সোমবার | ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এপেক্স সাঈদ আহসান , সম্পাদক সাংবাদিক অপু চৌধুরী Logo পরিকল্পিতভাবে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে, অভিযোগ শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেলের  Logo ব্রাকসু নির্বাচনের চতুর্থত বার পুনঃতফসিল ঘোষণা  Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম: পরিদর্শনে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য Logo গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি Logo যৌন নিপীড়নের দায়ে খুবি শিক্ষককে দুই বছরের অব্যাহিত  Logo বারিষাব ইউনিয়নের ১০৩/৭৭ আল-তৌফিকী সড়ক পাকা ও আধুনিকীকরণের জরুরি প্রয়োজন Logo মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার, অপহরণকারী আটক Logo রাকসুর উদ্যোগে সুপেয় পানির ফিল্টার স্থাপন Logo গণভোট উপলক্ষে পলাশবাড়ীতে গণসচেতনতায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও লিফলেট বিতরণ 

ইবি অভয়ারণ্যের শরৎ সম্ভাষণ: “গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও বায়োস্কোপের রঙিন আবেশ”

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের মৌসুমকে বরণ করে নিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য আয়োজন করল ভিন্নধর্মী মেলা— “শরৎ সম্ভাষণ”। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র ডায়না চত্বর যেন পরিণত হয়েছিল আনন্দ, স্মৃতি আর ঐতিহ্যের মিলনমেলায়।
শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠা চত্বরে ছিল নানা আয়োজন। সবার চোখে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল বায়োস্কোপ—যা মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ মেলার দিনগুলিকে। আধুনিক প্রজন্মের কাছে প্রায় বিস্মৃত এই বিনোদন মাধ্যমটিই হয়ে ওঠে মেলার অন্যতম আকর্ষণ। শুধু তাই নয়, মাটির হাড়ি-পাতিল, আসবাবপত্র, আর শিক্ষার্থীদের জন্য আনা দোলনা যেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল শৈশবের সেই অমলিন দিনে।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর ভাষায়, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতি টানকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়ে দেয় এ ধরনের উদ্যোগ।
অভয়ারণ্যের সহ-অর্থ সম্পাদক সাদিয়া সাবরিনা বলেন, “আমরা পরিবেশবান্ধব উপায়ে মেলাকে সাজিয়েছি। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলগুলো ব্যবহার করে নতুনভাবে সাজসজ্জা করেছি। এর মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই—অপচয় নয়, পুনঃব্যবহারই পারে পরিবেশকে রক্ষা করতে।”
তিনি আরও জানান, খালি পাখির খাঁচা প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, “পাখি আকাশের মুক্ত প্রাণী, তাকে বন্দি রাখা মানেই প্রকৃতিকেই বদ্ধ রাখা।”
অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইসতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, “আজকের মেলার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই থাকে প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। এই বায়োস্কোপের মাধ্যমে আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি বাংলা সাহিত্যের পালাবদল—যেখানে হিন্দুয়ানী কবি ও মুসলমানী কবিদের মধ্যে এক সুন্দর সাংস্কৃতিক মিশ্রণ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে ফুটে উঠেছে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা।
আজকের বায়োস্কোপে আমরা দুটি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছি। প্রথমত, আমাদের ঐতিহ্য—যা আমাদের পরিচয়কে দৃশ্যমান করে। দ্বিতীয়ত, সাহিত্যের সঙ্গে স্বাধীনতার সম্পর্ক—যা মনে করিয়ে দেয়, আমরা যদি আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও কল্পকাহিনীর চর্চা করি, তবে তবেই প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারব।”
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সভাপতি এপেক্স সাঈদ আহসান , সম্পাদক সাংবাদিক অপু চৌধুরী

ইবি অভয়ারণ্যের শরৎ সম্ভাষণ: “গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও বায়োস্কোপের রঙিন আবেশ”

আপডেট সময় : ১০:৫২:৪২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের মৌসুমকে বরণ করে নিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য আয়োজন করল ভিন্নধর্মী মেলা— “শরৎ সম্ভাষণ”। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র ডায়না চত্বর যেন পরিণত হয়েছিল আনন্দ, স্মৃতি আর ঐতিহ্যের মিলনমেলায়।
শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠা চত্বরে ছিল নানা আয়োজন। সবার চোখে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল বায়োস্কোপ—যা মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ মেলার দিনগুলিকে। আধুনিক প্রজন্মের কাছে প্রায় বিস্মৃত এই বিনোদন মাধ্যমটিই হয়ে ওঠে মেলার অন্যতম আকর্ষণ। শুধু তাই নয়, মাটির হাড়ি-পাতিল, আসবাবপত্র, আর শিক্ষার্থীদের জন্য আনা দোলনা যেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল শৈশবের সেই অমলিন দিনে।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর ভাষায়, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতি টানকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়ে দেয় এ ধরনের উদ্যোগ।
অভয়ারণ্যের সহ-অর্থ সম্পাদক সাদিয়া সাবরিনা বলেন, “আমরা পরিবেশবান্ধব উপায়ে মেলাকে সাজিয়েছি। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলগুলো ব্যবহার করে নতুনভাবে সাজসজ্জা করেছি। এর মাধ্যমে আমরা দেখাতে চাই—অপচয় নয়, পুনঃব্যবহারই পারে পরিবেশকে রক্ষা করতে।”
তিনি আরও জানান, খালি পাখির খাঁচা প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, “পাখি আকাশের মুক্ত প্রাণী, তাকে বন্দি রাখা মানেই প্রকৃতিকেই বদ্ধ রাখা।”
অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইসতিয়াক ফেরদৌস ইমন বলেন, “আজকের মেলার মাধ্যমে আমরা প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই থাকে প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। এই বায়োস্কোপের মাধ্যমে আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি বাংলা সাহিত্যের পালাবদল—যেখানে হিন্দুয়ানী কবি ও মুসলমানী কবিদের মধ্যে এক সুন্দর সাংস্কৃতিক মিশ্রণ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে ফুটে উঠেছে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা।
আজকের বায়োস্কোপে আমরা দুটি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছি। প্রথমত, আমাদের ঐতিহ্য—যা আমাদের পরিচয়কে দৃশ্যমান করে। দ্বিতীয়ত, সাহিত্যের সঙ্গে স্বাধীনতার সম্পর্ক—যা মনে করিয়ে দেয়, আমরা যদি আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও কল্পকাহিনীর চর্চা করি, তবে তবেই প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারব।”