শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা Logo সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি Logo পথিকৃৎ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা প্রয়োজন : খুবি উপাচার্য Logo ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, একযুগ পর ঝিনাইদহ পেল সফল জেলা প্রশাসক একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন জেলা প্রশাসক, আমজনতার অভিনন্দন Logo ইবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষককে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শাখা ছাত্রদলের Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীকে স্কুলব্যাগ উপহার Logo রাষ্ট্র বিনির্মাণের ডাক: সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ঝালকাঠিতে গনভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ Logo শেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

নাট্যকার ও অভিনেতা মনোজ মিত্র আর নেই

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭৮৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকার, নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা মনোজ মিত্র মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মনোজ মিত্র। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল সকালে এই বরেণ্য অভিনেতা মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই সাহিত্যিক অমর মিত্র।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েন মনোজ মিত্র। কলকাতার সল্টলেকের ক্যালকাটা হার্ট ইনস্টিউটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় হাসপাতাল জানিয়েছিল, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। হার্ট পাম্পের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। ক্রিয়েটিনিনও বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। সোডিয়াম-পটাশিয়ামেরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রবীণ অভিনেতার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, যদিও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বৃথা গেল!

তপন সিংহের চলচ্চিত্র ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ মনোজ মিত্রকে বাংলা সিনেমায় একজন অমর অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাঁরই লেখা নাটক ‘সাজানো বাগান’ থেকে তৈরি ওই চলচ্চিত্র। অশীতিপর বৃদ্ধ বাঞ্ছারাম তাঁর নিজ হাতে গড়া ফুল-ফলের বাগান নিয়ে পড়ে ছিলেন। নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই বাগান। মঞ্চে তিনি ওই বাঞ্ছারামের চরিত্রে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, পর্দায়ও জীবন্ত করেছিলেন বাঞ্ছারামকে। তাঁর অভিনয়জীবনের এক মাইলফলক এই ‘বাঞ্ছারাম’। সব ছাপিয়ে তিনি হয়েছিলেন বাঞ্ছারাম। আজ বাগান ফেলে চলে গেলেন তিনি।

মনোজ মিত্রর জন্ম ১৯৩৮ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ধূলিহার গ্রামে। শৈশব কেটেছে তাঁর ওই গ্রামেই। ১৯৫০ সালে ১২ বছর বয়সে তিনি চলে যান কলকাতায়। বাবা অশোক কুমার মিত্র স্বাধীনতা–উত্তর বাংলাদেশে ঢাকায় ভারতের দূতাবাসে চাকরি করেছেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার নাট্যমঞ্চে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। আর ১৯৭৯ সালে প্রথম পা রেখেছিলেন সিনেমায়। অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন সংগীত নাটক একাডেমি পদকসহ নানা পুরস্কার। ছিলেন কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যক্ষ।

মনোজ মিত্রর লেখা প্রথম নাটক ‘মৃত্যুর চোখে জল’। লিখেছিলেন ১৯৫৯ সালে। আর ১৯৭২ সালে ‘চাকভাঙা মধু’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি পর্দার সামনে আসেন। ওই নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবতী। মনোজ মিত্রর মঞ্চনাটক, যাত্রা, আকাশবাণীর নাটকে অবাধ বিচরণ ছিল।

মনোজ মিত্রর লেখা শতাধিক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চাকভাঙা মধু’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘নরক গুলজার’, ‘সাজানো বাগান’, ‘নৈশভোজ’, ‘চোখে আঙ্গুল দাদা’, ‘কাল বিহঙ্গ’, ‘অশ্বত্থামা’, ‘মেষ ও রাখাল’, ‘অলকানন্দর পুত্রকন্যা’ উল্লেখযোগ্য।

মনোজ মিত্র অভিনয় করেছেন ৫৭টি ছবিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘৬১ নম্বর গড়পার লেন’, ‘উমা’, ‘প্রেম বাইচান্স’, ‘অমর সাথি’, ‘ভালোবাসি শুধু তোমাকে’, ‘আগুন’, ‘চক্র’, ‘দত্তক’, ‘হিংসা’, ‘আবির্ভাব’ ও ‘তুফান’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা

নাট্যকার ও অভিনেতা মনোজ মিত্র আর নেই

আপডেট সময় : ০২:৪০:৫৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকার, নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা মনোজ মিত্র মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মনোজ মিত্র। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল সকালে এই বরেণ্য অভিনেতা মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই সাহিত্যিক অমর মিত্র।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েন মনোজ মিত্র। কলকাতার সল্টলেকের ক্যালকাটা হার্ট ইনস্টিউটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় হাসপাতাল জানিয়েছিল, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। হার্ট পাম্পের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। ক্রিয়েটিনিনও বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। সোডিয়াম-পটাশিয়ামেরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রবীণ অভিনেতার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, যদিও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বৃথা গেল!

তপন সিংহের চলচ্চিত্র ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ মনোজ মিত্রকে বাংলা সিনেমায় একজন অমর অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাঁরই লেখা নাটক ‘সাজানো বাগান’ থেকে তৈরি ওই চলচ্চিত্র। অশীতিপর বৃদ্ধ বাঞ্ছারাম তাঁর নিজ হাতে গড়া ফুল-ফলের বাগান নিয়ে পড়ে ছিলেন। নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই বাগান। মঞ্চে তিনি ওই বাঞ্ছারামের চরিত্রে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, পর্দায়ও জীবন্ত করেছিলেন বাঞ্ছারামকে। তাঁর অভিনয়জীবনের এক মাইলফলক এই ‘বাঞ্ছারাম’। সব ছাপিয়ে তিনি হয়েছিলেন বাঞ্ছারাম। আজ বাগান ফেলে চলে গেলেন তিনি।

মনোজ মিত্রর জন্ম ১৯৩৮ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ধূলিহার গ্রামে। শৈশব কেটেছে তাঁর ওই গ্রামেই। ১৯৫০ সালে ১২ বছর বয়সে তিনি চলে যান কলকাতায়। বাবা অশোক কুমার মিত্র স্বাধীনতা–উত্তর বাংলাদেশে ঢাকায় ভারতের দূতাবাসে চাকরি করেছেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার নাট্যমঞ্চে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। আর ১৯৭৯ সালে প্রথম পা রেখেছিলেন সিনেমায়। অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন সংগীত নাটক একাডেমি পদকসহ নানা পুরস্কার। ছিলেন কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যক্ষ।

মনোজ মিত্রর লেখা প্রথম নাটক ‘মৃত্যুর চোখে জল’। লিখেছিলেন ১৯৫৯ সালে। আর ১৯৭২ সালে ‘চাকভাঙা মধু’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি পর্দার সামনে আসেন। ওই নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবতী। মনোজ মিত্রর মঞ্চনাটক, যাত্রা, আকাশবাণীর নাটকে অবাধ বিচরণ ছিল।

মনোজ মিত্রর লেখা শতাধিক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চাকভাঙা মধু’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘নরক গুলজার’, ‘সাজানো বাগান’, ‘নৈশভোজ’, ‘চোখে আঙ্গুল দাদা’, ‘কাল বিহঙ্গ’, ‘অশ্বত্থামা’, ‘মেষ ও রাখাল’, ‘অলকানন্দর পুত্রকন্যা’ উল্লেখযোগ্য।

মনোজ মিত্র অভিনয় করেছেন ৫৭টি ছবিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘৬১ নম্বর গড়পার লেন’, ‘উমা’, ‘প্রেম বাইচান্স’, ‘অমর সাথি’, ‘ভালোবাসি শুধু তোমাকে’, ‘আগুন’, ‘চক্র’, ‘দত্তক’, ‘হিংসা’, ‘আবির্ভাব’ ও ‘তুফান’।