মঙ্গলবার | ৭ এপ্রিল ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo কয়রায় নদীতে নৌকা ডুবি: সাঁতরে বাঁচলেন একজন, নিখোঁজ দুই জেলে Logo বোরো আবাদে পানির সংকট: দেওয়ানখালী খালে ইজারাদারের বিরুদ্ধে চাষিদের মানববন্ধন Logo জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে রাঙ্গামাটিতে চালু হলো ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড Logo খুবিতে ‘নৈয়ায়িক সন্ধ্যা’ শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন  Logo থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না হওয়ায় সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা Logo চাঁদপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দপ্তর প্রধানগনের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা Logo খুবিতে ইয়েস প্রোগ্রাম: তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান Logo খুবির কলা ও মানবিক স্কুলের নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. দুলাল হোসেন Logo ডাব থেকে টিউমার: শাহরাস্তিতে চিকিৎসা দক্ষতায় আস্থার নাম ডা. মো. আরিফুল হাসান Logo থানায় ডুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের উপর হামলায় এজাহার ভুক্ত যুব জামাতের ২ নেতা  ডিবির হাতে গ্রেফতার 

আলমডাঙ্গার চিলাভালকিতে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ!

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৭৩৯ বার পড়া হয়েছে

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল সিফাত ও প্রার্থনা

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ পাওয়া গেছে। উপজেলার চিলাভালকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় সিফাত আলী ও মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানীর টিফিনে ওই বিষ পাওয়া যায়। সামান্যের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গেছে। এ ঘটনার পর ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় জাহাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সিফাত আলী ও পার্শ্ববর্তী চিলাভালকি গ্রামের শ্রী অখিল কুমারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানী টিফিনবক্স খুলে ভাত খেতে যায়। এ সময় তারা ভাত মুখে দেওয়ার সময় বিষের গন্ধ পায়। এ বিষয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাত মুখে দেওয়ার সময় আমরা বিষের গন্ধ পাই। আমরা তা না খেয়ে প্রধান শিক্ষককে দেখাই। তিনি নাকে শুকে আঁতকে ওঠেন।’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। বিচার চাই, বিচার চাই বলে স্লোগানও দেয় তারা। এ সময় গ্রামের সাধারণ অভিভাবকেরাও ছুটে আসেন। এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহার কাছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে মেধাবী শিক্ষার্থী সিফাতের পিতা তৈয়ব আলী ও প্রার্থনা রানীর পিতা অখিল কুমার বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার পর আমাদের গা কাঁপছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কী কারণে, কারা আমাদের ছেলে-মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, বিষ মেশানো অবস্থায় দুজনের খাবার পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে তরল বিষ। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিষ কি বাইরে থেকে কেউ খাবারে দিয়েছে, নাকি স্কুলে এসে কেউ দিয়েছে, তা আমরা এখনই বলতে পারছি না।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘দুই শিক্ষার্থীর বিষ মেশানো খাবার আমরা স্থানীয় ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প হেফাজতে রেখেছি। কী উদ্দেশ্যে, কারা কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা এখনই বলতে পারছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরে জানানো হবে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কয়রায় নদীতে নৌকা ডুবি: সাঁতরে বাঁচলেন একজন, নিখোঁজ দুই জেলে

আলমডাঙ্গার চিলাভালকিতে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ!

আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল সিফাত ও প্রার্থনা

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ পাওয়া গেছে। উপজেলার চিলাভালকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় সিফাত আলী ও মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানীর টিফিনে ওই বিষ পাওয়া যায়। সামান্যের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গেছে। এ ঘটনার পর ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় জাহাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সিফাত আলী ও পার্শ্ববর্তী চিলাভালকি গ্রামের শ্রী অখিল কুমারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানী টিফিনবক্স খুলে ভাত খেতে যায়। এ সময় তারা ভাত মুখে দেওয়ার সময় বিষের গন্ধ পায়। এ বিষয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাত মুখে দেওয়ার সময় আমরা বিষের গন্ধ পাই। আমরা তা না খেয়ে প্রধান শিক্ষককে দেখাই। তিনি নাকে শুকে আঁতকে ওঠেন।’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। বিচার চাই, বিচার চাই বলে স্লোগানও দেয় তারা। এ সময় গ্রামের সাধারণ অভিভাবকেরাও ছুটে আসেন। এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহার কাছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে মেধাবী শিক্ষার্থী সিফাতের পিতা তৈয়ব আলী ও প্রার্থনা রানীর পিতা অখিল কুমার বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার পর আমাদের গা কাঁপছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কী কারণে, কারা আমাদের ছেলে-মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, বিষ মেশানো অবস্থায় দুজনের খাবার পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে তরল বিষ। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিষ কি বাইরে থেকে কেউ খাবারে দিয়েছে, নাকি স্কুলে এসে কেউ দিয়েছে, তা আমরা এখনই বলতে পারছি না।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘দুই শিক্ষার্থীর বিষ মেশানো খাবার আমরা স্থানীয় ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প হেফাজতে রেখেছি। কী উদ্দেশ্যে, কারা কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা এখনই বলতে পারছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরে জানানো হবে।’