শনিবার | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় Logo খুবিতে ‘নৈয়ায়িক ভয়েসক্রাফট’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo খুবিতে ‘রান ফর ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির Logo দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিরোপা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অগ্রযাত্রা Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন Logo হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ দিনভর গণসংযোগ Logo হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত Logo চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল Logo চাঁদপুর ল্যাবরেটরী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হল তিন দিনব্যাপী ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৮০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম।

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায়

বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হল তিন দিনব্যাপী ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০

আপডেট সময় : ০৩:১৪:২৮ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম।

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।