সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বিএড প্রথম বর্ষের ফরম পূরণের সময় বাড়ালো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় Logo সুন্দরবনে ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ মৌসুম শুরু, প্রস্তুত মৌয়ালরা—তবে ডাকাত আতঙ্কে অনিশ্চয়তা Logo বীরগঞ্জে দুই সিনটা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী আটক Logo বীরগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ী হতে জ্বালানি তেল উদ্ধার Logo চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলীর যোগদান Logo পলাশবাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলার লাল সংকেত: হামলা, হত্যাকাণ্ড ও কিশোর সহিংসতায় উদ্বেগজনক চিত্র Logo নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি খুলতে হবে: ‘ট্রাম্প Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রমে গতি আনতে বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo ভান্ডারিয়ায় পূর্ব সত্রুতার জেরে হামলা আহত ১

মাদকের টাকায় পিকনিক, ওসি-এসআই ক্লোজড!

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
  • ৭৪১ বার পড়া হয়েছে

মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকেই ছাড় দেওয়া হবে না -এসপি জাহিদ
নিউজ ডেস্ক:জীবননগর উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা, সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া ও শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের জীবননগর থানা থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয় ।
জীবননগর উপজেলার শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান সাঈদের বিরুদ্ধে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন শাহাপুর ক্যাম্পের আনসার সদস্য ফারুক হোসেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার রাত ১১টার দিকে শাহপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাঈদ এবং উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতকাল বিকেলে জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়।
আনসার সদস্য ফারুক অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার সন্ধার সময় বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা এনে শাহাপুর ক্যাম্পে ভাগ করা হয়। এ সময় জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল মেহেদীকে ৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল আক্তারকে ৩ হাজার টাকা দেওয়াসহ মোট ৯৫ হাজার টাকা ভাগ করে ক্যাম্পে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া ও তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকে জানানোয় তাঁরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছি।’
এ দিকে একই অভিযোগ উঠেছে জীবননগর থানার এসআই আরিফ ও এএসআই ইমামুলের বিরুদ্ধেও। তবে এঁদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছেন না।
শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান বলেন, ‘কোনো আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেওয়া তো দূরে থাক, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক মাস, এ সময়ের মধ্যে যেসব আসামি আটক করেছি, তাঁদের জীবননগর থানায় সোর্পদ করেছি।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল বলেন, দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায় ওসি শেখ গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর ব্যর্থতার প্রমাণও পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে তাঁর অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারার অভিযোগও রয়েছে ওসি গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামানকে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব-কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জীবননগর থানার ওসি শেখ গণি মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর অধিনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়, এর দায় থানার ওসি এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু মাদকই নয়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএড প্রথম বর্ষের ফরম পূরণের সময় বাড়ালো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মাদকের টাকায় পিকনিক, ওসি-এসআই ক্লোজড!

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯

মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকেই ছাড় দেওয়া হবে না -এসপি জাহিদ
নিউজ ডেস্ক:জীবননগর উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা, সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গনি মিয়া ও শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈদকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁদের জীবননগর থানা থেকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয় ।
জীবননগর উপজেলার শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান সাঈদের বিরুদ্ধে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন শাহাপুর ক্যাম্পের আনসার সদস্য ফারুক হোসেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত রোববার রাত ১১টার দিকে শাহপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাঈদ এবং উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ না করা ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতকাল বিকেলে জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়।
আনসার সদস্য ফারুক অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার সন্ধার সময় বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা এনে শাহাপুর ক্যাম্পে ভাগ করা হয়। এ সময় জীবননগর থানার ওসি শেখ গনি মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল মেহেদীকে ৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল আক্তারকে ৩ হাজার টাকা দেওয়াসহ মোট ৯৫ হাজার টাকা ভাগ করে ক্যাম্পে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া ও তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকে জানানোয় তাঁরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছি।’
এ দিকে একই অভিযোগ উঠেছে জীবননগর থানার এসআই আরিফ ও এএসআই ইমামুলের বিরুদ্ধেও। তবে এঁদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছেন না।
শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামান বলেন, ‘কোনো আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেওয়া তো দূরে থাক, তাঁদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক মাস, এ সময়ের মধ্যে যেসব আসামি আটক করেছি, তাঁদের জীবননগর থানায় সোর্পদ করেছি।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল বলেন, দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায় ওসি শেখ গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর ব্যর্থতার প্রমাণও পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীতে তাঁর অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে না পারার অভিযোগও রয়েছে ওসি গণি মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শাহাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাহিদুজ্জামানকে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব-কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জীবননগর থানার ওসি শেখ গণি মিয়াকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর অধিনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়, এর দায় থানার ওসি এড়াতে পারে না। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোনো পুলিশ সদস্যকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু মাদকই নয়, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।