দিনাজপুরে আগাম হাইব্রিড আমন ধান কাটা শুরু

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১০:০১:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  • ৭৬৫ বার পড়া হয়েছে

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম জাতের হাইব্রিড আমন ধান কর্তন শুরু হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ধান কর্তন উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান। এসময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ জুলফিকার হায়দর, উপ-পরিচালক মো: গোলাম মোস্তফা সহ বিভাগীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর দিনাজপুর অঞ্চলে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল মৌজায় ও কাহারোল উপজেলার রামপুর মৌজায় বৃহস্পতিবার হাইব্রিড আমন ধানক কর্তন শুরু হয়।
দিনাজপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান যে, এ মাসের শেষনাগাদ দিনাজপুর জেলায় ৪ হাজার হেক্টর হাইব্রিড রোপাআামন ধান কর্তণ সহ আগামী মাসের ১ম সপ্তাহ নাগাদ ৮ হাজার হেক্টর জমির হাইব্রিড রোপাআমন ধান কাটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ এবং বাজার বিশ্লেষকগণ মনে করছেন যে, এ ধরনের আগাম ধান কর্তনের ফলে বাজারে বর্তমানে চালের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা দ্রুতই কমে আসবে। দিনাজপুর জেলায় হাইব্রিড রোপাআমনের যেসব জাত চাষ করা হচ্ছে তার জীবনকাল ১১০-১২০ দিন অর্থাৎ বীজবপন থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ ১২০ দিন। এ হাইব্রিড জাতগুলো চাষ করে কৃষকরা হেক্টওে ৩.৪-৩.৯ টন (চাউলে) পর্যন্ত ফলণ পাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, জুন মাসের ১ম সপ্তাহে বীজবপন করে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ধান ঘরে তোলা যায়। এ ধান কেটে একদিকে যেমন কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে অসময়ে বাজারে ধান ও চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল ও ধানের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাছাড়া কর্তনকৃত এ সব জমিতে আগাম রবি ফসল চাষ করার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগাম চাষ ও কর্তণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা সহ এক জমিতে বৎসরে ৩ থেকে ৪টি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ধানের ন্যায্যমুল্য পেলে এবং একজমিতে বৎসরে তিনের অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে ও দেশে সার্বিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আগাম হাইব্রিড আমন ধান কাটা শুরু

আপডেট সময় : ১০:০১:৫৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম জাতের হাইব্রিড আমন ধান কর্তন শুরু হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ধান কর্তন উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল হান্নান। এসময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ জুলফিকার হায়দর, উপ-পরিচালক মো: গোলাম মোস্তফা সহ বিভাগীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর দিনাজপুর অঞ্চলে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল মৌজায় ও কাহারোল উপজেলার রামপুর মৌজায় বৃহস্পতিবার হাইব্রিড আমন ধানক কর্তন শুরু হয়।
দিনাজপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান যে, এ মাসের শেষনাগাদ দিনাজপুর জেলায় ৪ হাজার হেক্টর হাইব্রিড রোপাআামন ধান কর্তণ সহ আগামী মাসের ১ম সপ্তাহ নাগাদ ৮ হাজার হেক্টর জমির হাইব্রিড রোপাআমন ধান কাটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ এবং বাজার বিশ্লেষকগণ মনে করছেন যে, এ ধরনের আগাম ধান কর্তনের ফলে বাজারে বর্তমানে চালের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা দ্রুতই কমে আসবে। দিনাজপুর জেলায় হাইব্রিড রোপাআমনের যেসব জাত চাষ করা হচ্ছে তার জীবনকাল ১১০-১২০ দিন অর্থাৎ বীজবপন থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ ১২০ দিন। এ হাইব্রিড জাতগুলো চাষ করে কৃষকরা হেক্টওে ৩.৪-৩.৯ টন (চাউলে) পর্যন্ত ফলণ পাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, জুন মাসের ১ম সপ্তাহে বীজবপন করে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ ধান ঘরে তোলা যায়। এ ধান কেটে একদিকে যেমন কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে অসময়ে বাজারে ধান ও চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাল ও ধানের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাছাড়া কর্তনকৃত এ সব জমিতে আগাম রবি ফসল চাষ করার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগাম চাষ ও কর্তণের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা সহ এক জমিতে বৎসরে ৩ থেকে ৪টি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ধানের ন্যায্যমুল্য পেলে এবং একজমিতে বৎসরে তিনের অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে ও দেশে সার্বিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।