শিরোনাম :

মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও, উত্তেজনা!

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:১০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
  • ৭৩২ বার পড়া হয়েছে

অফিস সহকারী জাহিদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে জমি খারিজের নামে অফিস সহকারী জাহিদের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ কর্মরত আছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন জমি খারিজ, নামজারি, দলিল তোলাসহ বিভিন্ন কাজ করেন জাহিদের মাধ্যমে। এ সুযোগে জেহালা ইউনিয়নসহ পার্শ¦বর্তী বাড়াদী ও নাগদাহ ইউনিয়নের প্রায় ১০০ মানুষের নিকট থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমি খারিজের নামে হাতিয়ে নেন জাহিদ। এসব জমির মালিকেরা কয়েক বছর যাবৎ মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে ঘুরলেও মেলে না তাঁদের জমি খারিজের কাগজ। যেখানে সরকারি আইন অনুযায়ী ১১৭০ টাকা নেওয়ার কথা, সেখানে জাহিদ প্রায় কয়েক গুণ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
কয়েক মাস পূর্বে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ জাহিদের নিকট জমি খারিজের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে অফিস থেকে গা ঢাকা দেন জাহিদ। এ ঘটনাটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানলে তিনি জাহিদকে শোকজ করেন। জাহিদ ভূমি কর্মকর্তার শোকজের কাগজ গ্রহণ না করেই পালিয়ে বেড়ান। এ কারণে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন গ্রামের লোকজন মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। এতে করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, জমি খারিজের কথা বলে জোড়গাছা গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে খোদা বক্সের নিকট থেকে ৩ মাস আগে ৩ হাজার টাকা, নতিডাঙ্গার মৃত বাদলের স্ত্রী রসুলা খাতুনের কাছ থেকে ৫ বছর আগে ৩ হাজার টাকা, একই গ্রামের মৃত হবিবরের ছেলে মহাবুলের নিকট থেকে ৫ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, মৃত মহাব্বতের ছেলে শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ১ বছর আগে ৪ হাজার ৫ শ টাকা, গড়গড়ি গ্রামের বাসুদের ছেলে বাবন কুমারের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, একই গ্রামের মৃত নয়ন ম-লের ছেলে মানোয়ারের কাছ থেকে ৩ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, মৃত আপিল উদ্দিনের ছেলে মহির উদ্দিনের নিকট থেকে ১৬ মাস আগে ৩ হাজার ৫ শ টাকা, সিহাজ উদ্দিনের ছেলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, আত্তাব আলীর ছেলে জালালের নিকট থেকে ৩ মাস আগে ৫ হাজার ৭ শ টাকা, গড়চাপড়া গ্রামের মৃত আইন আলীর ছেলে রকিবুল ইসলামের নিকট থেকে ৪ মাস আগে ১ হাজার টাকা, খুদিয়াখালীর সংকরের ছেলে সুজিত কুমারের নিকট থেকে ১০ মাস আগে ৩ হাজার টাকা, ছোটপুটিমারীর মৃত সবেদ আলীর ছেলে সোনা মিয়ার নিকট থেকে ৭ মাস আগে ৯ হাজার টাকা, মাদারহুদার মৃত রসুলের ছেলে আব্দুল হান্নান ও একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী বেদানা খাতুনের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ৬ হাজার টাকা, আদম আলীর ছেলে জিনারুলের নিকট থেকে ৫ মাস আগে ২ হাজার টাকা, মুনজিলের ছেলে সোহাগের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ৩ হাজার টাকাসহ অসংখ্য ব্যক্তির কাছে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাহিদ।
এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিস সহকারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের আর্থিকভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
জমি খারিজের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি কয়েক মাস পূর্বে এ অফিসে যোগদান করেছি। জাহিদ কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন এবং কী করেছেন, আমি কিছুই জানি না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযুক্ত জাহিদের বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি প্রদান করলেও তিনি গ্রহণ করেননি।’ তিনি আরও জানান, ‘ইতিমধ্যে জাহিদের পরিবার ৪৯ জনকে টাকা ফেরত দিয়েছে বলে শুনেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সীমা শারমিন জানান, অভিযুক্ত অফিস সহকারী জাহিদুলকে শোকজের চিঠি প্রদান করা হয়েছে। চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর অংশগ্রহণে চাঁদপুরে জাকের পার্টির ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও, উত্তেজনা!

আপডেট সময় : ০৪:২৩:১০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

অফিস সহকারী জাহিদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে জমি খারিজের নামে অফিস সহকারী জাহিদের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ কর্মরত আছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন জমি খারিজ, নামজারি, দলিল তোলাসহ বিভিন্ন কাজ করেন জাহিদের মাধ্যমে। এ সুযোগে জেহালা ইউনিয়নসহ পার্শ¦বর্তী বাড়াদী ও নাগদাহ ইউনিয়নের প্রায় ১০০ মানুষের নিকট থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমি খারিজের নামে হাতিয়ে নেন জাহিদ। এসব জমির মালিকেরা কয়েক বছর যাবৎ মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিসে ঘুরলেও মেলে না তাঁদের জমি খারিজের কাগজ। যেখানে সরকারি আইন অনুযায়ী ১১৭০ টাকা নেওয়ার কথা, সেখানে জাহিদ প্রায় কয়েক গুণ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
কয়েক মাস পূর্বে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ জাহিদের নিকট জমি খারিজের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে অফিস থেকে গা ঢাকা দেন জাহিদ। এ ঘটনাটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানলে তিনি জাহিদকে শোকজ করেন। জাহিদ ভূমি কর্মকর্তার শোকজের কাগজ গ্রহণ না করেই পালিয়ে বেড়ান। এ কারণে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন গ্রামের লোকজন মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। এতে করে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, জমি খারিজের কথা বলে জোড়গাছা গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে খোদা বক্সের নিকট থেকে ৩ মাস আগে ৩ হাজার টাকা, নতিডাঙ্গার মৃত বাদলের স্ত্রী রসুলা খাতুনের কাছ থেকে ৫ বছর আগে ৩ হাজার টাকা, একই গ্রামের মৃত হবিবরের ছেলে মহাবুলের নিকট থেকে ৫ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, মৃত মহাব্বতের ছেলে শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ১ বছর আগে ৪ হাজার ৫ শ টাকা, গড়গড়ি গ্রামের বাসুদের ছেলে বাবন কুমারের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, একই গ্রামের মৃত নয়ন ম-লের ছেলে মানোয়ারের কাছ থেকে ৩ মাস আগে ২ হাজার ৫ শ টাকা, মৃত আপিল উদ্দিনের ছেলে মহির উদ্দিনের নিকট থেকে ১৬ মাস আগে ৩ হাজার ৫ শ টাকা, সিহাজ উদ্দিনের ছেলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, আত্তাব আলীর ছেলে জালালের নিকট থেকে ৩ মাস আগে ৫ হাজার ৭ শ টাকা, গড়চাপড়া গ্রামের মৃত আইন আলীর ছেলে রকিবুল ইসলামের নিকট থেকে ৪ মাস আগে ১ হাজার টাকা, খুদিয়াখালীর সংকরের ছেলে সুজিত কুমারের নিকট থেকে ১০ মাস আগে ৩ হাজার টাকা, ছোটপুটিমারীর মৃত সবেদ আলীর ছেলে সোনা মিয়ার নিকট থেকে ৭ মাস আগে ৯ হাজার টাকা, মাদারহুদার মৃত রসুলের ছেলে আব্দুল হান্নান ও একই গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী বেদানা খাতুনের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ৬ হাজার টাকা, আদম আলীর ছেলে জিনারুলের নিকট থেকে ৫ মাস আগে ২ হাজার টাকা, মুনজিলের ছেলে সোহাগের নিকট থেকে ৬ মাস আগে ৩ হাজার টাকাসহ অসংখ্য ব্যক্তির কাছে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাহিদ।
এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ ভূমি অফিস সহকারী জাহিদুল ইসলাম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের আর্থিকভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
জমি খারিজের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি কয়েক মাস পূর্বে এ অফিসে যোগদান করেছি। জাহিদ কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন এবং কী করেছেন, আমি কিছুই জানি না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযুক্ত জাহিদের বিরুদ্ধে শোকজের চিঠি প্রদান করলেও তিনি গ্রহণ করেননি।’ তিনি আরও জানান, ‘ইতিমধ্যে জাহিদের পরিবার ৪৯ জনকে টাকা ফেরত দিয়েছে বলে শুনেছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সীমা শারমিন জানান, অভিযুক্ত অফিস সহকারী জাহিদুলকে শোকজের চিঠি প্রদান করা হয়েছে। চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।