মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

ফিরে দেখা ২৯ জুলাই; কারফিউ ভেঙে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা

কারফিউ, ট্যাংক মোতায়েন, সশস্ত্র বাহিনী এবং গুম আতঙ্ক সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই সেই ভয়াবহ আবহেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয় এক সাহসী প্রতিবাদ। নিখোঁজ আন্দোলনকারী, দমনমূলক হুমকি সবকিছুকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা গর্জে ওঠে মূল ফটকের সামনে। দিনটি এখন শুধুই একটি তারিখ নয়, বরং সাহসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আগের দিন রাতে চলমান ছাত্রআন্দোলনের ছয়জন শীর্ষ সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। সেখানে তাদের ওপর কর্মসূচি প্রত্যাহারের চাপ প্রয়োগ করা হয়। একই রাতে নিখোঁজ হন আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক আরিফ সোহেল ও নুসরাত তাবাসসুম। এ ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, গুজব, আর আন্দোলন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা।

সেই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার জানান, ‘আমরা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিই, এই ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। ঠিক করি, আগে থেকেই মূল ফটকের সামনে অবস্থান করবো। তাই রেডিও বেতার মাঠের পাশে গাছের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে থাকি। উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষকরা এলে আমরা তাদের সঙ্গে সামনে যাব।’

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির আগেই সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মূল ফটকে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব, অধ্যাপক ইফতেখার মাসুদ এবং অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম। শিক্ষকদের উপস্থিতির অপেক্ষায় থাকা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তখন সাহস সঞ্চয় করে মাজার এলাকা পেরিয়ে গিয়ে ফটকের সামনে এসে দাঁড়ান।

সেখানে এসে পুলিশ জানায় ‘স্লোগান দেওয়া যাবে না, প্রোগ্রাম করতে দিচ্ছি, এটাই অনেক।’ তবে শিক্ষকরা পুলিশের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানান কর্মসূচি চলবেই। এরপর শুরু হয় স্লোগান। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী সম্মিলিত কণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন ‘নির্লজ্জ ভিসি পদত্যাগ করতে হবে’, ‘তুমি কে, আমি কে সমন্বয়ক, সমন্বয়ক’।

হঠাৎই তৈরি হয় একটি ইংরেজি স্লোগান, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এমন কিছু বলতে চেয়েছিলাম যেটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যাবে। হঠাৎ মাথায় আসে আমি বলি ‘শেইম শেইম’, সবাই জবাব দেয় ‘ডিক্টেটর’। এটা একেবারেই তাৎক্ষণিক ছিল, কিন্তু পরে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় প্রতিরোধের প্রতীক।’

সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ঘিরে ছিল পুলিশের কড়া অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং ট্যাংক মোতায়েন। সবকিছুর মাঝেই শিক্ষার্থীদের মিছিল এগিয়ে যায় বিনোদপুর মোড় পর্যন্ত, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় সেই দিনের কর্মসূচি।

আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদি সজিব বলেন, কেন্দ্রীয় ৬ জন সমন্বয়কে ডিবি ভবনে ধরে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। আমরা পরে এটা প্রত্যাখান করি। সর্ব প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২৯ জুলাই কারফিইউ ভঙ্গ করে আন্দোলন করি।

যারা সেদিন মেইগেটের সামনে ছিল তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। স্যাররা সহ আমরা সবাই বারবার অনুরোধ করি যাতে গুলি না করে। তখন আমরা সেম সেম ডিকটেটর স্লেগান দিতে শুরু করি পরে এটি দেশব্যাপি ছড়িয়ে পরে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

ফিরে দেখা ২৯ জুলাই; কারফিউ ভেঙে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৭:১৯:০২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

কারফিউ, ট্যাংক মোতায়েন, সশস্ত্র বাহিনী এবং গুম আতঙ্ক সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই সেই ভয়াবহ আবহেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয় এক সাহসী প্রতিবাদ। নিখোঁজ আন্দোলনকারী, দমনমূলক হুমকি সবকিছুকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা গর্জে ওঠে মূল ফটকের সামনে। দিনটি এখন শুধুই একটি তারিখ নয়, বরং সাহসিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আগের দিন রাতে চলমান ছাত্রআন্দোলনের ছয়জন শীর্ষ সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। সেখানে তাদের ওপর কর্মসূচি প্রত্যাহারের চাপ প্রয়োগ করা হয়। একই রাতে নিখোঁজ হন আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক আরিফ সোহেল ও নুসরাত তাবাসসুম। এ ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, গুজব, আর আন্দোলন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা।

সেই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার জানান, ‘আমরা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিই, এই ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। ঠিক করি, আগে থেকেই মূল ফটকের সামনে অবস্থান করবো। তাই রেডিও বেতার মাঠের পাশে গাছের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে থাকি। উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষকরা এলে আমরা তাদের সঙ্গে সামনে যাব।’

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির আগেই সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মূল ফটকে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব, অধ্যাপক ইফতেখার মাসুদ এবং অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম। শিক্ষকদের উপস্থিতির অপেক্ষায় থাকা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তখন সাহস সঞ্চয় করে মাজার এলাকা পেরিয়ে গিয়ে ফটকের সামনে এসে দাঁড়ান।

সেখানে এসে পুলিশ জানায় ‘স্লোগান দেওয়া যাবে না, প্রোগ্রাম করতে দিচ্ছি, এটাই অনেক।’ তবে শিক্ষকরা পুলিশের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানান কর্মসূচি চলবেই। এরপর শুরু হয় স্লোগান। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী সম্মিলিত কণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন ‘নির্লজ্জ ভিসি পদত্যাগ করতে হবে’, ‘তুমি কে, আমি কে সমন্বয়ক, সমন্বয়ক’।

হঠাৎই তৈরি হয় একটি ইংরেজি স্লোগান, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এমন কিছু বলতে চেয়েছিলাম যেটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যাবে। হঠাৎ মাথায় আসে আমি বলি ‘শেইম শেইম’, সবাই জবাব দেয় ‘ডিক্টেটর’। এটা একেবারেই তাৎক্ষণিক ছিল, কিন্তু পরে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় প্রতিরোধের প্রতীক।’

সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ঘিরে ছিল পুলিশের কড়া অবস্থান, সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং ট্যাংক মোতায়েন। সবকিছুর মাঝেই শিক্ষার্থীদের মিছিল এগিয়ে যায় বিনোদপুর মোড় পর্যন্ত, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় সেই দিনের কর্মসূচি।

আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদি সজিব বলেন, কেন্দ্রীয় ৬ জন সমন্বয়কে ডিবি ভবনে ধরে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। আমরা পরে এটা প্রত্যাখান করি। সর্ব প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ২৯ জুলাই কারফিইউ ভঙ্গ করে আন্দোলন করি।

যারা সেদিন মেইগেটের সামনে ছিল তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। স্যাররা সহ আমরা সবাই বারবার অনুরোধ করি যাতে গুলি না করে। তখন আমরা সেম সেম ডিকটেটর স্লেগান দিতে শুরু করি পরে এটি দেশব্যাপি ছড়িয়ে পরে।