বুধবার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo চাঁদপুর সদরে মাসিক এনজিও সমন্বয় সভা সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব …….ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা Logo গাইবান্ধায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন Logo গণভোটের প্রচারণায় জীবননগরে ভোটের গাড়ি Logo চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি Logo নোবিপ্রবিতে একযোগে ২১ শিক্ষক নিয়োগ Logo প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি Logo প্রকাশ্যে চরমপন্থি নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা Logo সাতক্ষীরার যুগিপোতায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি Logo বরিশাল ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়া’র রুহে মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo দুই মেধাবীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার

মশারির মধ্যে গরু রাখার পরামর্শ

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:০৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৭৪০ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহে গরুর খামারে ‘লামথি স্কিন ডিজিজ’ ভাইরাস
নিউজ ডেস্ক:ঝিনাইদহের গ্রামে গ্রামে ‘লামথি স্কিন ডিজিজ’ নামের একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। এতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পশুসম্পদ কর্মকর্তারা এতে বিচলিত না হয়ে খামারি ও গরু পালনকারীদের মশারির মধ্যে গরু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত গরুগুলোর প্রথমে পা ফুলে যাচ্ছে। এরপর শরীরে জ্বর আসছে। এ জ্বর থাকা অবস্থায় দুই-তিন দিনের মধ্যে গোটা শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি ফোসকা বের হচ্ছে। যা পরবর্তী সময়ে ঘায়ে পরিণত হচ্ছে। গরুর মালিকেরা বলছেন, এ রোগে আক্রান্ত গরুগুলো কিছুই খেতে পারছে না। ফলে দ্রুতই তারা রোগাক্রান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পশুচিকিৎসকেরা বলছেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। ৯০-এর দশকে আফ্রিকাতে এ রোগ দেখা দেয়। এ রোগ মশার কামড় থেকে ছড়াই। এবার বাংলাদেশের অনেক স্থানেই এ রোগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা গরুগুলো মশারির মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই গরুর এ রোগ দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলার নিয়ামতপুর, মালিয়াট, জামাল ও কোলা ইউনিয়নে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।
সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের গোয়ালের হালের বলদ, দুধের গাভি, সদ্যজাত বাছুরসহ সব বয়সী গরুই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কালীগঞ্জের পার-খালকুলা গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ফ্রিজিয়ান জাতের একটি দুধের গাভির পেছনের একটি পা ফুলে আছে। গাভিটির পুরো শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি বের হয়েছে। একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ইমারত ম-লের দুটি গরুর। তালিয়ান গ্রামের নারায়ণ বিশ্বাস জানান, তাঁর গোয়ালের মোট চারটি গরুর পা ফুলে গায়ে ফুসকা বের হয়েছে। তাঁর একটি বড় বলদের অবস্থা খুবই খারাপ। পায়ের ফোলা স্থানে ক্ষত হয়ে পচন ধরেছে। ডাউটি গ্রামের কৃষক লিখন তরফদার জানান, তাঁর হালচাষের তিনট বড় বলদের অবস্থা বেশ খারাপ। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন, কিন্ত সুস্থ হচ্ছে না।
একাধিক পশুচিকিৎসকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উল্লেখিত গ্রাম ছাড়াও হরদেবপুর, বাগডাঙ্গা, উল্ল্যা, তালিয়ান, কাবিলপুর, বাসুদেবপুর, হুদা-ডাউটি, বড়-বায়সা, চুকাইতলা, খেদাপাড়া, রামচন্দ্রপুর, খালকুলা, ময়ধরপুর, কোলা, কাদিরডাঙ্গা, কামালহাট, দৌলতপুর, খড়িকাডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রামগুলোর গরুর শরীরে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা জানান, দিন যতই যাচ্ছে, এ রোগ ততই ছড়াচ্ছে। নতুন নতুন গ্রামে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুজ্জামান জানান, এ রোগটি শুধু কালীগঞ্জ উপজেলায় নয়, দেশের অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে। লামথি স্কিন ডিজিজ বলে এক ধরনের ভাইরাস এটা। ইতিপূর্বে এ রোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটা কম। তবে এতে গরুর অনেক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, এ রোগ দেখা দিলে অন্য গরু থেকে আক্রান্ত গরু আলাদা করে রাখতে হবে। রোগটি মশার মাধ্যমে ছড়ানোর কারণে অবশ্যই রোগাক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। আক্রান্ত গরুর জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। আর এ রোগের চার থেকে পাঁচ দিন অতিবাহিত হলে এবং ক্ষত জায়গার অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটা কোনো মরণব্যাধি নয় বলেও তিনি জানান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর সদরে মাসিক এনজিও সমন্বয় সভা সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব …….ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা

মশারির মধ্যে গরু রাখার পরামর্শ

আপডেট সময় : ১১:০৬:০৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঝিনাইদহে গরুর খামারে ‘লামথি স্কিন ডিজিজ’ ভাইরাস
নিউজ ডেস্ক:ঝিনাইদহের গ্রামে গ্রামে ‘লামথি স্কিন ডিজিজ’ নামের একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। এতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পশুসম্পদ কর্মকর্তারা এতে বিচলিত না হয়ে খামারি ও গরু পালনকারীদের মশারির মধ্যে গরু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত গরুগুলোর প্রথমে পা ফুলে যাচ্ছে। এরপর শরীরে জ্বর আসছে। এ জ্বর থাকা অবস্থায় দুই-তিন দিনের মধ্যে গোটা শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি ফোসকা বের হচ্ছে। যা পরবর্তী সময়ে ঘায়ে পরিণত হচ্ছে। গরুর মালিকেরা বলছেন, এ রোগে আক্রান্ত গরুগুলো কিছুই খেতে পারছে না। ফলে দ্রুতই তারা রোগাক্রান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পশুচিকিৎসকেরা বলছেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। ৯০-এর দশকে আফ্রিকাতে এ রোগ দেখা দেয়। এ রোগ মশার কামড় থেকে ছড়াই। এবার বাংলাদেশের অনেক স্থানেই এ রোগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা গরুগুলো মশারির মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই গরুর এ রোগ দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলার নিয়ামতপুর, মালিয়াট, জামাল ও কোলা ইউনিয়নে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।
সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের গোয়ালের হালের বলদ, দুধের গাভি, সদ্যজাত বাছুরসহ সব বয়সী গরুই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কালীগঞ্জের পার-খালকুলা গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ফ্রিজিয়ান জাতের একটি দুধের গাভির পেছনের একটি পা ফুলে আছে। গাভিটির পুরো শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি বের হয়েছে। একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ইমারত ম-লের দুটি গরুর। তালিয়ান গ্রামের নারায়ণ বিশ্বাস জানান, তাঁর গোয়ালের মোট চারটি গরুর পা ফুলে গায়ে ফুসকা বের হয়েছে। তাঁর একটি বড় বলদের অবস্থা খুবই খারাপ। পায়ের ফোলা স্থানে ক্ষত হয়ে পচন ধরেছে। ডাউটি গ্রামের কৃষক লিখন তরফদার জানান, তাঁর হালচাষের তিনট বড় বলদের অবস্থা বেশ খারাপ। স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ খাওয়াচ্ছেন, কিন্ত সুস্থ হচ্ছে না।
একাধিক পশুচিকিৎসকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উল্লেখিত গ্রাম ছাড়াও হরদেবপুর, বাগডাঙ্গা, উল্ল্যা, তালিয়ান, কাবিলপুর, বাসুদেবপুর, হুদা-ডাউটি, বড়-বায়সা, চুকাইতলা, খেদাপাড়া, রামচন্দ্রপুর, খালকুলা, ময়ধরপুর, কোলা, কাদিরডাঙ্গা, কামালহাট, দৌলতপুর, খড়িকাডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রামগুলোর গরুর শরীরে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা জানান, দিন যতই যাচ্ছে, এ রোগ ততই ছড়াচ্ছে। নতুন নতুন গ্রামে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুজ্জামান জানান, এ রোগটি শুধু কালীগঞ্জ উপজেলায় নয়, দেশের অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে। লামথি স্কিন ডিজিজ বলে এক ধরনের ভাইরাস এটা। ইতিপূর্বে এ রোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটা কম। তবে এতে গরুর অনেক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, এ রোগ দেখা দিলে অন্য গরু থেকে আক্রান্ত গরু আলাদা করে রাখতে হবে। রোগটি মশার মাধ্যমে ছড়ানোর কারণে অবশ্যই রোগাক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। আক্রান্ত গরুর জ্বর হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। আর এ রোগের চার থেকে পাঁচ দিন অতিবাহিত হলে এবং ক্ষত জায়গার অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এটা কোনো মরণব্যাধি নয় বলেও তিনি জানান।