রবিবার | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল  Logo ঝালকাঠিতে ৬লিটার চোলাই মদ সহ নাসির ডিবির হাতে আটক  Logo পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় আহত ৪, অবরুদ্ধ ৯ পরিবার Logo ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo রাবির ‘এ’ ইউনিটের প্রথম শিফটে প্রথম অনন্ত, দ্বিতীয় শিফটে সিয়াম Logo চাঁদপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড এবং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন Logo বীরগঞ্জের বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ! Logo হাবিবুর রহমান ইসলামী যুব আন্দোলন চাঁদপুর জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত Logo খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবির গাড়ি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ Logo ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি উপ-উপাচার্যের

টেকনাফে এক প্রধান শিক্ষকের ভয়ে বিদ্যালয় ছাড়ছে ছাত্রীরা

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:৫৩ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৭৭৬ বার পড়া হয়েছে

হাবিবুল ইসলাম হাবিব, টেকনাফ : টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়পাড়া এক প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর অভিভাবক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল প্রথম শ্রেনীর পাঠদানকালে এক ছাত্রীকে ডেকে গালে চুমু দেন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন। এসময় শ্রেনীর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের টেবিলে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ রাখতে বলেন তিনি।
গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর দাদা এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিতৃতুল্য শিক্ষক যদি এমন আচরণ করেন তাহলে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের তাদের অভিভাবকরা কিভাবে লেখাপড়া করাবে। তিনি আরো জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর তার নাতিনকে (সংগত কারণে নাম গোপন রাখা হলো) যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যেতে বললে সে বিদ্যালয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলনা এবং কান্নাকাটি করছিল। তারপরও জোর করে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ে গিয়েও সে ক্লাসে ঢুকতে ভয় পায় ও কান্নাকাটি করতে থাকে। এঘটনা দেখতে পেয়ে ৫ম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি খুলে বলে। পরে বিকালে বাড়ীতে ফিরে দাদীকে পুরো ঘটনা জানায়।
এরপর বিষয়টি তার মা জানতে পারলে প্রথমে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিষয়টি জানান এবং ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রী উক্ত ছাত্রীর মা উল্লেখ করেন, তিনি নিজে যখন এ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তখনও ওই শিক্ষক তার সাথেও এধরনের আচরণ করেছিলেন।
মহেশখালীয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন জানান, যদিও মেয়েটি ছোট। তারপরও অভিযোগটি গুরুতর। তদন্তের জন্য কমিটির দুই সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি আমিসহ পরিচালনা কমিটির অপর সদস্য আবদুল লতিফকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল বলেন ‘আমি বয়স্ক লোক। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরণের কোন ঘটনা-ই ঘটেনি। সম্পুর্ণ সাজানো বিষয় নিয়ে আমার নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। যা তদন্তে প্রমাণিত হবে। তাছাড়া ছাত্রী অন্য স্কুলে চলে যাওয়ার কথাও সম্পুর্ণ মিথ্যা’।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানি মুলক আচরনের এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চাকুরীকালিন তিনি ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানীমুলক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার এধরনের ঘটনার কারণে ইতিমধ্যে মহেশখালীয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান। আবার অনেক ছাত্রী চিরতরে পড়া লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এর আগে একি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ছাঁদে দিয়ে যৌন হয়রানীর অভিযোগে স্থানীয় বিচারে দন্ড প্রদান করা হয়েছিল। শুধু এ বিদ্যালয়েই নয়, বেশ কয়েক বছর আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং কেরুনতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানীমুলক আচরনের ফলে জনরোষের কবলে পড়েন। এছাড়া টেকনাফ বার্মিজ প্রাইমারি, মিঠাপানিরছড়া প্রাইমারী স্কুলসহ আরো একাধিক স্কুলে এধরনের ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।
টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন ‘এধরণের কোন অভিযোগ হাতে আসেনি। কয়েকদি আগেও আমি উক্ত স্কুল পরিদর্শন করেছি। আমার জানা মতে উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সাথে প্রধান শিক্ষকের দ্বন্ধ রয়েছে। শুনেছি কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছে। তাঁদের তদন্তে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল 

টেকনাফে এক প্রধান শিক্ষকের ভয়ে বিদ্যালয় ছাড়ছে ছাত্রীরা

আপডেট সময় : ১০:০৯:৫৩ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হাবিবুল ইসলাম হাবিব, টেকনাফ : টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়পাড়া এক প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর অভিভাবক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল প্রথম শ্রেনীর পাঠদানকালে এক ছাত্রীকে ডেকে গালে চুমু দেন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন। এসময় শ্রেনীর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের টেবিলে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ রাখতে বলেন তিনি।
গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর দাদা এই প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিতৃতুল্য শিক্ষক যদি এমন আচরণ করেন তাহলে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের তাদের অভিভাবকরা কিভাবে লেখাপড়া করাবে। তিনি আরো জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর তার নাতিনকে (সংগত কারণে নাম গোপন রাখা হলো) যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যেতে বললে সে বিদ্যালয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলনা এবং কান্নাকাটি করছিল। তারপরও জোর করে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ে গিয়েও সে ক্লাসে ঢুকতে ভয় পায় ও কান্নাকাটি করতে থাকে। এঘটনা দেখতে পেয়ে ৫ম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্রী কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি খুলে বলে। পরে বিকালে বাড়ীতে ফিরে দাদীকে পুরো ঘটনা জানায়।
এরপর বিষয়টি তার মা জানতে পারলে প্রথমে মৌখিকভাবে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিষয়টি জানান এবং ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রী উক্ত ছাত্রীর মা উল্লেখ করেন, তিনি নিজে যখন এ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তখনও ওই শিক্ষক তার সাথেও এধরনের আচরণ করেছিলেন।
মহেশখালীয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হারুন জানান, যদিও মেয়েটি ছোট। তারপরও অভিযোগটি গুরুতর। তদন্তের জন্য কমিটির দুই সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি আমিসহ পরিচালনা কমিটির অপর সদস্য আবদুল লতিফকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল বলেন ‘আমি বয়স্ক লোক। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরণের কোন ঘটনা-ই ঘটেনি। সম্পুর্ণ সাজানো বিষয় নিয়ে আমার নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। যা তদন্তে প্রমাণিত হবে। তাছাড়া ছাত্রী অন্য স্কুলে চলে যাওয়ার কথাও সম্পুর্ণ মিথ্যা’।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানি মুলক আচরনের এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চাকুরীকালিন তিনি ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানীমুলক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার এধরনের ঘটনার কারণে ইতিমধ্যে মহেশখালীয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যান। আবার অনেক ছাত্রী চিরতরে পড়া লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এর আগে একি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থাকাকালীন এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ছাঁদে দিয়ে যৌন হয়রানীর অভিযোগে স্থানীয় বিচারে দন্ড প্রদান করা হয়েছিল। শুধু এ বিদ্যালয়েই নয়, বেশ কয়েক বছর আগে টেকনাফের হোয়াইক্যং কেরুনতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানীমুলক আচরনের ফলে জনরোষের কবলে পড়েন। এছাড়া টেকনাফ বার্মিজ প্রাইমারি, মিঠাপানিরছড়া প্রাইমারী স্কুলসহ আরো একাধিক স্কুলে এধরনের ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।
টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন ‘এধরণের কোন অভিযোগ হাতে আসেনি। কয়েকদি আগেও আমি উক্ত স্কুল পরিদর্শন করেছি। আমার জানা মতে উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের সাথে প্রধান শিক্ষকের দ্বন্ধ রয়েছে। শুনেছি কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছে। তাঁদের তদন্তে প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি’।