খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ও কৌশলভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘মাইন্ড দ্য হ্যাক ২য় সংস্করণ’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাধিক ধাপের বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে ওঠা দলগুলো তাদের সাহসী ও সময়োপযোগী সমাধান উপস্থাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী।
গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী, সিটি ব্যাংকের এরিয়া হেড ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিমাদ্রি শেখর এবং ক্যাডারস-এর কোয়ালিটি অডিট অফিসার মো. আকিবুর রাহাত জিম। বিচারকরা প্রতিটি উপস্থাপনা গভীরভাবে মূল্যায়ন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ধারণা, কৌশল ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দেন।
মেধা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন:
“চাকরি বাজারে কোনো জিপিএ দিয়ে চাকরি হয় না, জিপিএ হলো একটা মিনিমাম ক্রাইটেরিয়া। চাকরি বাজার জয় করতে হবে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কথাবার্তা, আই কন্টাক্ট এবং ডেপথ অফ নলেজ দিয়ে। আমরা যদি মেধাকে অগ্রাহ্য করি বা বাদ দিয়ে দিই, তাহলে এ দেশ শেষ হয়ে যাবে; যা আমরা অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগের মাধ্যমে দেখেছি।”
অন্যদিকে, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুরুন্নবী বলেন:
“অনেকে মনে করে যারা ব্যবসায় পড়ে তারাই ভালো ব্যবসায় করে; এটি অত্যন্ত ভুল কথা। বিজনেস মানেই হচ্ছে সবসময় বেটার ডিসিশন এবং অপ্টিমাইজেশন। কম্পিটিশন না থাকলে ব্র্যান্ডিং বা পার্থক্যের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ মার্কেট তখনই তৈরি হয় যখন সেখানে প্রতিযোগিতা থাকে।”
আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতা কেবল একটি সমাপনী অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি তরুণ মেধার সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। উদ্ভাবনী চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনযাত্রায় নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পেয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বিচারকরা অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






















































