ধরনের মশারি সাধারণ মানুষের হাতে আসতে পারে আরও ছয় বছর পর।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

এবার মশার শরীরে ম্যালেরিয়ার ওষুধ! গবেষকদের যুগান্তকারী আবিষ্কার

আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমাতে মানুষকে নয় বরং মশাকেই ম্যালেরিয়ার ওষুধ দেওয়ার পদ্ধতি বের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গবেষক। খবর- বিবিসি

প্রতি বছর অন্তত ছয় লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যায়, যারা মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। নারী মশা মানুষের রক্ত পান করার সময় ছড়ায় এই রোগটি। বর্তমানে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমানোর জন্য কীটনাশক দিয়ে মশা নিধন ছাড়া আর তেমন কোনো উপায় নেই। অনেক বছর ধরে কীটনাশক ব্যবহার করছে মানুষ, এর ফলে অনেক দেশের মশার ওপর কীটনাশক আর কাজ করে না।

কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দেখেন, ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার ওপর একজোড়া ওষুধ প্রয়োগ করতে পারলে মশাগুলোর শরীর থেকে ম্যালেরিয়া চলে যায়, ফলে ওই মশারা মানুষকে কামড়ালেও আর ম্যালেরিয়া ছড়ায় না। মশার শরীরে থাকা ম্যালেরিয়ার পরজীবীগুলো মেরে ফেলতে ওষুধ দুটি শতভাগ কার্যকর।

ম্যালেরিয়া ছড়ায় স্ত্রী Anopheles প্রজাতির মশার মাধ্যমে, যারা মানুষের রক্ত পান করে। এতদিন পর্যন্ত ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মূলত কীটনাশক ব্যবহার এবং মশা নিধনকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অনেক দেশে মশার মধ্যে কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো কার্যকর নয় এসব পদ্ধতি।

হার্ভার্ড গবেষকরা দেখেছেন, ম্যালেরিয়া ছড়ানো মশার শরীরে দুটি নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করলে, তাদের দেহে থাকা ম্যালেরিয়ার পরজীবী (Plasmodium) পুরোপুরি ধ্বংস হয়। ফলে মশাগুলো জীবিত থাকলেও তারা আর ম্যালেরিয়া ছড়াতে পারে না।

কীভাবে মশাকে ওষুধ দেওয়া হবে?
গবেষকরা বলছেন, ‘মানুষ যেহেতু মশারি ব্যবহার করে, তাই মশারিকেই বানানো হচ্ছে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যম।’
মশারিতে ওই ওষুধ দুটি মাখিয়ে দেওয়া হবে। যখন মশা মশারিতে এসে বসবে, তখন তার পায়ের মাধ্যমে ওষুধ ঢুকে যাবে শরীরে।
বলা হচ্ছে, মশাটি যদি তাতে মারা না-ও যায়, তবু তার দেহ থেকে ম্যালেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যাবে।

এই পদ্ধতিতে ম্যালেরিয়া ঠেকানোর একটি উপকারিতা হলো, একবার ওষুধ প্রয়োগের পর ওই মশারিটি ব্যবহার করা যাবে এক বছর পর্যন্ত। ফলে এই পদ্ধতিটি বেশ সহজলভ্য ও সস্তা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গবেষণাগারে এই পদ্ধতিটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। এর পরের ধাপ হিসেবে ইথিওপিয়ায় এই ম্যালেরিয়ারোধী মশারি ব্যবহার করে দেখা হবে নিয়মিত ব্যবহারে তার কার্যকারিতা কেমন। সব মিলিয়ে এ ধরনের মশারি সাধারণ মানুষের হাতে আসতে পারে আরও ছয় বছর পর।