শুক্রবার | ৯ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান Logo খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ Logo খুবির শিক্ষা সমাপনীতে আসছে দেশসেরা চার ব্যান্ড Logo পলাশবাড়ীতে বিশাল আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল Logo শনিবার চাঁদপুর আসছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তামান্না হক Logo খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘২১ ব্যাচের’ শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo শিক্ষিত সমাজের সামজিক মানবিকতার অবক্ষয় এগিয়ে এলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার Logo বরিশালে আওয়ামী লীগের দু*র্ধর্ষ স*ন্ত্রাসী তারিকুল অ*স্ত্রসহ গ্রেপ্তার! Logo জীবননগর থানা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ Logo দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি

শিক্ষিত সমাজের সামজিক মানবিকতার অবক্ষয় এগিয়ে এলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৭০৭ বার পড়া হয়েছে
বায়েজিদ পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :
বার বার পুত্র ও পুত্রবধূর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী থানায় মুচলেকা দিয়েও একই অপরাধে বার বার জড়িয়ে পড়ছে পুত্র ও পুত্রবধু। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে তৃতীয় বারের মতো পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী।
৭ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে বৃদ্ধ দম্পতির নিজ বাড়িতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।  সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাতা-পিতার সাথে প্রতিনিয়ত নির্যাতন, অসদাচরণ এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছেলে এবং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এবং অভিযুক্তরা জানায়, মাহাবুব ইসলাম দোলন (৭৫) ও  হাসনা বগম (৭০) দম্পতির একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বে ও বারংবার বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে তালাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন নিজ পুত্র ও পুত্রবধূ স্কুল শিক্ষিকা সোমা আক্তার। আজ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আবারো ঘটালেন পুত্র ও পুত্রবধূ।
বুধবার সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী পৌরশহরে ঔষধ কিনতে যান অসুস্থ বৃদ্ধ এ দম্পতি। সেই সুবাদে, একমাত্র পুত্রবধূ উপজেলার সাঁতার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার বৃদ্ধ দম্পতির শয়ন ঘরে ঢুকে তাদের ব্যবহৃত শীতকালীন বস্ত্র লেপ, তোষক, কাঁথা, বালিশ কম্বলসহ ব্যবহৃত সকল আসবাবপত্র ঘর থেকে বাহির করে পানিতে ভিজিয়ে রাখে। এরপর ঘর তালা বন্ধ করে রাখে ।
বুদ্ধ দম্পতি ওষুধ কেনা শেষে বাড়িতে গেলে এমন ঘটনা দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। তাদের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা জড়ো হয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের আহম্মেদ ও অফিসার ইনচার্জ সোরোয়ারই আলমকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং অফিসার ইনচার্জ সারোয়ারে আলমকে ডেকে নেন।
এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের নিজ বাড়িতে শয়ন ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেন। এবং সকল ধরনের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে ভুয়সী প্রশংসা করেন সাংবাদিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ছেলে এবং ছেলের বউ পলাতক রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এমন ঘটনায় ইতিপূর্বেও গাইবান্ধা কোর্টে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে মায়ের করা মামলা চলাকালীন সময়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন হাসানুর। সেই সাথে বাবা মায়ের নামে চেক জালিয়াতির মামলা সহ একাধিক মামলা করেন একমাত্র ছেলে হাসানুর।
ইতিপুর্বে আরো দু দুবার পলাশবাড়ী থানায় ছেলে এবং পুত্রবধূর হাতে মুচলেকা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে ঘরে উঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বার বার পরিবারটির উপর অমানবিক নির্যাতন করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে একই সাথে শিক্ষিত ব্যক্তিদের পরিবারের এমন ঘটনায় সামাজিকভাবে ও পারিবারিক ভাবে মানবিকতায় অবক্ষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

৮নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান

শিক্ষিত সমাজের সামজিক মানবিকতার অবক্ষয় এগিয়ে এলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:০২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
বায়েজিদ পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) :
বার বার পুত্র ও পুত্রবধূর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী থানায় মুচলেকা দিয়েও একই অপরাধে বার বার জড়িয়ে পড়ছে পুত্র ও পুত্রবধু। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে তৃতীয় বারের মতো পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ী।
৭ জানুয়ারী বুধবার বিকেলে বৃদ্ধ দম্পতির নিজ বাড়িতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।  সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাতা-পিতার সাথে প্রতিনিয়ত নির্যাতন, অসদাচরণ এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ছেলে এবং পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এবং অভিযুক্তরা জানায়, মাহাবুব ইসলাম দোলন (৭৫) ও  হাসনা বগম (৭০) দম্পতির একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বে ও বারংবার বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে তালাবদ্ধ করে দিয়েছিলেন নিজ পুত্র ও পুত্রবধূ স্কুল শিক্ষিকা সোমা আক্তার। আজ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আবারো ঘটালেন পুত্র ও পুত্রবধূ।
বুধবার সন্ধ্যায় পলাশবাড়ী পৌরশহরে ঔষধ কিনতে যান অসুস্থ বৃদ্ধ এ দম্পতি। সেই সুবাদে, একমাত্র পুত্রবধূ উপজেলার সাঁতার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার বৃদ্ধ দম্পতির শয়ন ঘরে ঢুকে তাদের ব্যবহৃত শীতকালীন বস্ত্র লেপ, তোষক, কাঁথা, বালিশ কম্বলসহ ব্যবহৃত সকল আসবাবপত্র ঘর থেকে বাহির করে পানিতে ভিজিয়ে রাখে। এরপর ঘর তালা বন্ধ করে রাখে ।
বুদ্ধ দম্পতি ওষুধ কেনা শেষে বাড়িতে গেলে এমন ঘটনা দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। তাদের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা জড়ো হয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের আহম্মেদ ও অফিসার ইনচার্জ সোরোয়ারই আলমকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং অফিসার ইনচার্জ সারোয়ারে আলমকে ডেকে নেন।
এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের নিজ বাড়িতে শয়ন ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেন। এবং সকল ধরনের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে ভুয়সী প্রশংসা করেন সাংবাদিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ছেলে এবং ছেলের বউ পলাতক রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এমন ঘটনায় ইতিপূর্বেও গাইবান্ধা কোর্টে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনে মায়ের করা মামলা চলাকালীন সময়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন হাসানুর। সেই সাথে বাবা মায়ের নামে চেক জালিয়াতির মামলা সহ একাধিক মামলা করেন একমাত্র ছেলে হাসানুর।
ইতিপুর্বে আরো দু দুবার পলাশবাড়ী থানায় ছেলে এবং পুত্রবধূর হাতে মুচলেকা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে ঘরে উঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বার বার পরিবারটির উপর অমানবিক নির্যাতন করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে একই সাথে শিক্ষিত ব্যক্তিদের পরিবারের এমন ঘটনায় সামাজিকভাবে ও পারিবারিক ভাবে মানবিকতায় অবক্ষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।