বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত Logo সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত Logo  পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ তিন বছরেও চালু হয়নি, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরও অগ্রগতি শূন্য Logo চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় সভা Logo চাঁদপুরে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর রমজানের ফুড প্যাকেজ বিতরণ Logo খুব দ্রুতই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে কয়রাবাসী – স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি Logo জীবননগরে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা Logo শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ নয় জন

নীরব ঘাতক সুপারি-চুন !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭
  • ৮১২ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

সুপারি ছাড়া পান খাওয়াই অচল। সুপারি আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কাঁচা কিংবা শুকনা, পানপাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়। পানের খিলিতে সাধারণত চুন, পানপাতা, এলাচি বা দারচিনির মতো মশলা এবং তামাকের সাথে মিশিয়ে এই খিলি তৈরি করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এই সুপারি প্রায় ৬ কাপ কফির সমান কার্যকর। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ এই সুপারি খান। কোথাও কোথাও আবার এই সুপারিকে ভালোবাসার প্রতীক এবং বদহজম ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার প্রতিকার হিসেবে দেখা হয়।

আমরা অনেকেই জানি না এই সুপারিই প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষের মৃত্যুরও কারণ হচ্ছে। এর কার্যক্ষমতা এতটাই বেশি যে নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনের পাশাপাশি একেও মতিবিভ্রমকারী মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আমাদের দেশে সাধারনত কর্মক্ষম নারী ও পুরুষদের মাঝেই সুপারি খাওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে কাজের ক্ষেত্রে যেমন, গাড়ি চালানো, মাছ ধরা কিংবা নির্মাণকাজের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য পানের সাথে তারা সুপারি চিবান। তবে মাত্রাতিরিক্ত সুপারি খাওয়া ফলে অনেকের মুখে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এশিয়ার যে কয়টি এলাকায় সুপারি খুব বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যে একটি তাইওয়ান। সেখানে সুপারিকে বলা হয় ‘তাইওয়ানের চুইংগাম’।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মুখের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হান লিয়াং-জুন বলেন, ‘অর্ধেক মানুষ এখনো জানেই না যে সুপারি মুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ।’ আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা এসব উপাদানের মধ্যে এলাচ এবং দারচিনি ছাড়া বাকি সব উপাদানকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

চুনকে বিশেষ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতর ছোট-ছোট অনেক ক্ষত তৈরি হতে পারে। ক্যানসার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদান এসব ক্ষতের মাধ্যমে চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

সময় থাকতেই সুপারি এবং চুনের মিশ্রণকে না করে দেওয়া উচিত।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নীরব ঘাতক সুপারি-চুন !

আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

সুপারি ছাড়া পান খাওয়াই অচল। সুপারি আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কাঁচা কিংবা শুকনা, পানপাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়। পানের খিলিতে সাধারণত চুন, পানপাতা, এলাচি বা দারচিনির মতো মশলা এবং তামাকের সাথে মিশিয়ে এই খিলি তৈরি করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এই সুপারি প্রায় ৬ কাপ কফির সমান কার্যকর। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ এই সুপারি খান। কোথাও কোথাও আবার এই সুপারিকে ভালোবাসার প্রতীক এবং বদহজম ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার প্রতিকার হিসেবে দেখা হয়।

আমরা অনেকেই জানি না এই সুপারিই প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষের মৃত্যুরও কারণ হচ্ছে। এর কার্যক্ষমতা এতটাই বেশি যে নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনের পাশাপাশি একেও মতিবিভ্রমকারী মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আমাদের দেশে সাধারনত কর্মক্ষম নারী ও পুরুষদের মাঝেই সুপারি খাওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে কাজের ক্ষেত্রে যেমন, গাড়ি চালানো, মাছ ধরা কিংবা নির্মাণকাজের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য পানের সাথে তারা সুপারি চিবান। তবে মাত্রাতিরিক্ত সুপারি খাওয়া ফলে অনেকের মুখে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এশিয়ার যে কয়টি এলাকায় সুপারি খুব বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যে একটি তাইওয়ান। সেখানে সুপারিকে বলা হয় ‘তাইওয়ানের চুইংগাম’।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মুখের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হান লিয়াং-জুন বলেন, ‘অর্ধেক মানুষ এখনো জানেই না যে সুপারি মুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ।’ আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা এসব উপাদানের মধ্যে এলাচ এবং দারচিনি ছাড়া বাকি সব উপাদানকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

চুনকে বিশেষ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতর ছোট-ছোট অনেক ক্ষত তৈরি হতে পারে। ক্যানসার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদান এসব ক্ষতের মাধ্যমে চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

সময় থাকতেই সুপারি এবং চুনের মিশ্রণকে না করে দেওয়া উচিত।