খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে আরেকটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেটা থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় (প্রশাসন শাখা) থেকে গতকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) এসংক্রান্ত দুটি পৃথক অফিস আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৩৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ও শিক্ষা ডিসিপ্লিনের দুই শিক্ষার্থীর করা যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটি গত ২৬ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে অভিযোগগুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নম্বর ১৬ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলা ডিসিপ্লিনসহ অন্যান্য ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ এবং সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়।
অন্যদিকে, বাংলা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নম্বর ১৫ অনুযায়ী তাকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে বাংলা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পাইনি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আমার আর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা নেই।’
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের প্রধান তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘তদন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। দুটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তাই ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমি মনে করি।






















































