ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের প্রার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষায় বসিয়ে রেখে হঠাৎ করে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় সমবেত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের গেট অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে’; ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’; ‘নিয়োগ বোর্ড বন্ধ কেন? প্রশাসন জবাব চাই’; ‘নিয়োগ কেন বন্ধ হয়, শিক্ষার্থীরা জানতে চায়’; ‘জাবি রাবি নিয়োগ পায়, ইবি কেন বন্ধ হয়?’ ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানব না’; ‘টালবাহানা কইরো না, গদি কিন্তু থাকবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবীর, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মুবাশ্বির আমিন, সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মণ্ডল, খেলাফত ছাত্র মজলিশের সভাপতি সাদেক খান, সোচ্চারের সভাপতি রাহাত আব্দুল্লাহসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সমাবেশে জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শিশির বলেন, “বিভাগ চালুর পর থেকে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ক্লাসরুমের সংকটে আমরা ভুগছি। মাত্র দুজন শিক্ষক আন্তরিকভাবে আমাদের এগিয়ে নিচ্ছিলেন। আমরা যখন আশাবাদী হচ্ছিলাম, তখনই নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হলো। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই কি এই বোর্ড করেছে—তা জানতে চাই। শিক্ষক সংকট নিরসনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবীর বলেন, “৫ আগস্টের পর পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও আবাসন সংকট নিরসনের দুটি দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসন সেশনজট নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের চাপেই নিয়োগ বন্ধ রাখার চেষ্টা চলছে। যারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার হরণ করছে, তাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।”
তিনি নির্বাচনের আগেই যেসব বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। কিন্তু আজও নিয়োগ বন্ধ হচ্ছে। কারা এবং কাদের ইন্ধনে এই নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে, তা প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা সেশনজটে ক্লান্ত। যারা শিক্ষক নিয়োগে বাধা দিচ্ছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, “কোনো দল বা মতের চাপে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়নি। বরং বোর্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অনুপস্থিত থাকায় এটি স্থগিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।”






















































