কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ১০৩/৭৭ আল-তৌফিকী সড়ক, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কটি প্রায় ৯৪০ মিটার দীর্ঘ এবং চন্দ্রের পুল থেকে লেখক তৌফিক সুলতান সাহেবের বাসভবন পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্ষাকালে কাদা ও বৃষ্টির কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধূলা ও ময়লা জনস্বাস্থ্য ও দৃষ্টিসীমায় সমস্যা সৃষ্টি করে। বর্তমানে স্থানীয় জনগণকে চলাচলের জন্য বারিষাব বা চালা বাজার দিয়ে দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয়, যা সময়, শ্রম ও অর্থের অপচয় ঘটায়।
রাস্তাটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সরাসরি বারিষাব ইউনিয়ন পরিষদকে সিঙ্গুয়া ভূমি অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এছাড়া এটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে, যার ফলে স্থানীয় মানুষ মনোহরদী, কাপাসিয়া, ঘাগটিয়া চালা বাজার, গিয়াসপুর, আমরাইদ এবং বারিষাব বাজারে সরাসরি ও নিরাপদ যাতায়াত করতে পারবে। বর্তমানে রাস্তাটি ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় মানুষকে দীর্ঘপথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।রাস্তাটির পাশেই অবস্থিত নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, যা প্রায় ৮,০০০+ নাগরিকের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ; আশেপাশে অবস্থিত নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিঙ্গুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুয়া বাইতুল কোরআন ওয়াচ্ছুন্নাহ মাদরাসা,ঘাগটিয়া চালা মডেল হাই স্কুল, ঘাগটিয়া চালা উচ্চ বিদ্যালয়, ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা),গাওরার আলা উদ্দিন শাহী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা,চেংনা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা,চৌকারচালা দাখিল মাদ্রাসা, আলহাজ রেজাউল হক মহিলা কলেজ এবং শহীদ গিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়—এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩,৫০০+ শিক্ষার্থী নিরাপদ ও সময়মতো যাতায়াত করতে পারবে।
সড়ক উন্নয়নের ফলে স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতিও প্রসারিত হবে। ঘাগটিয়া চালা বাজার, গিয়াসপুর বাজার, সিঙ্গুয়া বাজার ও বারিষাব বাজারে ২০০+ কৃষক সরাসরি তাদের পণ্য বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন। স্থানীয় পোস্ট অফিসের কার্যক্রমও পুনরুজ্জীবিত হবে, যা সারাদেশে ডাক সেবা প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভৌগোলিকভাবে, এই সড়কটি পশ্চিমে গিয়াসপুর, দুলালপুর, বরির চালা, ভেরার চালা, তুরুল, চৌকার চালা ও চেংনা, দক্ষিণে বাটনা ও ঘাগটিয়া চালা, উত্তরে পিংগুলি, কিত্তোনিয়া, ছেলদিয়া ও ভিকার টেক এবং পূর্বে সিঙ্গুয়া ও বারিষাব এলাকা অতিক্রম করছে। ফলে প্রায় ১৮,০০০ জনের জীবনযাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে।
নির্মাণ প্রস্তাবনা:
রাস্তাটি দৈর্ঘ্য ৯৪০ মিটার, প্রস্থ ১৫ ফুট এবং পৃষ্ঠ RCC/ব্লক পেভমেন্ট হবে। আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ৩৮–৪২ লক্ষ টাকা এবং নির্মাণকাল প্রায় ৬০–৭৫ কার্যদিবস। অর্থায়নের উৎস হিসেবে উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), সংসদ সদস্যের উন্নয়ন তহবিল এবং স্থানীয় অবদান (শ্রম ও উপকরণ) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, স্থানীয় জনগণ আশা করছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে রাস্তাটিকে পাকা ও আধুনিকায়িত করবেন। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন (১৬১২৬), জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (বিসিএস ব্যাচ: ২৭) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না তাসনীম এর নিকট বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে ই-মেইল করা হয়েছে। আশা করা যায়, এ উদ্যোগের ফলে সড়কটির পাকাকরণ শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ল্যাম্পপোস্টের প্রয়োজনীয় স্থান:
মধ্যবর্তী পয়েন্ট – 24°10’27.4″N 90°39’25.0″E
নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এবং মোড়ল বাড়ি মোর সংলগ্ন অন্ধকার দূর করবে।
পূর্বাংশ – 24°10’29.9″N 90°39’36.1″E
মোড়ল বাড়ি মোর ও সিঙ্গুয়া সংযোগ এলাকা আলোকিত করবে।
পশ্চিমাংশ – 24°10’25.7″N 90°39’53.5″E (চন্দ্রের পুল সংলগ্ন)
এই অঞ্চলের প্রধান সংযোগ এলাকা এবং স্কুল-কলেজের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
মধ্যবর্তী/উত্তর-পশ্চিম – 24°10’28.0″N 90°39’30.0″E
রাস্তার মাঝখানে ছায়াপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ অংশ আলোকিত হবে, যাতে পুরো সড়ক সমানভাবে নিরাপদ হয়।
প্রভাব ও সুবিধা:

সড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অংশ আলোকিত হবে।
পথচারী, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগী এবং বাজার যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত।
রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি কমে যাবে।
স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা ও জরুরি সেবার প্রবেশাধিকার উন্নত হবে।
























































