বুধবার | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কালিগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতার Logo ভেঙ্গে পরেছে পলাশবাড়ী উপজেলার প্রশাসনিক ব্যবস্থা! কর্মস্থলে নেই কর্মকর্তারা!জন সেবায় চরম ভোগান্তি Logo চাঁদপুরে মহাসড়ক দখল করে বেপরোয়া অবৈধ বালু ব্যবসা: বিপর্যস্ত জনজীবন Logo হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান এক কাতারে—৫ নং ওয়ার্ডে ৮ দফা ও ফ্যামিলি কার্ড আলোচনা Logo চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা Logo খুবিতে নাগরিক সচেতনতা ও তথ্য যাচাই শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo পলাশবাড়ীতে পিতার দায়েরকৃত মামলায় কুলাঙ্গার সন্তান গ্রেফতার Logo গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুরে অবহিতকরণ সভা Logo শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা  Logo মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী নিহত

মৃত্যুপুরী গাজায় নিহত ছাড়াল সাড়ে ৪৩ হাজার

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৪১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭৭৪ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বর্বর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির হামলায় এখনো দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। প্রতিদিন ইসরায়েলি বোমায় প্রাণ হারাচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনি। আহতের সারিও লম্বা হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি সাড়ে ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের একটি সিস্টেম্যাটিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি এবং এ ঘটনায় যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন দুর্ভিক্ষ পর্যালোচনা কমিটি সতর্ক করেছে যে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ এড়াতে এবং মাসব্যাপী ইসরায়েলি সামরিক অবরোধের মধ্যে ‘এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি প্রশমিত করতে’ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় সাড়ে ৪৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, তারা ৮ হাজার ১১৯ জন নিহতের তথ্য যাচাই করেছে। এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক কম হলেও উভয় পক্ষই বলেছে, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ৫-৯ বছর বয়সী শিশুরা। নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শিশুটির বয়স মাত্র একদিন এবং সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটি ছিলেন ৯৭ বছরের এক নারী।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাত ইয়ার আলীর দুই সহযোগী গ্রেফতার

মৃত্যুপুরী গাজায় নিহত ছাড়াল সাড়ে ৪৩ হাজার

আপডেট সময় : ০৯:২২:৪১ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৪

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে বর্বর হামলা চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার দেশটির হামলায় এখনো দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। প্রতিদিন ইসরায়েলি বোমায় প্রাণ হারাচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনি। আহতের সারিও লম্বা হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি সাড়ে ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের একটি সিস্টেম্যাটিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি এবং এ ঘটনায় যথাযথ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের স্বাধীন দুর্ভিক্ষ পর্যালোচনা কমিটি সতর্ক করেছে যে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ এড়াতে এবং মাসব্যাপী ইসরায়েলি সামরিক অবরোধের মধ্যে ‘এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি প্রশমিত করতে’ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় সাড়ে ৪৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, তারা ৮ হাজার ১১৯ জন নিহতের তথ্য যাচাই করেছে। এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক কম হলেও উভয় পক্ষই বলেছে, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ৫-৯ বছর বয়সী শিশুরা। নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ শিশুটির বয়স মাত্র একদিন এবং সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটি ছিলেন ৯৭ বছরের এক নারী।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকাজুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর হামলার কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।