লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে তাদের শান্তিরক্ষীদের কাছাকাছি ইসরাইলি একটি অবস্থান থেকে দুই দফায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউনিফিল বারবার তাদের সদস্যদের লক্ষ্য করে বা তাদের আশপাশে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের কথা জানিয়েছে।
এমনকি গত সপ্তাহেও ইউনিফিল জানায়, তাদের একটি অবস্থানের কাছে ইসরাইলি হামলায় এক শান্তিরক্ষী সামান্য আহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউনিফিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে টহলরত শান্তিরক্ষীরা জানিয়েছেন যে হালকা অস্ত্র থেকে ছোড়া অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি তাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ মিটার দূরে আঘাত হানে।
এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় টহলরত আরেকটি শান্তিরক্ষা দল জানায়, ‘প্রায় ১০০ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার দূরে আঘাত হানে।’
তবে ওই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উভয় ক্ষেত্রেই শান্তিরক্ষীরা মূল্যায়ন করেছেন যে গুলিবর্ষণটি ব্লু লাইন-এর দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর একটি অবস্থান থেকে এসেছে। ব্লু লাইন বলতে কার্যত লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার সীমান্তকে বোঝানো হয়। এ ঘটনার পর, ইউনিফিল তাদের সমন্বয় চ্যানেলের মাধ্যমে ‘গুলি বন্ধের অনুরোধ’ জানায়।
ইউনিফিল আরও জানায়, শান্তিরক্ষীদের টহল কার্যক্রম সম্পর্কে আগেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটছে এবং এটি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা ব্লু লাইন বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের ওপর বা তাদের আশপাশে আগ্রাসী আচরণ ও হামলা বন্ধ করতে আইডিএফের প্রতি আমাদের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছি।’
দশকের পর দশক ধরে ইউনিফিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি বাফার বাহিনী হিসেবে কাজ করে আসছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করার কথা ছিল।
তবে ইসরায়েল পাঁচটি এলাকাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে সেখানে সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং নিয়মিত লেবাননে হামলা চালাচ্ছে।
এ সব হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত বলা হয়, হিজবুল্লাহর ঘাঁটি ও সদস্যদের লক্ষ্য করেই আঘাত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপ ও ইসরায়েলি হামলা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মুখে লেবানন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছে, যার সূচনা হবে সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চল থেকে।
এদিকে, গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২০২৭ সালের মধ্যে লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়।


































