বুধবার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo চাঁদপুর সদরে মাসিক এনজিও সমন্বয় সভা সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব …….ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা Logo গাইবান্ধায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন Logo গণভোটের প্রচারণায় জীবননগরে ভোটের গাড়ি Logo চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি Logo নোবিপ্রবিতে একযোগে ২১ শিক্ষক নিয়োগ Logo প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি Logo প্রকাশ্যে চরমপন্থি নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা Logo সাতক্ষীরার যুগিপোতায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি Logo বরিশাল ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়া’র রুহে মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo দুই মেধাবীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে প্যাপিরাস পাঠাগার

আলমডাঙ্গার চিলাভালকিতে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ!

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৭৩৬ বার পড়া হয়েছে

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল সিফাত ও প্রার্থনা

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ পাওয়া গেছে। উপজেলার চিলাভালকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় সিফাত আলী ও মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানীর টিফিনে ওই বিষ পাওয়া যায়। সামান্যের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গেছে। এ ঘটনার পর ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় জাহাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সিফাত আলী ও পার্শ্ববর্তী চিলাভালকি গ্রামের শ্রী অখিল কুমারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানী টিফিনবক্স খুলে ভাত খেতে যায়। এ সময় তারা ভাত মুখে দেওয়ার সময় বিষের গন্ধ পায়। এ বিষয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাত মুখে দেওয়ার সময় আমরা বিষের গন্ধ পাই। আমরা তা না খেয়ে প্রধান শিক্ষককে দেখাই। তিনি নাকে শুকে আঁতকে ওঠেন।’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। বিচার চাই, বিচার চাই বলে স্লোগানও দেয় তারা। এ সময় গ্রামের সাধারণ অভিভাবকেরাও ছুটে আসেন। এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহার কাছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে মেধাবী শিক্ষার্থী সিফাতের পিতা তৈয়ব আলী ও প্রার্থনা রানীর পিতা অখিল কুমার বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার পর আমাদের গা কাঁপছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কী কারণে, কারা আমাদের ছেলে-মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, বিষ মেশানো অবস্থায় দুজনের খাবার পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে তরল বিষ। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিষ কি বাইরে থেকে কেউ খাবারে দিয়েছে, নাকি স্কুলে এসে কেউ দিয়েছে, তা আমরা এখনই বলতে পারছি না।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘দুই শিক্ষার্থীর বিষ মেশানো খাবার আমরা স্থানীয় ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প হেফাজতে রেখেছি। কী উদ্দেশ্যে, কারা কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা এখনই বলতে পারছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরে জানানো হবে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর সদরে মাসিক এনজিও সমন্বয় সভা সমন্বিত উদ্যোগেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব …….ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা

আলমডাঙ্গার চিলাভালকিতে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ!

আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল সিফাত ও প্রার্থনা

নিউজ ডেস্ক:আলমডাঙ্গার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ পাওয়া গেছে। উপজেলার চিলাভালকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে। ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় সিফাত আলী ও মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানীর টিফিনে ওই বিষ পাওয়া যায়। সামান্যের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে গেছে। এ ঘটনার পর ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ফার্স্ট বয় জাহাপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সিফাত আলী ও পার্শ্ববর্তী চিলাভালকি গ্রামের শ্রী অখিল কুমারের মেয়ে মেধাবী ছাত্রী প্রার্থনা রানী টিফিনবক্স খুলে ভাত খেতে যায়। এ সময় তারা ভাত মুখে দেওয়ার সময় বিষের গন্ধ পায়। এ বিষয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী জানায়, ‘ভাত মুখে দেওয়ার সময় আমরা বিষের গন্ধ পাই। আমরা তা না খেয়ে প্রধান শিক্ষককে দেখাই। তিনি নাকে শুকে আঁতকে ওঠেন।’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। বিচার চাই, বিচার চাই বলে স্লোগানও দেয় তারা। এ সময় গ্রামের সাধারণ অভিভাবকেরাও ছুটে আসেন। এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর দেওয়া হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহার কাছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে মেধাবী শিক্ষার্থী সিফাতের পিতা তৈয়ব আলী ও প্রার্থনা রানীর পিতা অখিল কুমার বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার পর আমাদের গা কাঁপছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। কী কারণে, কারা আমাদের ছেলে-মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান বলেন, বিষ মেশানো অবস্থায় দুজনের খাবার পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে তরল বিষ। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিষ কি বাইরে থেকে কেউ খাবারে দিয়েছে, নাকি স্কুলে এসে কেউ দিয়েছে, তা আমরা এখনই বলতে পারছি না।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘দুই শিক্ষার্থীর বিষ মেশানো খাবার আমরা স্থানীয় ঘোলদাড়ি পুলিশ ক্যাম্প হেফাজতে রেখেছি। কী উদ্দেশ্যে, কারা কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীর খাবারে বিষ মিশিয়েছে, তা এখনই বলতে পারছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পরে জানানো হবে।’