শিরোনাম :
Logo শেরপুরে পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবির Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশীকে আটক করে বিজিবির হাতে দিল বিএসএফ Logo তরুণরাই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত পুনর্গঠন করবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo সিরাজগঞ্জে সড়কদ্বীপে আগাছা পরিস্কার Logo চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ৫ম বই উপহার মাস ঘোষণা Logo অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করতে চান হিরো মনির Logo কয়রায় সিপিপির আড়ালে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ Logo চাঁদপুর সদর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সলের যোগদান Logo খুবিতে আন্তঃডিসিপ্লিন কুইজ প্রতিযোগিতা শুরু Logo মৃত্যুদণ্ড বজায় রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

কালীগঞ্জে একমুঠো ভাতের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে কে এই বৃদ্ধা?

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৭ আগস্ট ২০২২
  • ৭৫২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার এলাকায় ৭০ বছরের উর্ধে বয়সের ক্ষুধা পেটে অসুস্থ অসহায় উদভান্ত এক মা। নিয়তির নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে একমুঠো ভাতের জন্য কখনো মানুষের বাড়িতে, বাজারে, রাস্তায় অথবা কখনো ওলিতে গলিতে এই অসহায় মায়ের বিচরণ।

পরনে মলিন একটুকরো কাপড়, উদাস দৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরে তার সেই চেনা মুখ গুলো। হয়তো তারও ছিল সাজানো গোছানো সুখের সংসার, ছেলে মেয়ে আত্বীয়-স্বজন। এখন তার আর কেউ নেই, কি নির্দয় নিদারুন মানবেতর জীবন-যাপন। তিনি শুধু দু’ বেলা একটু খাবারের জন্য রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোন বিত্তশালীর বাড়ির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে আর ফ্যালফ্যাল করে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে একটু সহানুভূতির জন্য, একমুঠো ভাতের জন্য। রুগ্ন শরীর কথা ঠিকমত বলতে পারেন না।

স্থানীয়রা তার বাড়ি বা পরিবারের ঠিকানা বলতে পারেন না। মাঝে মধ্যে দেখা মিলে উপজেলার কোলা বাজার এলাকার রাস্তায় এবং মানুষের বাড়িতে বাড়িতে একমুঠো ভাতের জন্য অপেক্ষা করতে। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন-আল-আজাদ বলেন, আমিও ঐ বৃদ্ধ মহিলাকে কোলা বাজারে দেখেছি নাম ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম জবাবে উনি বলেন সহিদুল আমার ভাই আর আমার বাড়ি কোলায়।

এরপর আমি কোলা এলাকায় ঐ ধরনের কাউকে খোঁজ করে পায়নি। তিনি বলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কোলা নামে একটা গ্রাম আছে আমি সেখানোও লোক মারফৎ খোঁজ নিয়েছি কিন্তু কেউ সঠিক ভাবে তার পারিবার এবং বাড়ির সন্ধান দিতে পারেননি। অসহায় বৃদ্ধার সহযোগীতার বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কথা বলেছি। আসলে আমাদের উপজেলায় এই ধরনের মিসকিনদের রাখার কোন ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরো বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে উনাকে ঠিকমত পাওয়া যায় না। একদিন দেখা মিললে পরবর্তি ৬দিন আর পাওয়া যায় না। আবার হঠাৎ করে দেখা মেলে একমুঠো ভাতের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে। আমি সবাইকে বলে রাখছি আবার যদি কোলা এলাকায় তার দেখা মেলে তাহলে আমাকে জানাতে। তার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বলে কিছু একটা ব্যবস্থা করা য়ায় কিনা আমি চেষ্ঠা করবো।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রশিবির

কালীগঞ্জে একমুঠো ভাতের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে কে এই বৃদ্ধা?

আপডেট সময় : ১১:১০:১১ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৭ আগস্ট ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার এলাকায় ৭০ বছরের উর্ধে বয়সের ক্ষুধা পেটে অসুস্থ অসহায় উদভান্ত এক মা। নিয়তির নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে একমুঠো ভাতের জন্য কখনো মানুষের বাড়িতে, বাজারে, রাস্তায় অথবা কখনো ওলিতে গলিতে এই অসহায় মায়ের বিচরণ।

পরনে মলিন একটুকরো কাপড়, উদাস দৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরে তার সেই চেনা মুখ গুলো। হয়তো তারও ছিল সাজানো গোছানো সুখের সংসার, ছেলে মেয়ে আত্বীয়-স্বজন। এখন তার আর কেউ নেই, কি নির্দয় নিদারুন মানবেতর জীবন-যাপন। তিনি শুধু দু’ বেলা একটু খাবারের জন্য রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোন বিত্তশালীর বাড়ির সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে আর ফ্যালফ্যাল করে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে একটু সহানুভূতির জন্য, একমুঠো ভাতের জন্য। রুগ্ন শরীর কথা ঠিকমত বলতে পারেন না।

স্থানীয়রা তার বাড়ি বা পরিবারের ঠিকানা বলতে পারেন না। মাঝে মধ্যে দেখা মিলে উপজেলার কোলা বাজার এলাকার রাস্তায় এবং মানুষের বাড়িতে বাড়িতে একমুঠো ভাতের জন্য অপেক্ষা করতে। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন-আল-আজাদ বলেন, আমিও ঐ বৃদ্ধ মহিলাকে কোলা বাজারে দেখেছি নাম ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম জবাবে উনি বলেন সহিদুল আমার ভাই আর আমার বাড়ি কোলায়।

এরপর আমি কোলা এলাকায় ঐ ধরনের কাউকে খোঁজ করে পায়নি। তিনি বলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কোলা নামে একটা গ্রাম আছে আমি সেখানোও লোক মারফৎ খোঁজ নিয়েছি কিন্তু কেউ সঠিক ভাবে তার পারিবার এবং বাড়ির সন্ধান দিতে পারেননি। অসহায় বৃদ্ধার সহযোগীতার বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কথা বলেছি। আসলে আমাদের উপজেলায় এই ধরনের মিসকিনদের রাখার কোন ব্যবস্থা নেই।

তিনি আরো বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে উনাকে ঠিকমত পাওয়া যায় না। একদিন দেখা মিললে পরবর্তি ৬দিন আর পাওয়া যায় না। আবার হঠাৎ করে দেখা মেলে একমুঠো ভাতের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে। আমি সবাইকে বলে রাখছি আবার যদি কোলা এলাকায় তার দেখা মেলে তাহলে আমাকে জানাতে। তার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বলে কিছু একটা ব্যবস্থা করা য়ায় কিনা আমি চেষ্ঠা করবো।