শুক্রবার | ২৭ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১ Logo বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডে সদস্য হলেন খুবির অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত Logo কয়রার ঘুগরাকাটি বাজারে জুতা ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার, আহত Logo পলাশবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত Logo পলাশবাড়ীতে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত  লক্ষাধিক টাকার  মুল্যবান  কাঠ চুরি Logo কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo কয়রায় অন্ডকোষ চেপে স্বামীকে হত্যা-স্ত্রী আটক Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন সিগারেট জব্দ Logo ঈদে পর্যটকদের ঢল: জমজমাট চাঁদপুর, মুখর ‘মিনি কক্সবাজার Logo চাঁদপুর জেলা কারাগারে ঈদুল ফিতর উদযাপন: বন্দিদের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন

ওয়াপদা প্রকল্পে হুমকিতে বসতভিটা, জোড়শিংয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং পূর্বপাড়ায় ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সংস্কার কাজের কারণে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি এবং জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি ভেড়িবাঁধের কাজ পূর্ব পাশে করা হয়, তাহলে তারা নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং তাদের বসতভিটা রক্ষা পাবে। কিন্তু যদি কাজ পশ্চিম পাশে করা হয়, তাহলে নদীর স্রোতের ধাক্কায় পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে শত বছরের পুরনো বসতভিটা, পারিবারিক জমি ও জীবন-জীবিকা সব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকার মানুষরা আরও জানিয়েছেন, ভেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে প্রায় ২০ বিঘা জমি অকেজো হয়ে আছে। তারা বলেছেন, ওই জমির ওপর দিয়ে কাজ করলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। তাই তারা আশা করছেন, ঠিক সেই দিক দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিবেশী মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন,
আমরা চাই বাঁধটি পূর্ব পাশে করা হোক। ওই দিকে জমি আছে, সেখানে কাজ করলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু পশ্চিম পাশে করলে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মতামত ছাড়াই কাজ শুরু করেছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কথা কেউ শুনছে না। এছাড়া তারা জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন কোনো প্রকার নিরাপত্তা বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে, এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ কয়রা-পাইকগাছা আসনের সকল সম্ভাব্য নেতা ও এমপি প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছেন। তারা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া কাজ করলে শুধু তাদের বসতভিটাই নয়, পুরো এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
বাসিন্দারা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াপদা প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে এবং প্রকল্পের কাজ এমনভাবে করবে যাতে কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা আশাবাদী যে, সঠিক দিকনির্দেশনায় বাঁধ সংস্কার করলে জোড়শিংয়ের মানুষের জীবন ও বসতভিটা নিরাপদ থাকবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১

ওয়াপদা প্রকল্পে হুমকিতে বসতভিটা, জোড়শিংয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৭ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং পূর্বপাড়ায় ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সংস্কার কাজের কারণে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি এবং জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি ভেড়িবাঁধের কাজ পূর্ব পাশে করা হয়, তাহলে তারা নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং তাদের বসতভিটা রক্ষা পাবে। কিন্তু যদি কাজ পশ্চিম পাশে করা হয়, তাহলে নদীর স্রোতের ধাক্কায় পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে শত বছরের পুরনো বসতভিটা, পারিবারিক জমি ও জীবন-জীবিকা সব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকার মানুষরা আরও জানিয়েছেন, ভেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে প্রায় ২০ বিঘা জমি অকেজো হয়ে আছে। তারা বলেছেন, ওই জমির ওপর দিয়ে কাজ করলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। তাই তারা আশা করছেন, ঠিক সেই দিক দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিবেশী মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন,
আমরা চাই বাঁধটি পূর্ব পাশে করা হোক। ওই দিকে জমি আছে, সেখানে কাজ করলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু পশ্চিম পাশে করলে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের মতামত ছাড়াই কাজ শুরু করেছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কথা কেউ শুনছে না। এছাড়া তারা জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন কোনো প্রকার নিরাপত্তা বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে, এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ কয়রা-পাইকগাছা আসনের সকল সম্ভাব্য নেতা ও এমপি প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছেন। তারা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া কাজ করলে শুধু তাদের বসতভিটাই নয়, পুরো এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
বাসিন্দারা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াপদা প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে এবং প্রকল্পের কাজ এমনভাবে করবে যাতে কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা আশাবাদী যে, সঠিক দিকনির্দেশনায় বাঁধ সংস্কার করলে জোড়শিংয়ের মানুষের জীবন ও বসতভিটা নিরাপদ থাকবে।