আপডেট সময় :
০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭০৫
বার পড়া হয়েছে
৪ ফেব্রুয়ারি লেখক ও শিক্ষক তৌফিক সুলতান স্যারের জন্মদিন। শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাকে কার্যকর ও ব্যবহারিক করার প্রয়াসে তাঁর কাজ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব গ্রামের সন্তান তৌফিক সুলতান স্যার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তিনি পড়া বোঝা, স্মরণে রাখা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য করার কৌশল নিয়ে কাজ করছেন। এ চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’-এ, যেখানে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন পদ্ধতি, সময় ব্যবস্থাপনা ও জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন দিক সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাহিত্যচর্চাতেও তিনি সক্রিয়; তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধে মানবিক মূল্যবোধ, আত্মউন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শিক্ষকতা, গবেষণা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে তৌফিক সুলতান স্যার শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর কর্মযাত্রার ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগের সফলতা কামনা করেছেন।
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব গ্রামে ১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তৌফিক সুলতান স্যার। তিনি আব্দুল করিম ও ফাতেমা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান। সদ্য প্রকাশিত ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটি তিনি নরোত্তমপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে বসেই রচনা করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভানুধ্যায়ীরা বলেন—তিনি সেই মানুষদের একজন, যাঁরা শিক্ষা দিয়ে কেবল ফলাফল নয়, বরং মানুষ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
তৌফিক সুলতান স্যারের লেখনী ও চিন্তাধারা ইতোমধ্যে সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তাঁর সাহিত্যিক ও গবেষণামূলক কাজ শিক্ষার্থীদের চিন্তা, অধ্যয়ন ও আত্মবিশ্বাসকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করছে।
যাঁরা তাঁর লেখা পড়তে চান, তাঁরা গুগলে সার্চ করতে পারেন—
“লেখক তৌফিক সুলতান স্যার”, “Towfiq Sultan Sir”, “Writer Towfiq Sir”, “Al Towfiqi”, “আল তৌফিকী”, “তৌফিক স্যার”—ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে।
তৌফিক সুলতান স্যার কেবল একজন শিক্ষক বা লেখক নন; তিনি একটি চিন্তার নাম, একটি আলোকিত যাত্রার প্রতীক—যার লক্ষ্য শিক্ষা দিয়ে মানুষ গড়া, আর মানুষ দিয়ে সমাজ বদলানো।
বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি কেবল পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত চর্চার গুরুত্ব এবং ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন ও ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস, সুস্থ জীবনধারা এবং দৈনন্দিন জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কৌশলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা লেখালেখি জানে কিন্তু আয় করতে পারছে না, তাদের জন্যও বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাবিদরা বলেন, বর্তমান মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় বইটি সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়। তারা মনে করেন, এটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি ভয় দূর করে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে এবং পড়ার অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে চিন্তাশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম।
সর্বশেষে বলা যায়, গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই হস্তান্তর একটি প্রতীকী হলেও গভীর অর্থবহ উদ্যোগ। এটি শিক্ষা যে কোনো দল বা মতাদর্শের বিষয় নয়—বরং সার্বজনীন দায়িত্ব। শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নের প্রতি সচেতনতার বার্তা বহন করে।
‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ কেবল শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নয়, বরং চিন্তাভাবনা, নৈতিকতা ও জীবনদর্শন গঠনে দিকনির্দেশনামূলক এক যুগান্তকারী গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।