বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত Logo সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত Logo  পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ তিন বছরেও চালু হয়নি, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরও অগ্রগতি শূন্য Logo চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় সভা Logo চাঁদপুরে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর রমজানের ফুড প্যাকেজ বিতরণ Logo খুব দ্রুতই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে কয়রাবাসী – স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি Logo জীবননগরে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা Logo শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ নয় জন

লটকনের পুষ্টিগুণ !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৭ আগস্ট ২০১৭
  • ৭৯৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

লটকনকে ইংরেজিতে বলা হয় বার্মিজ গ্রেপ। টক-মিষ্টি ফল লটকন আমাদের দেশে অনেকের কাছে প্রিয় একটি ফলে পরিণত হয়েছে।

লটকন এখন শুধু অতি পরিচিত ফলই নয় বরং অতি প্রয়োজনীয় ফলে পরিচিতি লাভ করেছে। লটকন খেলে মুখে রুচি আসে। লটকন গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিক চাষ হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি বেশ উপযোগী লটকন উৎপাদনের জন্য।

লটকন উৎপাদন এলাকা
বাংলাদেশের সর্বত্র এ ফলের চাষ হলেও নরসিংদী, গাজীপুর, নেত্রকোনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বেশি চাষ হয়। বেশি লাভের কারণে নরসিংদীর শিবপুর, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলার শত শত চাষি বর্তমানে লটকন চাষ করে অর্থনৈতিক সাফল্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

লটকন ফলের পুষ্টিগুণ
লটকনে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে আমিষ, চর্বি, লৌহ এবং খনিজ পদার্থ। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের খাদ্যশক্তি প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন বি-২: ০.২০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১: ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম। লটকনে ভিটামিন ‘সি’ আছে প্রচুর। সিজনের সময় প্রতিদিন ২-৩টি লটকন খেলে দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। লটকন খেলে বমি বমি ভাব দূর হয়। গরমে তৃষ্ণাও নিবারণ হয়। এটি খেলে মানসিক অবসাদ দূর হয়। লটকন গাছের ছাল এবং পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়ে যায়। লটকন গাছের শুকনো ও গুঁড়া পাতা ডায়রিয়া উপশম করে। গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের পীড়া এবং পুরানো জ্বরও নিরাময় হয়। গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই লটকনের বীজ। লটকন মুখের রুচি বাড়ায়। লটকন শিশু এবং মেয়েদের একটি প্রিয় ফল। তবে লটকন বেশি খেলে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, লটকন এখন আর অবহেলিত ফল নয়। লটকন রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলচাষি ও ভোক্তা সাধারণের কাছে ফলটির পরিচয়, পুষ্টিগুণ, চাষ প্রণালি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব যদি সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়, তবে সারা দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লটকনের চাষ সম্প্রসারণ করা যাবে এবং দেশে ফল ও পুষ্টি চাহিদার সামান্য অংশ হলেও পূরণ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

লটকনের পুষ্টিগুণ !

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৭ আগস্ট ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

লটকনকে ইংরেজিতে বলা হয় বার্মিজ গ্রেপ। টক-মিষ্টি ফল লটকন আমাদের দেশে অনেকের কাছে প্রিয় একটি ফলে পরিণত হয়েছে।

লটকন এখন শুধু অতি পরিচিত ফলই নয় বরং অতি প্রয়োজনীয় ফলে পরিচিতি লাভ করেছে। লটকন খেলে মুখে রুচি আসে। লটকন গাছ দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিক চাষ হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি বেশ উপযোগী লটকন উৎপাদনের জন্য।

লটকন উৎপাদন এলাকা
বাংলাদেশের সর্বত্র এ ফলের চাষ হলেও নরসিংদী, গাজীপুর, নেত্রকোনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেটে বেশি চাষ হয়। বেশি লাভের কারণে নরসিংদীর শিবপুর, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলার শত শত চাষি বর্তমানে লটকন চাষ করে অর্থনৈতিক সাফল্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

লটকন ফলের পুষ্টিগুণ
লটকনে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে আমিষ, চর্বি, লৌহ এবং খনিজ পদার্থ। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের খাদ্যশক্তি প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন বি-২: ০.২০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-১: ১০ দশমিক ০৪ মিলিগ্রাম। লটকনে ভিটামিন ‘সি’ আছে প্রচুর। সিজনের সময় প্রতিদিন ২-৩টি লটকন খেলে দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। লটকন খেলে বমি বমি ভাব দূর হয়। গরমে তৃষ্ণাও নিবারণ হয়। এটি খেলে মানসিক অবসাদ দূর হয়। লটকন গাছের ছাল এবং পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়ে যায়। লটকন গাছের শুকনো ও গুঁড়া পাতা ডায়রিয়া উপশম করে। গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের পীড়া এবং পুরানো জ্বরও নিরাময় হয়। গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে এই লটকনের বীজ। লটকন মুখের রুচি বাড়ায়। লটকন শিশু এবং মেয়েদের একটি প্রিয় ফল। তবে লটকন বেশি খেলে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, লটকন এখন আর অবহেলিত ফল নয়। লটকন রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলচাষি ও ভোক্তা সাধারণের কাছে ফলটির পরিচয়, পুষ্টিগুণ, চাষ প্রণালি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব যদি সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়, তবে সারা দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লটকনের চাষ সম্প্রসারণ করা যাবে এবং দেশে ফল ও পুষ্টি চাহিদার সামান্য অংশ হলেও পূরণ করা সম্ভব হবে।