রবিবার | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় Logo খুবিতে ‘নৈয়ায়িক ভয়েসক্রাফট’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo খুবিতে ‘রান ফর ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির Logo দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিরোপা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অগ্রযাত্রা Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন Logo হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ দিনভর গণসংযোগ Logo হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত Logo চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল Logo চাঁদপুর ল্যাবরেটরী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাবকে কুপিয়ে জখম

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • ৮২৩ বার পড়া হয়েছে

নীলকন্ঠ প্রতিবেদকঃ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খানকে কুপিয়েছে দুর্বত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোরে রেফার্ড করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আলার মোড়ের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৮ মে উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একই স্টাইলে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এক মাসের ব্যবধানে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, এ হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফেরদৌস ওয়াহিদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেজাউল হক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মনোহরপুর আলার মোড়ে চা খেতে আসেন। আজও (শুক্রবার) একসাথে বসে চা খেলাম। পরে উনি মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। এক মিনিট পরেই এক নারীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে আমরা দৌঁড়ে যায়। গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান সাহেবকে কে বা কারা পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাকে যশোরে রেফার্ড করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে হয়ত দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। না হলে তারা চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলত।’
মনোহরপুর গ্রামের জুলি খাতুন নামের ওই নারী জানান, ‘সন্ধ্যার পর আমার ছোট ছেলের সাথে আলার মোড়ে সুপারি কিনতে যাচ্ছিলাম। পথের মাঝে দেখি চেয়ারম্যান মামা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মুখোশ পরিহিত দুজন ব্যক্তি চলে যাচ্ছে। এসময় আমি চিৎকার-চেঁচামেচি করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমার সুজন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের পিঠের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের জখম পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি অ্যাজমা ও পেশারের রোগী, তাই ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান বলেন, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে দুর্বত্তরা। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ জানান, ‘আমরা জেলা থেকে ডিবি টিম, সাইবার টিম নিয়ে এসেছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, কারা এ গুপ্ত হামলার সাথে জড়িত, তা দ্রুতই উন্মোচন করতে পারব।’

এর আগে গত ২৮ মে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একই স্টাইলে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তাঁকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্ব্যুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা বক্ষব্যাধী ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনার এক মাসের মাথায় আবারও আরেক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এক মাসের ব্যবধানে দুই চেয়ারম্যানের ওপর হামলা মেনে নেয়ার মতো না। জীবননগর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। যেখানে জনপ্রতিনিধিরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে না, সেখানে সাধারণ মানুষ তো মামুলি ব্যাপার।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায়

মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাবকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৯:১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

নীলকন্ঠ প্রতিবেদকঃ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খানকে কুপিয়েছে দুর্বত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যশোরে রেফার্ড করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আলার মোড়ের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ২৮ মে উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একই স্টাইলে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এক মাসের ব্যবধানে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, এ হামলার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান, জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফেরদৌস ওয়াহিদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেজাউল হক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মনোহরপুর আলার মোড়ে চা খেতে আসেন। আজও (শুক্রবার) একসাথে বসে চা খেলাম। পরে উনি মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। এক মিনিট পরেই এক নারীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেয়ে আমরা দৌঁড়ে যায়। গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান সাহেবকে কে বা কারা পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাকে যশোরে রেফার্ড করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারীর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে হয়ত দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে। না হলে তারা চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলত।’
মনোহরপুর গ্রামের জুলি খাতুন নামের ওই নারী জানান, ‘সন্ধ্যার পর আমার ছোট ছেলের সাথে আলার মোড়ে সুপারি কিনতে যাচ্ছিলাম। পথের মাঝে দেখি চেয়ারম্যান মামা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মুখোশ পরিহিত দুজন ব্যক্তি চলে যাচ্ছে। এসময় আমি চিৎকার-চেঁচামেচি করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমার সুজন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের পিঠের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের জখম পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তিনি অ্যাজমা ও পেশারের রোগী, তাই ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাবীদ হাসান বলেন, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে দুর্বত্তরা। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ জানান, ‘আমরা জেলা থেকে ডিবি টিম, সাইবার টিম নিয়ে এসেছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, কারা এ গুপ্ত হামলার সাথে জড়িত, তা দ্রুতই উন্মোচন করতে পারব।’

এর আগে গত ২৮ মে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একই স্টাইলে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তাঁকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্ব্যুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা বক্ষব্যাধী ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনার এক মাসের মাথায় আবারও আরেক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এক মাসের ব্যবধানে দুই চেয়ারম্যানের ওপর হামলা মেনে নেয়ার মতো না। জীবননগর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। যেখানে জনপ্রতিনিধিরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে না, সেখানে সাধারণ মানুষ তো মামুলি ব্যাপার।