রবিবার | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা Logo টেকনাফে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সন্ত্রাসী আটক Logo মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর আটক: Logo সাতক্ষীরা-০২ এ ধানের শীষের জয়ে নতুন অধ্যায়—বিএনপির একতাবদ্ধ ঘোষণা Logo বুটেক্স অ্যালামনাই ইউএসএ-এর আত্মপ্রকাশ: যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মিলনমেলা ও কমিটি গঠন Logo বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন আগামী ২৭ ডিসেম্বর Logo রাবিতে ইলা মিত্রকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবির সঙ্গে তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo নোবিপ্রবিতে গবেষণা, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ

মানসিক চাপ দূর করতে এবার ‘গরু থেরাপি’ !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট ২০১৭
  • ৭৮৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

সুইজারল্যান্ডে তীব্র মানসিক চাপ থেকে চাপ মুক্ত করবে এই ‘গরু’। এই দেশে পাবেন গরুর সান্নিধ্যে থেকে মানসিক চাপ দূর করার থেরাপি। আশ্চর্য এই থেরাপির নাম ‘কাউ কাডলিং থেরাপি’।

জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট শহর টেনিনক্যানে বাস করে সিবিল ইয়ুগার্টের পরিবার। পারিবারিক ভাবেই তারা গরু প্রতিপালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে তাদের খামারে প্রায় একই সময়ে তিনটি গাভী তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু কিছু দিন যেতেই সিবিল ইয়ুগার্টের বাবা বুঝতে পারলেন তিনটির কোনোটাই তাদের দুগ্ধ ব্যবসার জন্য উপকারি নয়। তিনি খুব হতাশ হলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনটি বাচ্চাই কসাই খানায় বিক্রি করে দেবেন।

কিন্তু বাবার এই এই পরিকল্পনায় বাদ সাধেন সিবিল। তিনি গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সিবিলের অনুরোধে তার বাবা গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে সিবিলকেই গরু তিনটির দেখাশোনা করতে হবে।

বাবার শর্ত মেনে নিয়ে সিবিল দিনের অধিকাংশ সময় গরু তিনটির দেখাশোনা শুরু করেন। কিন্তু দিন যতই যায় সিবিলের কপালে চিন্তার ভাজ পড়তে শুরু করে। তিনি ভাবতে থাকেন এই বাড়ন্ত গরুর খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মেটাতে কি করা যায় সেটি নিয়ে।

ভাবতে ভাবতে সিবিলের মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি একটি ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক করার পরিকল্পনা করেন। যে সমস্ত বাচ্চারা কখনো গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া পাইনি তারা সেখানে বেড়াতে আসবে, গরুর সঙ্গে সময় কাটাবে, তারা শিখবে কীভাবে দুধ উৎপাদন হয়, কীভাবে খামারে গবাদি পশু প্রতিপালিত হয় ইত্যাদি।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। তিনি গরুগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেন, যেন গরুগুলো আরো বেশি নিরীহ ও মিশুক হয় এবং বাচ্চাদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পার্কটি সাত বছরের বেশি বয়সি বাচ্চাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। একজন বাচ্চা ৫ সুইস ফ্রা দিয়ে গরুগুলোর সঙ্গে সারাদিন কাটানোর সময় পায়। এভাবেই সিবিলের ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্কের শুরু।

এভাবেই চলে কিছু দিন। কয়েক দিন যাওয়ার পর সিবিল লক্ষ্য করলেন, তার পার্কে আসা বাচ্চারা যখন পার্কে আসে তখন যেরকম নিস্তেজ থাকে ফিরে যাবার সময় তারা গরুগুলোর সান্নিধ্যে কাটানোর প্রভাবে অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

সিবিল তার এই পর্যবেক্ষণ থেকেই সিদ্ধান্ত নিলেন এই পদ্ধতি তিনি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ওপর প্রয়োগ করবেন। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তিনি সফল হলেন। তিনি দেখলেন বয়স্করা গরুর সান্নিধ্যে সময় কাটানোর ফলে তাদের মানসিক চাপ দূর করে অনেক বেশি চনমনে হয়েউঠছেন।

বর্তমানে ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক থেকে সিবিল বেশ মোটা অংকের টাকা আয় করেন। দু’ঘণ্টার একটি কাউ কাডলিং সেশনের জন্য একজন বয়স্ক আগ্রহীকে মানুষকে গুনতে হয় ৫০ সুইস ফ্রা। ফলে সিবিল ইয়ুগার্ট ও তার পরিবার যে গরু নিয়ে চিন্তিত ছিল সেই গরু নিয়েই এখন রীতিমতো গর্ব করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা

মানসিক চাপ দূর করতে এবার ‘গরু থেরাপি’ !

আপডেট সময় : ১২:২৩:০৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

সুইজারল্যান্ডে তীব্র মানসিক চাপ থেকে চাপ মুক্ত করবে এই ‘গরু’। এই দেশে পাবেন গরুর সান্নিধ্যে থেকে মানসিক চাপ দূর করার থেরাপি। আশ্চর্য এই থেরাপির নাম ‘কাউ কাডলিং থেরাপি’।

জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট শহর টেনিনক্যানে বাস করে সিবিল ইয়ুগার্টের পরিবার। পারিবারিক ভাবেই তারা গরু প্রতিপালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে তাদের খামারে প্রায় একই সময়ে তিনটি গাভী তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু কিছু দিন যেতেই সিবিল ইয়ুগার্টের বাবা বুঝতে পারলেন তিনটির কোনোটাই তাদের দুগ্ধ ব্যবসার জন্য উপকারি নয়। তিনি খুব হতাশ হলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনটি বাচ্চাই কসাই খানায় বিক্রি করে দেবেন।

কিন্তু বাবার এই এই পরিকল্পনায় বাদ সাধেন সিবিল। তিনি গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সিবিলের অনুরোধে তার বাবা গরু তিনটিকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে সিবিলকেই গরু তিনটির দেখাশোনা করতে হবে।

বাবার শর্ত মেনে নিয়ে সিবিল দিনের অধিকাংশ সময় গরু তিনটির দেখাশোনা শুরু করেন। কিন্তু দিন যতই যায় সিবিলের কপালে চিন্তার ভাজ পড়তে শুরু করে। তিনি ভাবতে থাকেন এই বাড়ন্ত গরুর খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মেটাতে কি করা যায় সেটি নিয়ে।

ভাবতে ভাবতে সিবিলের মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি একটি ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক করার পরিকল্পনা করেন। যে সমস্ত বাচ্চারা কখনো গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া পাইনি তারা সেখানে বেড়াতে আসবে, গরুর সঙ্গে সময় কাটাবে, তারা শিখবে কীভাবে দুধ উৎপাদন হয়, কীভাবে খামারে গবাদি পশু প্রতিপালিত হয় ইত্যাদি।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। তিনি গরুগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেন, যেন গরুগুলো আরো বেশি নিরীহ ও মিশুক হয় এবং বাচ্চাদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পার্কটি সাত বছরের বেশি বয়সি বাচ্চাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। একজন বাচ্চা ৫ সুইস ফ্রা দিয়ে গরুগুলোর সঙ্গে সারাদিন কাটানোর সময় পায়। এভাবেই সিবিলের ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্কের শুরু।

এভাবেই চলে কিছু দিন। কয়েক দিন যাওয়ার পর সিবিল লক্ষ্য করলেন, তার পার্কে আসা বাচ্চারা যখন পার্কে আসে তখন যেরকম নিস্তেজ থাকে ফিরে যাবার সময় তারা গরুগুলোর সান্নিধ্যে কাটানোর প্রভাবে অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

সিবিল তার এই পর্যবেক্ষণ থেকেই সিদ্ধান্ত নিলেন এই পদ্ধতি তিনি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ওপর প্রয়োগ করবেন। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তিনি সফল হলেন। তিনি দেখলেন বয়স্করা গরুর সান্নিধ্যে সময় কাটানোর ফলে তাদের মানসিক চাপ দূর করে অনেক বেশি চনমনে হয়েউঠছেন।

বর্তমানে ক্যাটেল থিমড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক থেকে সিবিল বেশ মোটা অংকের টাকা আয় করেন। দু’ঘণ্টার একটি কাউ কাডলিং সেশনের জন্য একজন বয়স্ক আগ্রহীকে মানুষকে গুনতে হয় ৫০ সুইস ফ্রা। ফলে সিবিল ইয়ুগার্ট ও তার পরিবার যে গরু নিয়ে চিন্তিত ছিল সেই গরু নিয়েই এখন রীতিমতো গর্ব করছেন।