স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-
চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি। প্রতারক চক্র চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মহা বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। দিনের পর দিন ঘুরে ঘুরে উপায় না পেয়ে অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন এক ভুক্তভোগী।
অভিযোগ উঠেছে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের প্রতারক চক্রের এক সদস্য শাহানুর রহমান। এতে টাকা হারিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগি ইশরাত জাহানের পরিবার। এঘটনায় ১৪ই জানুয়ারি বুধবার ২০২৬ ইং তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখীল করেছেন ভুক্তভোগী ইশরাত জাহান।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের আইনুদ্দিনের ছেলে শাহানুর রহমান (৩৮) বিভিন্ন এলাকার লোকজনের নিকট হইতে টাকা পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রালয়ের অধীনে চাকুরি দিয়ে দেয় মর্মে প্রচার করিতে থাকে।
প্রতারক শাহানুরের সহিত অভিযোগকারী ঝিনাইদহ শহরের উপশহরপাড়ার মৃত এরশাদ আলীর কন্যা ইশরাত জাহানের ভাই এবং তার স্বামী কোটচাঁদপুরের লক্ষীপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আবু লাছের কথা হয়।
প্রতারক শাহানুর ইশরাতের স্বামী আবু লাছকে তথ্য অধিদপ্তরে ক্লারিক্যাল পদে চাকুরি দিয়ে দিবে বিনিময়ে ১০০০০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা দিতে হবে মর্মে ০৭/০৯/২৩ তারিখে ভুক্তভুগী ইশরাতের পিতার বর্তমান বাসার ঠিকানা ঝিনাইদহ শহরের উপশহর পাড়ার বাড়িতে আসিয়া সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ১০০ টাকার একটি লিখিত নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৬০০০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা ইশরাত ও তার স্বামীর নিকট হতে গ্রহণ করে। এসময় উপস্থিত সাক্ষীগণও উক্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।
পরে প্রতারক শাহিনুর ইশরাতের স্বামী আবুলাছকে কোন চাকুরির ব্যবস্থা করিতে না পারায় ইশরাত শাহনুরের নিকট তাদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে শাহানুর বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করিতে থাকে। এক পর্যায়ে ইশরাত তার স্বামী শ্বশুরের জায়গা জমি বিক্রয় করিয়া আবুলাছকে গত ইং ২৩/০১/২৫ তারিখে কুয়েতে পাঠিয়ে দেই।
কিন্তু প্রতারক শাহানুর অদ্যবধি ইশরাতদের প্রদানকৃত টাকা ফেরত দেয় নাই। মহা বিপাকে পড়ে পরবর্তিতে ইশরাত জাহান গত ইং ০৯/০১/২৬ তারিখে স্বাক্ষীদের নিয়ে প্রতারক শাহানুরের এনায়েতপুর গ্রামের বাড়িতে যাইয়া চাকুরীর জন্য প্রদানকৃত টাকা ফেরত দিতে বলিলে শাহানুর ফেরত দিতে অস্বিকার করে খুন জখমের হুমকি দিয়া তাড়িয়ে দেয়।
এঘটনায় স্বাক্ষীগণসহ এলাকার অনেক লোকজন ঘটনার বিষয় অবগত আছে বলে জানায় ইশরাত। ইশরাত জাহান আইন বিচার কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করে জানায়, এসব প্রতারক চক্রের সমস্ত সদস্যদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। যাতে করে আর কখোনো কেউ এই প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারিত হতে না পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকরী চক্রের সাথে ঝিনাইদহ এনায়েত পুরের শাহানুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার দামড়হুদা এলাকার ইনজামামুল হক, বোয়ালখালীর ফরিদপুর এলাকার সবুজ কুমার বালাসহ একাধীক প্রতারক জড়িত মর্মে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
এদিকে সরকার পরিবর্তনের আভাষ পেয়ে চাকরী চক্রের সদস্য প্রতারক শাহানুর এলাকা ত্যাগ করে নিজেকে বাঁচাতে কুমিল্লা দেবিদ্বার এলাকায় একটি প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকে পড়ে। অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা জীবননগর এলাকার ইনজামামুল হক ঢাকায় সরকারী শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধিনে এমআইএস বিভাগে ডাটা এনালিষ্ট হিসাবে কর্মরত রয়েছে।
এঘটনায় শাহানুর রহমান ও ইনজামামুল হকের মুঠোফোনে একাধীক বার কল করার পরেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ সদর থানার এসএই শিশির বলেন তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।























































