সোমবার | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা Logo পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo আমরা বিএনপি পরিবার’উদ্যোগে সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তা Logo সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে তোলপাড়, তোপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার ড. বদিউল আলমের Logo জীবননগরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বিতরণ Logo জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : আদিলুর রহমান খান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা

বিগত দ্বাদশ  জাতীয় সংসদ পাতানো নির্বাচনে  শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর জুলাই গনঅভ্যুত্থানেে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের ঐতিহাসিক পতন হয়।
এদিকে নোবেল জয়ী ড: ইউনুছ সরকারের নেতৃত্বে অন্তবর্তী  কালীন সরকার গঠিত হয়।যারা একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই কার্যক্রম  নিষিদ্ধ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তর দল বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে।দলের শীর্ষ নেতারা গা ঢাকা দেয়ায় দলটি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারছে না।ফলে এই নির্বাচনে আওয়ামিলীগ  সমর্থকদের ভোটকে মনে করা  হচ্ছে তুরুপের তাস।
সরকারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল  ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩১ গাইবান্ধা ০৩ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন  বিএনপি-জামায়াত-জাপা ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ প্রার্থী।
 গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ যথাক্রমে রিটার্নিং অফিসার ও পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো:   নজরুল ইসলাম লেবু, জাপা মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী
 রুমান,, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: ছিদ্দিকুল ইসলাম। কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু এবি পার্টির মনজুরুল হক সাচ্ছা ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মোছাদ্দিকুল ইসলাম, এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র), আজিজার রহমান বিএসসি (স্বতন্ত্র) তাঁদের স্ব-স্ব মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
৪  জানুয়ারী ২০২৬ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটাইনিং অফিসার ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষনা করেন তারা হলেন যথাক্রমে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো:   নজরুল ইসলাম লেবু, জাপা মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুমান,, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: ছিদ্দিকুল ইসলাম।
৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু এবি পার্টির মনজুরুল হক সাচ্ছা, এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র), আজিজার রহমান বিএসসি (স্বতন্ত্র)।
ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে দুই জনের প্রার্থীতা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এরা হলে খালেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান বিএসসি। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী এখন দাড়িয়েছে ৮ জন।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ ইতিহাস, আসন পরিসংখ্যান ও ভোটার প্রার্থীদের  সাথে কথা বলে  জানাযায়
রংপুরের কৃতি সন্তান উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লী বন্ধু মরহুম আলহাজ্ব  হুসাইন মোহাম্মদ এর দল জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা ০৩ আসন থেকে প্রয়াত ড: টিআই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬,১৯৮৮,১৯৯১, ১২ জুন ১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই আসনটিতে জাতীয় পার্টির কোন পরাজয় হয় নি।
বিএনপি, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ১০ম, একাদশ ও দ্বাদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় ২০১৪ সাল,২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালসহ মোট ৩ টি  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি আওয়ামিলীগের দখলে চলে যায়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফশিল ঘোষণা করা হলে ও প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা ব্যাপক নির্বাচনী জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে আওয়ামিলীগ নির্বাচনে অংশ না করায়  অনেকটা জোরে সোরে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে  দেশের শীর্ষ অবস্থানে থাকা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান ম্যাডিক্যাল কলেজ বগুড়া এর সাবেক পরিচালক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা:মঈনুল হাসান সাদিক। দীর্ঘ আন্দোলন লড়াই সংগ্রামের পর দলকে সুসংগঠিত করা ক্নিন ইমেজের এই মানুষ টি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার ফলে সাধারণ ভোটারদের কাছে বেশ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেছে।
সম্প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী তিন বারের প্রধানমন্ত্রী  আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ ভালোবাসা দিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে যার প্রভাব এই নির্বাচনে পরবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। এছাড়াও তারুন্যের অহংকার বর্তমান বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তরুন যুবক ভোটাররা তাদের দাবি তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশে রাজনীতির একটা পরিবর্তন আসবে এবং এই আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করবে।গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উন্নয়ন দেশ রক্ষায় এই আসনে বিএনপি ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করবে।এছাড়াও অধিকাংশ আওয়ামিলীগ সমর্থকরা এবার ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা জানান তারা আরো বলেন  সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে ভোট  কেন্দ্রে যেতে পারলে তারা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ধানের শীষের  বিজয় নিশ্চিত করবে।
অপরদিকে বর্তমানে দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তর দল বাংলাদেশ  জামায়াতে ইসলামি থেকে পুর্বের ন্যায়  মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা পরিসদ চেয়ারম্যান  মজলুম জননেতা অধ্যক্ষ আবুল কাওসার মো: নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা।
বিগত নির্বাচনে একাধিকবার  পরাজিত এই মানুষটি দলের দুর্দিনে বারংবার কারা বরন ও নির্যাতন সহ্য করে দলের নেতাকর্মীদের সব সময় চাঙ্গা রাখতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রবীন ভোটারদের কাছে পরিচিত একটি মুখ। এছাড়াও ইসলামি দলগুলোর মধ্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় এই আসনে পুর্বের তুলনায় অনেকটা  বেশি  বিজয় আশা বাদী জামায়াত ইসলামি।
এ লক্ষেই দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করছে উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তারা প্রায় ৬ মাস আগে থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি,  মনিটরিং কমিটি, প্রচার কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির গঠন করে বিজয় অর্জনের লক্ষে কাজ করছেন এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী। বেশ কয়েকজন তরুন ভোটার জানান ইসলাম, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষে তারা দাঁড়িপাল্লায় দিবেন।তারা আরো বলেন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্ৎকদের সংখ্যা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।জাতীয় পার্টির ও আওয়ামিলীগ সমর্থকদের  কিছু ভোট তারা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটের ব্যাপারে তারা আশাবাদী ।  সব ঠিক থাকলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই আসনে  দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে মনে করেন নিবার্চন বিশ্লেষকরা।
পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনের জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকের জন্য মনোনীত হয়েছেন এই আসনের ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড: টি আইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর জৈষ্ঠ পুত্র ইন্জিনিয়ার মাইনুর রাব্বি চৌধুরী রোমান।
 তিনি এই আসনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। জাপা নেতাকর্মীদের দাবি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য হলে এই আসনে জাতীয় পার্টির বিজয় হবে।কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয় মরহুম  ড: টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর এর মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন।তাদের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক আছে। ফলেই এই আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে।নির্বাচনে হারজিত থাকবেই তবে যে প্রার্থী জয়লাভ করুক না কেন জাতীয় পার্টিকে হিসেব করতে হবে।
এছাড়াও জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা  ও সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ক্ষুদি তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন।তিনি ও তার নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। যা দিয়ে বিজয় অর্জন করা সম্ভব না হলে ও বিএনপি জামায়াতের ভোটের উপর প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি জামায়াতে ভোটের উপর প্রভাব ফেলবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে একাধিক বার নির্বাচন করেছেন।তার বিজয় সম্ভব না হলে ও মোট ভোটের সামান্য কিছু অংশ তার দিকে যাবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন এই আসনে মুলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যে লাঙ্গলসহ অন্যান্য প্রতীকের সকল প্রার্থীরা শুধু বিএনপি জামায়াতের জয় পরাজয়ের ব্যবধান কমাবে।
উল্লেখ্য :-১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী  উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নহ মোট  ১৯ ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভা নিয়ে   গঠিত ৩১ গাইবান্ধা-৩ সংসদীয়  আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২ ও মহিলা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ০৯ জন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা

আপডেট সময় : ০৫:১৪:৩৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিগত দ্বাদশ  জাতীয় সংসদ পাতানো নির্বাচনে  শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর জুলাই গনঅভ্যুত্থানেে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের ঐতিহাসিক পতন হয়।
এদিকে নোবেল জয়ী ড: ইউনুছ সরকারের নেতৃত্বে অন্তবর্তী  কালীন সরকার গঠিত হয়।যারা একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার লক্ষে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই কার্যক্রম  নিষিদ্ধ করা হয়েছে দেশের বৃহত্তর দল বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে।দলের শীর্ষ নেতারা গা ঢাকা দেয়ায় দলটি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারছে না।ফলে এই নির্বাচনে আওয়ামিলীগ  সমর্থকদের ভোটকে মনে করা  হচ্ছে তুরুপের তাস।
সরকারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল  ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩১ গাইবান্ধা ০৩ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন  বিএনপি-জামায়াত-জাপা ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ প্রার্থী।
 গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ যথাক্রমে রিটার্নিং অফিসার ও পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো:   নজরুল ইসলাম লেবু, জাপা মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী
 রুমান,, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: ছিদ্দিকুল ইসলাম। কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু এবি পার্টির মনজুরুল হক সাচ্ছা ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. মোছাদ্দিকুল ইসলাম, এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র), আজিজার রহমান বিএসসি (স্বতন্ত্র) তাঁদের স্ব-স্ব মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
৪  জানুয়ারী ২০২৬ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটাইনিং অফিসার ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষনা করেন তারা হলেন যথাক্রমে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো:   নজরুল ইসলাম লেবু, জাপা মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুমান,, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: ছিদ্দিকুল ইসলাম।
৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু এবি পার্টির মনজুরুল হক সাচ্ছা, এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র), আজিজার রহমান বিএসসি (স্বতন্ত্র)।
ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে দুই জনের প্রার্থীতা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এরা হলে খালেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান বিএসসি। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী এখন দাড়িয়েছে ৮ জন।
এদিকে নির্বাচন নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ ইতিহাস, আসন পরিসংখ্যান ও ভোটার প্রার্থীদের  সাথে কথা বলে  জানাযায়
রংপুরের কৃতি সন্তান উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লী বন্ধু মরহুম আলহাজ্ব  হুসাইন মোহাম্মদ এর দল জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা ০৩ আসন থেকে প্রয়াত ড: টিআই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬,১৯৮৮,১৯৯১, ১২ জুন ১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই আসনটিতে জাতীয় পার্টির কোন পরাজয় হয় নি।
বিএনপি, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ১০ম, একাদশ ও দ্বাদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় ২০১৪ সাল,২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালসহ মোট ৩ টি  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি আওয়ামিলীগের দখলে চলে যায়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফশিল ঘোষণা করা হলে ও প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা ব্যাপক নির্বাচনী জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে আওয়ামিলীগ নির্বাচনে অংশ না করায়  অনেকটা জোরে সোরে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে  দেশের শীর্ষ অবস্থানে থাকা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান ম্যাডিক্যাল কলেজ বগুড়া এর সাবেক পরিচালক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা:মঈনুল হাসান সাদিক। দীর্ঘ আন্দোলন লড়াই সংগ্রামের পর দলকে সুসংগঠিত করা ক্নিন ইমেজের এই মানুষ টি দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার ফলে সাধারণ ভোটারদের কাছে বেশ আস্থাভাজন হয়ে ওঠেছে।
সম্প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী তিন বারের প্রধানমন্ত্রী  আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ ভালোবাসা দিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে যার প্রভাব এই নির্বাচনে পরবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। এছাড়াও তারুন্যের অহংকার বর্তমান বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তরুন যুবক ভোটাররা তাদের দাবি তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশে রাজনীতির একটা পরিবর্তন আসবে এবং এই আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করবে।গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উন্নয়ন দেশ রক্ষায় এই আসনে বিএনপি ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করবে।এছাড়াও অধিকাংশ আওয়ামিলীগ সমর্থকরা এবার ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা জানান তারা আরো বলেন  সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্বাধীনভাবে ভোট  কেন্দ্রে যেতে পারলে তারা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ধানের শীষের  বিজয় নিশ্চিত করবে।
অপরদিকে বর্তমানে দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তর দল বাংলাদেশ  জামায়াতে ইসলামি থেকে পুর্বের ন্যায়  মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা পরিসদ চেয়ারম্যান  মজলুম জননেতা অধ্যক্ষ আবুল কাওসার মো: নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা।
বিগত নির্বাচনে একাধিকবার  পরাজিত এই মানুষটি দলের দুর্দিনে বারংবার কারা বরন ও নির্যাতন সহ্য করে দলের নেতাকর্মীদের সব সময় চাঙ্গা রাখতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রবীন ভোটারদের কাছে পরিচিত একটি মুখ। এছাড়াও ইসলামি দলগুলোর মধ্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় এই আসনে পুর্বের তুলনায় অনেকটা  বেশি  বিজয় আশা বাদী জামায়াত ইসলামি।
এ লক্ষেই দিন রাত নিরলস ভাবে কাজ করছে উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তারা প্রায় ৬ মাস আগে থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি,  মনিটরিং কমিটি, প্রচার কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটির গঠন করে বিজয় অর্জনের লক্ষে কাজ করছেন এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী। বেশ কয়েকজন তরুন ভোটার জানান ইসলাম, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষে তারা দাঁড়িপাল্লায় দিবেন।তারা আরো বলেন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্ৎকদের সংখ্যা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।জাতীয় পার্টির ও আওয়ামিলীগ সমর্থকদের  কিছু ভোট তারা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটের ব্যাপারে তারা আশাবাদী ।  সব ঠিক থাকলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই আসনে  দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে মনে করেন নিবার্চন বিশ্লেষকরা।
পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনের জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকের জন্য মনোনীত হয়েছেন এই আসনের ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড: টি আইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর জৈষ্ঠ পুত্র ইন্জিনিয়ার মাইনুর রাব্বি চৌধুরী রোমান।
 তিনি এই আসনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। জাপা নেতাকর্মীদের দাবি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য হলে এই আসনে জাতীয় পার্টির বিজয় হবে।কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয় মরহুম  ড: টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর এর মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন।তাদের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক আছে। ফলেই এই আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে।নির্বাচনে হারজিত থাকবেই তবে যে প্রার্থী জয়লাভ করুক না কেন জাতীয় পার্টিকে হিসেব করতে হবে।
এছাড়াও জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা  ও সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ক্ষুদি তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন।তিনি ও তার নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। যা দিয়ে বিজয় অর্জন করা সম্ভব না হলে ও বিএনপি জামায়াতের ভোটের উপর প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি জামায়াতে ভোটের উপর প্রভাব ফেলবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে একাধিক বার নির্বাচন করেছেন।তার বিজয় সম্ভব না হলে ও মোট ভোটের সামান্য কিছু অংশ তার দিকে যাবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন এই আসনে মুলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যে লাঙ্গলসহ অন্যান্য প্রতীকের সকল প্রার্থীরা শুধু বিএনপি জামায়াতের জয় পরাজয়ের ব্যবধান কমাবে।
উল্লেখ্য :-১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী  উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নহ মোট  ১৯ ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভা নিয়ে   গঠিত ৩১ গাইবান্ধা-৩ সংসদীয়  আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২ ও মহিলা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ০৯ জন।