দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর হাতে লেখক তৌফিক সুলতান স্যার এর বই এবং এক যুগে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।
একই দিনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর হাতে বই হস্তান্তর
—শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতীকী বার্তা
— শিক্ষার্থীদের পড়ার সংকট সমাধানে সময়োপযোগী এক উদ্যোগ।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর হাতে শিক্ষাবিষয়ক দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ হস্তান্তর এবং একই দিনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাভিত্তিক সমাজ গঠনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ. স. ম. হান্নান শাহ-এর কনিষ্ঠ পুত্র শাহ্ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী—এই দুই প্রার্থীর হাতে লেখক ও শিক্ষক তৌফিক সুলতান স্যার-এর রচিত বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
এই বই হস্তান্তর কেবল একটি সৌজন্যমূলক উদ্যোগ নয়; বরং শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও মানবিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবেই বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই দিনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—
এইচ. কে. বিপুল স্মৃতি হাই স্কুল, বি.জে.এস.এম মডেল কলেজ, দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, কোচেরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসাসহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের হাতে বইটি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাবিদরা বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সংকট হলো—অধিক পড়াশোনা করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা, পড়া বুঝলেও তা দীর্ঘদিন মনে না থাকা এবং পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। এই বাস্তব সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজতেই ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটি সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ।
বি জে এস এম মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মঞ্জিল মোল্লা বলেন পড়ার সঠিক কৌশল তোমার পড়াকে করে তুলতে পারে আরও আনন্দময়—যা মনে থাকবে দীর্ঘ সময়।আল্লাহ প্রদত্ত ইলম আমাদের জীবনে আলো ছড়ানোর সবচেয়ে বড় শক্তি।স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কী খাবার গ্রহণ করা উচিত—জানতে চাও?লেখক বা গবেষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও?অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট অর্জন করতে চাও?পড়ো, কিন্তু পড়া মনে থাকে না?লেখালেখি জানো, কিন্তু সেখান থেকে আয় হচ্ছে না?অসংখ্য ভুয়া তথ্যের ভিড়ে কোনটা সঠিক তথ্য—জানতে চাও?
পদ্ধতিই ফলাফল বদলায়,একটি বই, বদলে দিতে পারে তোমার পড়ার অভ্যাসসমাধান একটাই— তৌফিক সুলতান স্যার এর লেখা বই জ্ঞানের জগৎ আজই সংগ্রহ করো। পড়াশোনা হবে সহজ ও উপভোগ্য, মনে থাকবে দীর্ঘদিন; জ্ঞান হবে আয়ের মাধ্যম। যারা পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে;যারা পড়েও ভুলে যায়,পড়ো কিন্তু মনে থাকে না? পরীক্ষার হলে গিয়ে মাথা ফাঁকা? অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট চাও? তাহলে এই বইটা তোমার জন্যই।
লেখক তৌফিক সুলতান স্যার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাস্তব শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যার মূল কারণ তাদের মেধার ঘাটতি নয়; বরং পড়ার কৌশল, মানসিক প্রস্তুতি এবং প্রয়োগভিত্তিক শিক্ষার অভাব। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—সমস্যা কি শিক্ষার্থীর, নাকি আমাদের প্রথাগত শিক্ষাপদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে?
এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে তিনি Teacher Training, Investigative Journalism, Research in Education, Assessment of English Language Learners-এর মতো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত হন। এসব অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই ‘জ্ঞানের জগৎ’ গ্রন্থটি রচিত হয়।
বইটির মূল দর্শন হলো—“পড়া বুঝে মুখস্থ করা”। অর্থাৎ কেবল মুখস্থনির্ভরতা বা শুধু বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, বোঝা ও মুখস্থের সমন্বয়ের মাধ্যমে শেখাকে স্থায়ী ও কার্যকর করা। বইটিতে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে—কীভাবে অল্প পড়ে ভালো ফল করা যায়, কীভাবে পড়া দীর্ঘদিন মনে রাখা সম্ভব, কীভাবে পরীক্ষাভীতি কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর লেখা যায়।
বিশেষভাবে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে, পড়ে ভুলে যায় কিংবা পরীক্ষার হলে মানসিক চাপে পড়ে যায়—তাদের জন্য এই বইটি একটি কার্যকর গাইড হিসেবে কাজ করবে বলে মত দেন শিক্ষাবিদরা।
বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি কেবল পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। এতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি, নিয়মিত চর্চার গুরুত্ব এবং ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জ্ঞান অর্জন ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস, সুস্থ জীবনধারা এবং দৈনন্দিন জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কৌশলও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি যাঁরা লেখালেখি জানেন কিন্তু তা থেকে আয় করতে পারছেন না—তাদের জন্যও বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তৌফিক সুলতান স্যার। তিনি আব্দুল করিম ও ফাতেমা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান। সদ্য প্রকাশিত ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটি তিনি নরোত্তমপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে বসেই রচনা করেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, তিনি সেই বিরল মানুষদের একজন—যিনি শিক্ষা দিয়ে কেবল ফলাফল নয়, বরং মানুষ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
গাজীপুর-৪ আসনের দুই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর হাতে ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই হস্তান্তর এবং এক যুগে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন একটি প্রতীকী হলেও গভীর অর্থবহ উদ্যোগ। এটি প্রমাণ করে—শিক্ষা কোনো দল, মত বা আদর্শের বিষয় নয়; বরং এটি একটি সার্বজনীন সামাজিক দায়িত্ব।
‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে চিন্তা, নৈতিকতা ও জীবনদর্শন গঠনের একটি দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।








































