শ্রীরাধার প্রেম, ভক্তি ও প্রার্থনার মধুর আবেশে মুখর হয়ে উঠেছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) টিএসএসসি প্রাঙ্গণ। পবিত্র রাধাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এক অপার আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে একত্রিত হয়েছিলেন ভক্তরা শ্রীরাধার জন্মতিথি উদযাপন করতে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে স্থাপিত অস্থায়ী মন্দিরে পূজা-অর্চনা শুরু হয়। পূজার পৌরহিত্যে ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী। ধর্মীয় এই উৎসবে পূজা, কীর্তন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শ্রীরাধার গুণকীর্তন ছিল মূল আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিটন বরণ শিকদার, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জয়শ্রী সেন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিপুল রায় ও ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক মিঠুন বৈরাগী। এছাড়াও পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পংকজ রায়সহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, রাধাষ্টমী হিন্দুধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি, যা ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমীতে পালিত হয়। এটি শ্রীরাধার জন্মতিথি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাধাষ্টমী পালন ছাড়া জন্মাষ্টমীর পূর্ণতা আসে না, তাই ভক্তরা এদিন উপবাস থেকে রাধা-কৃষ্ণের আরাধনায় অংশ নেন।
আল ফিকহ অ্যান্ড ল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী পাপড়ি মোদক বলেন, “রাধাষ্টমী আমাদের আত্মার সঙ্গে ঈশ্বরের সংযোগ স্থাপনের এক মহৎ সুযোগ। এমন আধ্যাত্মিক পরিবেশে নিজেকে রাধার অনুগ্রহে অভিভূত মনে হয়।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জয় দাশ বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আমাদের সংস্কৃতিচর্চাকে সমৃদ্ধ করে। তবে আমরা একটি স্থায়ী মন্দির চাই, যাতে সারা বছর পূজা-অর্চনা নির্বিঘ্নে করা যায়।”
পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পংকজ রায় বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে রাধাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই পবিত্র অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রীতি। রাধাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি প্রেম, ভক্তি ও ত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তমা শ্রীমতী রাধারাণীর জন্মদিন উপলক্ষে আমরা আজ একত্রিত হয়েছি। রাধারাণী আমাদের শিক্ষা দেন কীভাবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যায়।”
তিনি আরো বলেন, “আজকের এই পুণ্য দিনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। বর্তমান অস্থায়ী ও সীমিত পরিসরে আমাদের পূজাগুলি যথাযথভাবে উদযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান সনাতনী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে। আমরা আশাবাদী, প্রশাসন এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। রাধারাণীর চরণে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের জীবনে প্রেম, ভক্তি ও সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে দেন। সবাইকে রাধাষ্টমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
উল্লেখ্য, রাধাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা অর্ধদিবস উপবাস পালন করেন। পূজা-অর্চনা শেষে দুপুর ২টায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।