মঙ্গলবার | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে দিনভর গণসংযোগ সুন্নীয়তের দাবি নিয়ে আসছি, মোমবাতিতে ভোট চাই -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ  Logo লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ ক্রীড়া চর্চা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে-অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা। Logo আইনের ফাঁদে দুই প্রতিষ্ঠান: চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান, অর্ধ লক্ষাধিক টাকার মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মৌখিক পরীক্ষা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় Logo গণভোট হ্যাঁ-কে জয়ী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রচারণা Logo শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি Logo পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল  Logo ঝালকাঠিতে ৬লিটার চোলাই মদ সহ নাসির ডিবির হাতে আটক  Logo পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় আহত ৪, অবরুদ্ধ ৯ পরিবার

‘লহু কা লাগান বা রক্ত কর’: ভারতে স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপ করা কর বাতিলের সিদ্ধান্ত

  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৫১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
  • ৭৭৭ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

ভারত সরকার এই কর আরোপের এক বছর পর তা বাতিল করার ঘোষণা দিল। সব ধরণের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্যের ওপর ১২% কর সহ সব পণ্যের ওপর আরোপ করা হয় জিএসট নামে পরিচিত এই কর।

এর বিরুদ্ধে প্রচারণাকারীরা বলেন, ভারতের মত একটি দেশে যেখানে এমনিতেই মাসিক নারীদের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই বললেই চলে, সেখানে এরকম একটি কর আরোপ করলে এ ধরণের পণ্যের ব্যবহারে আরো নিরুৎসাহিত হবে মানুষ।

ভারতে আনুমানিক প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে চারজনই স্যানিটারি প্যাডের মত প্রয়োজনীয় পণ্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

নারীদের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য সংস্থা সাচ্চি সাহেলির প্রতিষ্ঠাতা সুরভি সিং এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে রয়টার্সকে বলেন: “মাসিকের সময় ছোট মেয়েদের ও নারীদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে যাওয়া অব্যাহত রাখতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।”

“এই সিদ্ধান্ত নারীদের উন্নয়নে ও সত্যিকার কর্মক্ষমতা প্রকাশে উৎসাহ দেবে”, বলেন মিজ. সিং।

ভারতে মেয়েদের পড়াশোনা ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ পিরিয়ড। স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক মেয়ে বাধ্য হয় ঘরে থাকতে।

অনেক নারীই কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করেন, যা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত না থাকলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

কাজেই ভারতের সরকার স্যানিটারি প্যাডকে বিলাস দ্রব্যের আওতায় ফেলে এর উপর ১২% কর আরেপের সিদ্ধান্ত দেয়ার সাথে সাথেই সক্রিয়তা কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো শুরু করে।

এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য একটি গণআবেদনে ৪ লোখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন।

হিন্দিতে এই করকে বলা হচ্ছিল ‘লহু কা লাগান’, যার অর্থ ‘রক্ত কর’।

মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্য কেনার সামর্থ্য না থাকা শুধু যে ভারতের সমস্যা, তা নয়।

যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ২১ বছর বয়সের নীচে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ১০ ভাগ স্যানিটারি পণ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না।

যুক্তরাজ্যে স্যানিটারি পণ্যের ওপর কর বাতিলের জন্য নানা ধরণের আন্দোলন চললেও, এখনো ৫% কর আরোপিত রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে দিনভর গণসংযোগ সুন্নীয়তের দাবি নিয়ে আসছি, মোমবাতিতে ভোট চাই -মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ 

‘লহু কা লাগান বা রক্ত কর’: ভারতে স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপ করা কর বাতিলের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ১২:২৪:৫১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮

নিউজ ডেস্ক:

ভারত সরকার এই কর আরোপের এক বছর পর তা বাতিল করার ঘোষণা দিল। সব ধরণের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্যের ওপর ১২% কর সহ সব পণ্যের ওপর আরোপ করা হয় জিএসট নামে পরিচিত এই কর।

এর বিরুদ্ধে প্রচারণাকারীরা বলেন, ভারতের মত একটি দেশে যেখানে এমনিতেই মাসিক নারীদের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই বললেই চলে, সেখানে এরকম একটি কর আরোপ করলে এ ধরণের পণ্যের ব্যবহারে আরো নিরুৎসাহিত হবে মানুষ।

ভারতে আনুমানিক প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে চারজনই স্যানিটারি প্যাডের মত প্রয়োজনীয় পণ্যের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

নারীদের মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য সংস্থা সাচ্চি সাহেলির প্রতিষ্ঠাতা সুরভি সিং এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে রয়টার্সকে বলেন: “মাসিকের সময় ছোট মেয়েদের ও নারীদের স্কুলে যাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে যাওয়া অব্যাহত রাখতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।”

“এই সিদ্ধান্ত নারীদের উন্নয়নে ও সত্যিকার কর্মক্ষমতা প্রকাশে উৎসাহ দেবে”, বলেন মিজ. সিং।

ভারতে মেয়েদের পড়াশোনা ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ পিরিয়ড। স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক মেয়ে বাধ্য হয় ঘরে থাকতে।

অনেক নারীই কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করেন, যা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত না থাকলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

কাজেই ভারতের সরকার স্যানিটারি প্যাডকে বিলাস দ্রব্যের আওতায় ফেলে এর উপর ১২% কর আরেপের সিদ্ধান্ত দেয়ার সাথে সাথেই সক্রিয়তা কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো শুরু করে।

এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য একটি গণআবেদনে ৪ লোখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন।

হিন্দিতে এই করকে বলা হচ্ছিল ‘লহু কা লাগান’, যার অর্থ ‘রক্ত কর’।

মাসিক সংক্রান্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্য কেনার সামর্থ্য না থাকা শুধু যে ভারতের সমস্যা, তা নয়।

যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ২১ বছর বয়সের নীচে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ১০ ভাগ স্যানিটারি পণ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না।

যুক্তরাজ্যে স্যানিটারি পণ্যের ওপর কর বাতিলের জন্য নানা ধরণের আন্দোলন চললেও, এখনো ৫% কর আরোপিত রয়েছে।