সোমবার | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল  Logo ঝালকাঠিতে ৬লিটার চোলাই মদ সহ নাসির ডিবির হাতে আটক  Logo পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় আহত ৪, অবরুদ্ধ ৯ পরিবার Logo ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo রাবির ‘এ’ ইউনিটের প্রথম শিফটে প্রথম অনন্ত, দ্বিতীয় শিফটে সিয়াম Logo চাঁদপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড এবং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন Logo বীরগঞ্জের বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ! Logo হাবিবুর রহমান ইসলামী যুব আন্দোলন চাঁদপুর জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত Logo খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবির গাড়ি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ Logo ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি উপ-উপাচার্যের

প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়ার আগে–পরে কী ঘটেছিল, জানালেন অধ্যাপক ইউনূস

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫
  • ৭৫৪ বার পড়া হয়েছে
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্যারিসের এক হাসপাতালে থাকাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তখনকার সময় তার ভাবনা, ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ এবং পুরো ঘটনার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন অধ্যাপক ইউনূস। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর বৈদেশিকবিষয়ক প্রধান ভাষ্যকার গিডেয়েন রাখমানের উপস্থাপনায় ‘রাখমান রিভিউ’ নামের একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সেই কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

যেখানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি তখন প্যারিসের একটি হাসপাতালে ছিলাম, ছোট একটি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন ছিলাম। তখনই প্রথম ফোনকল পাই। যদিও আমি প্রতিদিন মুঠোফোনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু এমন কিছু আশা করিনি। ছাত্রনেতারা আমাকে বলল, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) চলে গেছেন। এখন আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। দয়া করে, আপনি আমাদের জন্য সরকার গঠন করুন।’ আমি বললাম, ‘না, আমি সেই ব্যক্তি নই। আমি এসব কিছু জানি না এবং এর সঙ্গে যুক্ত হতেও চাই না।’”

কারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, ‘ছাত্রনেতারা। আমি তাদের কাউকেই চিনতাম না, কখনো তাদের সম্পর্কে শুনিনি। তাই আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যেন তারা বিকল্প কাউকে খোঁজে। আমি বলেছিলাম, ‘বাংলাদেশে অনেক ভালো নেতা আছেন, তাদের খুঁজে নাও।’ কিন্তু তারা বলল, ‘না, না, না, আপনাকেই থাকতে হবে। আমরা কাউকে পাইনি।’ আমি তাদের বললাম, ‘আরও চেষ্টা করো, অন্তত একদিন সময় নাও। যদি কাউকে না পাও, তাহলে ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে আবার ফোন করো।’”

পরদিন ছাত্রনেতারা আবার ফোন করে জানায়, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কাউকে পাইনি। আপনাকেই আসতে হবে।” শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূস রাজি হন। তিনি বলেন, “তোমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করছ, অনেক রক্ত ঝরেছে। তোমরা যদি এতদূর আসতে পারো, তাহলে আমারও কিছু করা উচিত। এই মুহূর্তে সরকারের সংস্কার দরকার। আমি রাজি, তোমরা কি একমত?” তখন ছাত্রনেতারা আর কোনো আপত্তি করেনি।

সেই দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ইউনূস বলেন, “দু’ঘণ্টা পর এক নার্স এলো, হাতে ফুলের তোড়া। আমি বললাম, ‘এটা কেন?’ সে বলল, ‘আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আমরা এটা জানতাম না!’ আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি এটা কোথা থেকে জানলেন?’ তখন সে বলল, ‘সব গণমাধ্যমে, সব টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হচ্ছে যে আপনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী।’ তখনই আমি প্রথমবারের মতো এটা জানতে পারলাম।”

“এরপর আরও কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের পরিচালক ও বোর্ড সদস্যরা এলেন, তারা আবারও ফুল দিয়ে আমাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে শুভেচ্ছা জানালেন। তারা বললেন, ‘দুপুরের আগে আপনাকে হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হবে না।’ আমি তখন পরিচালকের কাছে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য সহায়তা চাইলাম। তিনি বললেন, ‘অবশ্যই, আপনার কথা আমাদের মানতেই হবে। আপনি এখন প্রধানমন্ত্রী। আপনার নিরাপদ যাত্রার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করব।’”

এরপর সকালে ফরাসি সেনাবাহিনীর একটি বড় দল অধ্যাপক ইউনূসকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে আসে। তিনি বলেন, “এটাই ছিল দেশে ফেরার আগের ঘটনা। পুরো জাতি তখন আমার ফেরার উড়োজাহাজের অপেক্ষায় ছিল। আমি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যাত্রা করলাম। এদিকে ছাত্রনেতারা ইতোমধ্যে নতুন সরকারের রূপরেখা দাঁড় করিয়ে ফেলেছিল। আমি বিমানবন্দর থেকেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলাম এবং সবাইকে ধৈর্য, শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানালাম। এভাবেই পুরো ঘটনার সূচনা হয়েছিল।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল 

প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হওয়ার আগে–পরে কী ঘটেছিল, জানালেন অধ্যাপক ইউনূস

আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্যারিসের এক হাসপাতালে থাকাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তখনকার সময় তার ভাবনা, ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ এবং পুরো ঘটনার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন অধ্যাপক ইউনূস। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর বৈদেশিকবিষয়ক প্রধান ভাষ্যকার গিডেয়েন রাখমানের উপস্থাপনায় ‘রাখমান রিভিউ’ নামের একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সেই কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

যেখানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি তখন প্যারিসের একটি হাসপাতালে ছিলাম, ছোট একটি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন ছিলাম। তখনই প্রথম ফোনকল পাই। যদিও আমি প্রতিদিন মুঠোফোনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম, কিন্তু এমন কিছু আশা করিনি। ছাত্রনেতারা আমাকে বলল, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) চলে গেছেন। এখন আমাদের সরকার গঠন করতে হবে। দয়া করে, আপনি আমাদের জন্য সরকার গঠন করুন।’ আমি বললাম, ‘না, আমি সেই ব্যক্তি নই। আমি এসব কিছু জানি না এবং এর সঙ্গে যুক্ত হতেও চাই না।’”

কারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, ‘ছাত্রনেতারা। আমি তাদের কাউকেই চিনতাম না, কখনো তাদের সম্পর্কে শুনিনি। তাই আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যেন তারা বিকল্প কাউকে খোঁজে। আমি বলেছিলাম, ‘বাংলাদেশে অনেক ভালো নেতা আছেন, তাদের খুঁজে নাও।’ কিন্তু তারা বলল, ‘না, না, না, আপনাকেই থাকতে হবে। আমরা কাউকে পাইনি।’ আমি তাদের বললাম, ‘আরও চেষ্টা করো, অন্তত একদিন সময় নাও। যদি কাউকে না পাও, তাহলে ২৪ ঘণ্টা পর আমাকে আবার ফোন করো।’”

পরদিন ছাত্রনেতারা আবার ফোন করে জানায়, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কাউকে পাইনি। আপনাকেই আসতে হবে।” শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূস রাজি হন। তিনি বলেন, “তোমরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করছ, অনেক রক্ত ঝরেছে। তোমরা যদি এতদূর আসতে পারো, তাহলে আমারও কিছু করা উচিত। এই মুহূর্তে সরকারের সংস্কার দরকার। আমি রাজি, তোমরা কি একমত?” তখন ছাত্রনেতারা আর কোনো আপত্তি করেনি।

সেই দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ইউনূস বলেন, “দু’ঘণ্টা পর এক নার্স এলো, হাতে ফুলের তোড়া। আমি বললাম, ‘এটা কেন?’ সে বলল, ‘আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আমরা এটা জানতাম না!’ আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি এটা কোথা থেকে জানলেন?’ তখন সে বলল, ‘সব গণমাধ্যমে, সব টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার হচ্ছে যে আপনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী।’ তখনই আমি প্রথমবারের মতো এটা জানতে পারলাম।”

“এরপর আরও কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের পরিচালক ও বোর্ড সদস্যরা এলেন, তারা আবারও ফুল দিয়ে আমাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে শুভেচ্ছা জানালেন। তারা বললেন, ‘দুপুরের আগে আপনাকে হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হবে না।’ আমি তখন পরিচালকের কাছে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য সহায়তা চাইলাম। তিনি বললেন, ‘অবশ্যই, আপনার কথা আমাদের মানতেই হবে। আপনি এখন প্রধানমন্ত্রী। আপনার নিরাপদ যাত্রার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করব।’”

এরপর সকালে ফরাসি সেনাবাহিনীর একটি বড় দল অধ্যাপক ইউনূসকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে আসে। তিনি বলেন, “এটাই ছিল দেশে ফেরার আগের ঘটনা। পুরো জাতি তখন আমার ফেরার উড়োজাহাজের অপেক্ষায় ছিল। আমি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যাত্রা করলাম। এদিকে ছাত্রনেতারা ইতোমধ্যে নতুন সরকারের রূপরেখা দাঁড় করিয়ে ফেলেছিল। আমি বিমানবন্দর থেকেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলাম এবং সবাইকে ধৈর্য, শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানালাম। এভাবেই পুরো ঘটনার সূচনা হয়েছিল।”