সোমবার | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা Logo পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo আমরা বিএনপি পরিবার’উদ্যোগে সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তা Logo সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে তোলপাড়, তোপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার ড. বদিউল আলমের Logo জীবননগরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বিতরণ Logo জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : আদিলুর রহমান খান

পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা!

দেশের বড় শহরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কোম্পানির দেওয়া উপহার সামগ্রী ফুটপাতে বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র আর শহরকেন্দ্রিক নেই। উপজেলা ও ইউনিয়নের হাটবাজারেও একই দৃশ্য চোখে পড়ছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মোড় ও জনসমাগম স্থানে সম্প্রতি এসব পণ্য প্রকাশ্যে পসরা সাজিয়ে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সাবান, টুথপেস্ট, প্রসাধনী, ডায়েরি-কলম, কেক, বিস্কুট, চা, কফি, ক্রোকারিজ কিংবা গৃহসজ্জার নানা সামগ্রী মূলত ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসক বা ফার্মেসি মালিকদের আকৃষ্ট করতে বিনামূল্যে সরবরাহ করে। এসব পণ্যের অনেকগুলোর গায়েই স্পষ্ট লেখা থাকে “Not for Sale” বা “বিক্রয়ের জন্য নয়।” বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই পণ্যগুলো এখন সাধারণ বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপহার সামগ্রী কখনো সরাসরি, কখনো ঘুরপথে বাজারে চলে আসে। হকার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে এগুলো সহজেই মিলছে। বিষয়টি শুধু আইন বা নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের একটি গভীর অনিয়মকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ কোম্পানির এই প্রমোশনাল ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে রোগীদের কাঁধেই। উপহার সামগ্রীর খরচ ওষুধের দামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম দিতে বাধ্য হন। রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না, নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি অন্য খাতের ব্যয়ও বহন করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, উপহার সংস্কৃতি একদিকে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে ওষুধের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছে। এতে ওষুধের গুণগত মান বা রোগীর প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের প্রভাব বেশি কাজ করছে। এর ফল হিসেবে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
তাঁদের মতে, চিকিৎসক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মধ্যে এ ধরনের অপ্রকাশিত লেনদেন পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল করে এবং পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত উপহার সামগ্রী যখন প্রকাশ্যে ফুটপাতে বিক্রি হয়, তখন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার, সেই প্রশ্নই সামনে আসে। উপহার সংস্কৃতি লাগামছাড়া থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রোগী, বাড়বে চিকিৎসা ব্যয় এবং দুর্বল হবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর নজরদারি ও নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে এই অনিয়ম আরও গভীরভাবে শিকড় গেড়ে বসবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা

পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা!

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৩৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
দেশের বড় শহরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই ডাক্তারদের জন্য ওষুধ কোম্পানির দেওয়া উপহার সামগ্রী ফুটপাতে বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র আর শহরকেন্দ্রিক নেই। উপজেলা ও ইউনিয়নের হাটবাজারেও একই দৃশ্য চোখে পড়ছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মোড় ও জনসমাগম স্থানে সম্প্রতি এসব পণ্য প্রকাশ্যে পসরা সাজিয়ে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সাবান, টুথপেস্ট, প্রসাধনী, ডায়েরি-কলম, কেক, বিস্কুট, চা, কফি, ক্রোকারিজ কিংবা গৃহসজ্জার নানা সামগ্রী মূলত ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসক বা ফার্মেসি মালিকদের আকৃষ্ট করতে বিনামূল্যে সরবরাহ করে। এসব পণ্যের অনেকগুলোর গায়েই স্পষ্ট লেখা থাকে “Not for Sale” বা “বিক্রয়ের জন্য নয়।” বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই পণ্যগুলো এখন সাধারণ বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপহার সামগ্রী কখনো সরাসরি, কখনো ঘুরপথে বাজারে চলে আসে। হকার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে এগুলো সহজেই মিলছে। বিষয়টি শুধু আইন বা নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের একটি গভীর অনিয়মকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ কোম্পানির এই প্রমোশনাল ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে রোগীদের কাঁধেই। উপহার সামগ্রীর খরচ ওষুধের দামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম দিতে বাধ্য হন। রোগী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না, নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি অন্য খাতের ব্যয়ও বহন করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, উপহার সংস্কৃতি একদিকে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে ওষুধের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছে। এতে ওষুধের গুণগত মান বা রোগীর প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের প্রভাব বেশি কাজ করছে। এর ফল হিসেবে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
তাঁদের মতে, চিকিৎসক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মধ্যে এ ধরনের অপ্রকাশিত লেনদেন পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা দুর্বল করে এবং পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত উপহার সামগ্রী যখন প্রকাশ্যে ফুটপাতে বিক্রি হয়, তখন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার, সেই প্রশ্নই সামনে আসে। উপহার সংস্কৃতি লাগামছাড়া থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রোগী, বাড়বে চিকিৎসা ব্যয় এবং দুর্বল হবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর নজরদারি ও নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে এই অনিয়ম আরও গভীরভাবে শিকড় গেড়ে বসবে।