শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) স্থগিতের প্রতিবাদে এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (নোকসু) আয়োজনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্লোগানগুলো হলো— “হারার ভয়ে খেলেনা, এই কথা তো বলেনা”, “তোমার আমার অধিকার- নকসু নকসু”, “নকসু নিয়ে টালবাহানা— চলবে না, চলবে না”, “নকসু আমার অধিকার- দিতে হবে, দিয়ে দাও”, “ হি হ্যাস এ প্লান – শাকসু করেছে ব্যান”।
নোবিপ্রবি শাখা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল রহমান বলেন— “আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। সেই অধিকার অনুযায়ী ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাষ্ট্রীয় মহলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ শাকসু নির্বাচন বর্জন করছে। এর প্রতিবাদেই আমরা আজ এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি।
কিছুদিন আগে আমরা নোবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন সে বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। প্রশাসন বারবার বলছে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—ছাত্র রাজনীতি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরি হবে না।
আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদের আমলে যারা এমপি হয়েছিল, তাদের অনেকেই আজও ছাত্র না হয়ে ব্যবসায়ী। তারা ছাত্রদের অধিকার বোঝে না। তাই আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি—দ্রুত নোবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে শিবির সভাপতি আরিফুল ইসলাম সৈকত বলেন— “দীর্ঘ ১৬ বছরের জুলুমের রাজত্বে যখন ছাত্রলীগ তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালু রেখেছে এবং অন্যান্য সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল, ঠিক তখনই এদেশের ছাত্র সমাজ ২৪ সালের জুলাই আন্দোলন সম্পন্ন করে। সেই অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবী ছিল লেজুর ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা।
কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তীতে যে সরকার দায়িত্বে আসে তারা ছাত্র সংসদ নিয়ে নানান টালবাহানা করে। সমস্ত কার্যক্রম শেষ করার পরও একটি দলের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে দলকে নির্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের নেতা নাকি লন্ডন থেকে এসে বলেছিলেন আই হ্যাভে প্লান। কিন্তু উনি জানতেন না আমাদের ডিসিশন অলরেডি নেয়া হয়ে গেছে। ছাত্র সংসদ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক একটা প্ল্যাটফর্ম উপহার দেবো।’
“এর ধারাবাহিকতায় যখন আমরা গত নভেম্বরের ৩০ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৩ দফা দাবির একটি স্মারকলিপি অফিসিয়ালি দিলেও তারা আমাদের কোনো অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম করে দেয়নি, এবং অফিসিয়াল কোনো জবাবও দেয়নি।” এ দাবি আদায়ে তারা অনড় থাকবেন বলেও তিনি জানান।

























































