বৃহস্পতিবার | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo শিক্ষা কোনো দল, মত বা আদর্শের বিষয় নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন সামাজিক দায়িত্ব। Logo এক আসনে দুই বিএনপি প্রার্থী! ফরিদগঞ্জে ভোটের সমীকরণ ওলটপালট, সুযোগ খুঁজছে জামায়াত Logo খুবিতে দুই দিনব্যাপী স্থাপত্য থিসিস প্রদর্শনী Logo চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ Logo সৌহার্দ্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গাজীপুর জেলা সাংবাদিকদের মিলনমেলা Logo পলাশবাড়ীতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন Logo আজ ৪ ফেব্রুয়ারি লেখক ও শিক্ষক তৌফিক সুলতান স্যারের জন্মদিন। Logo খুবিতে ‘ভৈরবী’র নতুন নেতৃত্বে রাদ ও রাহুল Logo সুন্দরবন ও উপকূলীয় যৌথ গবেষণার লক্ষ্যে খুবি ও বেড্সের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

আলমডাঙ্গায় মেঘ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে ধান কাটা

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১১ মে ২০২০
  • ৭৯৯ বার পড়া হয়েছে

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: দিনে রোধের আলোয় আলোকিত সোনালী পাঁকা ধানের ক্ষেত। সন্ধ্যা নামলেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। রাত হলেই শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টি। এ ঝড়-বৃষ্টি যেনো কৃষকের কষ্টের পাহাড় তৈরি করেছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভায় এবছর মোট ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে কৃষকেরা।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ও দামে ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। তবে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিন ধান কাটা আর বেঁধে ঘরে তোলা কাজ এবছর যেনো কৃষকের বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠেছে।
আলমডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, চলতি বছরে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংকটে রয়েছে কৃষকেরা। ধান কাটা ও ঘরে তোলার মৌসুমের শুরু ও শেষের দিকে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া আশঙ্কা থাকে। এবারও বৈশাখের শুরু থেকেই হালকা মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
ভাংবাড়িয়া গ্রামের ধান চাষি আলাউদ্দিন বলেন, দেড় একর জমিতে ধান চাষ করেছি। করোনা ভাইরাসের ভয়ে জমিতে আসতে পারি না। ঠিকমতো পানি সেচ দিতে পারি না। শহর থেকে শুরু করে সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। গ্রামের যে দোকান থেকে বাকিতে তেল নিয়ে মেশিন চালায় সেই দোকানই বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কাছে যে টাকা ছিল তাও শেষ হয়েছে। নগদ টাকা না দিলে তেল দেয় না। এখন কীভাবে জমিতে সেচ দিব। প্রচণ্ড রোদে জমি ফেটে যাচ্ছে। পাম্পে গেলে নগদ টাকা ছাড়া তেল দেয় না।
জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাস, আকাশে মেঘ দেখে জানে পানি থাকে না। সমিতি থেকে কিস্তি তুলে পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। যখন আকাশে মেঘ হয় তখন জানে পানি থাকে না।
ঘোলদাড়ি পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আবুছদ্দিন জানান, আমি দিনমুজুরি করে সংসার চালাই। করোনা ভাইরাসের কারণে কৃষি কাজ বন্ধ রয়েছে। বৌ-ছেলে মেয়ে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি। এ রকম থাকলে কিভাবে কৃষি কাজ করবো। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজ করতে যাওয়া যাচ্ছে না পুলিশ বাধা দেয়। বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরে পড়ে মরার মতো অবস্থা।
এরশাদপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান কাটায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখিন হতে হচ্ছে। দিনে সূর্যের আলো, সন্ধ্যায় কালো মেঘ আর রাত হলেই বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। মাঠের ধান পেঁকে ঝড়ে যাবার সম্ভবনা হয়ে গেছে। দ্রুত ধান কাটতে হবে। কিন্তু, ধান কাটলেই বৃষ্টির পানিতে ভিজছে। আবার দিনের সূর্যে শুকানো হলে আবারো রাতের বৃষ্টিতে ভিজছে। এবছর কৃষকের বিষফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার জিন্নাত আলি বলেন, এ বছর আলমডাঙ্গায় বোরো মৌসুমে ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিকদের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। তারা এক জেলা থেকে অন্য জেলা যেতে পারবে না। এ দিকে মেঘ বৃষ্টি তো আছেই। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিতায় মধ্যে আছি। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের পাশে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা কোনো দল, মত বা আদর্শের বিষয় নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন সামাজিক দায়িত্ব।

আলমডাঙ্গায় মেঘ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে ধান কাটা

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১১ মে ২০২০

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি: দিনে রোধের আলোয় আলোকিত সোনালী পাঁকা ধানের ক্ষেত। সন্ধ্যা নামলেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। রাত হলেই শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টি। এ ঝড়-বৃষ্টি যেনো কৃষকের কষ্টের পাহাড় তৈরি করেছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভায় এবছর মোট ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে কৃষকেরা।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ও দামে ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। তবে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রতিদিন ধান কাটা আর বেঁধে ঘরে তোলা কাজ এবছর যেনো কৃষকের বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠেছে।
আলমডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, চলতি বছরে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংকটে রয়েছে কৃষকেরা। ধান কাটা ও ঘরে তোলার মৌসুমের শুরু ও শেষের দিকে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া আশঙ্কা থাকে। এবারও বৈশাখের শুরু থেকেই হালকা মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
ভাংবাড়িয়া গ্রামের ধান চাষি আলাউদ্দিন বলেন, দেড় একর জমিতে ধান চাষ করেছি। করোনা ভাইরাসের ভয়ে জমিতে আসতে পারি না। ঠিকমতো পানি সেচ দিতে পারি না। শহর থেকে শুরু করে সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। গ্রামের যে দোকান থেকে বাকিতে তেল নিয়ে মেশিন চালায় সেই দোকানই বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কাছে যে টাকা ছিল তাও শেষ হয়েছে। নগদ টাকা না দিলে তেল দেয় না। এখন কীভাবে জমিতে সেচ দিব। প্রচণ্ড রোদে জমি ফেটে যাচ্ছে। পাম্পে গেলে নগদ টাকা ছাড়া তেল দেয় না।
জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাস, আকাশে মেঘ দেখে জানে পানি থাকে না। সমিতি থেকে কিস্তি তুলে পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। যখন আকাশে মেঘ হয় তখন জানে পানি থাকে না।
ঘোলদাড়ি পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আবুছদ্দিন জানান, আমি দিনমুজুরি করে সংসার চালাই। করোনা ভাইরাসের কারণে কৃষি কাজ বন্ধ রয়েছে। বৌ-ছেলে মেয়ে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি। এ রকম থাকলে কিভাবে কৃষি কাজ করবো। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজ করতে যাওয়া যাচ্ছে না পুলিশ বাধা দেয়। বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘরে পড়ে মরার মতো অবস্থা।
এরশাদপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান কাটায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখিন হতে হচ্ছে। দিনে সূর্যের আলো, সন্ধ্যায় কালো মেঘ আর রাত হলেই বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। মাঠের ধান পেঁকে ঝড়ে যাবার সম্ভবনা হয়ে গেছে। দ্রুত ধান কাটতে হবে। কিন্তু, ধান কাটলেই বৃষ্টির পানিতে ভিজছে। আবার দিনের সূর্যে শুকানো হলে আবারো রাতের বৃষ্টিতে ভিজছে। এবছর কৃষকের বিষফোঁড়া হয়ে দাড়িয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার জিন্নাত আলি বলেন, এ বছর আলমডাঙ্গায় বোরো মৌসুমে ১৩ হাজার ৪৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিকদের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। তারা এক জেলা থেকে অন্য জেলা যেতে পারবে না। এ দিকে মেঘ বৃষ্টি তো আছেই। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিতায় মধ্যে আছি। আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের পাশে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।