রবিবার | ১ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত Logo হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস Logo জলবায়ু সহনশীল গ্রাম গঠনে উদ্যোগ, শ্যামনগরে সক্রিয় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স Logo ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল Logo খুবির ‘পাবনা খুবিয়ান সোসাইটির’ নতুন কমিটি গঠন ও ইফতার মাহফিল Logo চাঁদপুর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল Logo সারাদেশে চলমান ধর্ষণের প্রতিবাদে খুবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন Logo নারী উন্নয়ন সংস্থা বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা’র আত্মহত্যা Logo প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন : ডা. জাহিদ হোসেন

বালু খেকদের কবলে কয়রা নদী :ভাঙ্গনে ক্ষোভ বাড়ছে, ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের 

খুলনার কয়রার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও খোলপেটুয়া নদীজুড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে এসব নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলছেন। এতে করে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অথচ প্রশাসন থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী  কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তারা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অথচ সরকারকে রয়্যালটি না দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
চাঁদপুরের আলোচিত ‘বালুখেকো’ চেয়ারম্যান সেলিম খানের মতো কয়রাতেও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—“যদি সাধারণ মানুষ নিয়ম ভাঙলে শাস্তি পায়, তবে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা কেন আইনের বাইরে থাকবে?
পরিবেশকর্মীদের মতে, লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে কয়রার নদীগুলো ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদী ভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার বসতবাড়ি হারাচ্ছে। একইসাথে মাছসহ নানা জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীপথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় নৌচলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রতিনিয়ত নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। রাতে চলতে থাকে এসব কার্যক্রম। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নৌপথ ও অনুমোদিত জায়গা ছাড়া কোথাও বালু তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রমাণ পাওয়া গেলে বালু ব্যবসায়ীদের রয়্যালটি পরিশোধের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই এই অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও গোপন স্বার্থের কারণে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, “যদি এখনই বালু তোলা বন্ধ না করা হয়, তবে কয়রার গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত

বালু খেকদের কবলে কয়রা নদী :ভাঙ্গনে ক্ষোভ বাড়ছে, ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের 

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০৪ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খুলনার কয়রার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও খোলপেটুয়া নদীজুড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে এসব নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলছেন। এতে করে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অথচ প্রশাসন থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী  কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তারা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অথচ সরকারকে রয়্যালটি না দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
চাঁদপুরের আলোচিত ‘বালুখেকো’ চেয়ারম্যান সেলিম খানের মতো কয়রাতেও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—“যদি সাধারণ মানুষ নিয়ম ভাঙলে শাস্তি পায়, তবে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা কেন আইনের বাইরে থাকবে?
পরিবেশকর্মীদের মতে, লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে কয়রার নদীগুলো ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদী ভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার বসতবাড়ি হারাচ্ছে। একইসাথে মাছসহ নানা জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীপথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় নৌচলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রতিনিয়ত নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। রাতে চলতে থাকে এসব কার্যক্রম। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নৌপথ ও অনুমোদিত জায়গা ছাড়া কোথাও বালু তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রমাণ পাওয়া গেলে বালু ব্যবসায়ীদের রয়্যালটি পরিশোধের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।
এ অবস্থায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই এই অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও গোপন স্বার্থের কারণে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, “যদি এখনই বালু তোলা বন্ধ না করা হয়, তবে কয়রার গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”