ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থমকে গেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথচলা। শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান। ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভার বহন করতে না পেরে তার পরিবার এখন মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুজাহিদের মুখের তালুতে একটি টিউমার ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বায়োপসি রিপোর্টে সেটি ক্যান্সার হিসেবে নিশ্চিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তার সার্জারি সম্পন্ন হয়। ক্যান্সার যেন শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য রাজধানীর ডেল্টা হসপিটালে তাকে দীর্ঘমেয়াদি রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। তিনি মোট ৩৫টি রেডিয়েশন ডোজ গ্রহণ করেন, যা শেষ হয় ১১ মে ২০২৫-এ।
তবে সার্জারি ও রেডিওথেরাপির পর গত নভেম্বর ২০২৫-এ তার মুখের তালুতে একটি বড় ক্ষত বা ছিদ্র তৈরি হয়। এর ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ কিংবা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ক্ষত পূরণে তার দ্রুত একটি জটিল ও ব্যয়বহুল সার্জারি প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুজাহিদের চিকিৎসার জন্য মোট আনুমানিক ৭ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা হিসেবে সংগ্রহ হয়েছে মোট প্রয়োজনীয় অর্থের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখনো বাকি রয়েছে আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় পুরো অর্থ সংগ্রহ না হওয়ায় এখনো ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা বিলম্বিত হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
সহপাঠীরা জানান, মুজাহিদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে তিনি নিয়মিত চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ এই কঠিন রোগ তার সব স্বপ্ন ও পরিকল্পনাকে থামিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় মুজাহিদকে বাঁচাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের প্রতি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা। মুজাহিদ ও তার পরিবার এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়।




















































