দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট ও প্রয়োজনীয় নথি দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনে দুইজন, চট্টগ্রাম- ৯ আসনে চারজন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে- পাঁচজন ও চট্টগ্রাম- ১৩ আসনে দুইজন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে দুইজন এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে একজনসহ মোট ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
আজ রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফজলুল হক তার হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি জমা দেননি। তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন, গত ২৮ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন- তবে যাচাই-বাছাইয়ে ওই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ডা. ফজলুল হক স্বীকার করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে সোমবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যাচাইয়ের সময় পর্যন্ত তার দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় নির্বাচন আইন অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
এই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আবদুল মোমেন চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয় প্রার্থী হলফনামায় স্বাক্ষর করেননি এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন শর্মার প্রার্থীতা বাতিল করা হয় দ্বৈবচয়নে যাচাইকৃত দশজন ভোটারের কারো সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায়। নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছারের হলফ নামায় শিক্ষা সনদের সঙ্গে মিল না পাওয়া, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ খেলাপী ও সিটি কর্পোরেশন থেকে বিল খেলাপীর কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম- ১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি নেতা আলী আব্বাস ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, আলী আব্বাস নিজেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয়ভাবে তার কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি তিনি নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় তা বিধিসম্মত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটি পাওয়ায় সিপিবির প্রার্থী মো. সেহাব উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. সেহাব উদ্দিনের দলীয় মনোনয়নের নমুনা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী ও মো. ওমর ইউসুফ খানের প্রার্থীতা বাতিল করা হয় ১ শতাংশ ভোটারের সঠিকতা না পাওয়ায়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয় ফরম ২১ যথাযথভাবে পূরণ না করায়।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ওসমান গণির মনোনয়ন বাতিল করা হয় ভুল কোডে জামানতের টাকা জমা দেওয়ায়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আলী ওসমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয় হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও মো নুরুল আনোয়ারের জমা করা ১ শতাংশ ভোটারের দ্বৈবচয়নে যাচাইকৃত দশজন ভোটারের কারো সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হকের মূল হলফনামায় ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা চাইলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তারা।


















































