শনিবার | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় Logo খুবিতে ‘নৈয়ায়িক ভয়েসক্রাফট’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo খুবিতে ‘রান ফর ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির Logo দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিরোপা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অগ্রযাত্রা Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন Logo হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নে মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ দিনভর গণসংযোগ Logo হাল্ট প্রাইজ অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত Logo চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে নেতাকর্মীদের ঢল Logo চাঁদপুর ল্যাবরেটরী স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

হাসিনাকে উৎখাতের সেই ঐক্য কোথায়

দারিদ্র্যমোচনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাজের প্রশংসা করলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তরণপর্ব নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল, অভ্যুত্থানের এক বছরের মাথায় সেই ঐক্য আর বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না।’ সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মাহাথির।

মাহাথির মোহাম্মদের শততম জন্মদিন (১০ জুলাই শতবর্ষে পা দেবেন) সামনে রেখে তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আইটিভির প্রতিবেদক মাহাথির পাশা।

সাক্ষাৎকারে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বড় মাপের মানুষ। তিনি যা করেছেন, দরিদ্রদের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেজন্য নোবেল পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য ছিল। তিনি ক্ষমতার লোভ করেননি, তিনি কেবল দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’ ড. ইউনূসের প্রশংসা করলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘মানুষ শেখ হাসিনাকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ ছিল, কিন্তু কী ধরনের সরকার তারা চায় সে বিষয়ে ঐক্য নেই। প্রত্যেকে চায় তার নিজের মতামতই দেশের সবাই মেনে নিক। আর তাতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এখন সেই লোকজনের মধ্যেই দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে, যারা আগে ঐক্যবদ্ধ ছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে আসিয়ানের সদস্যপদে দেখতে চান। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী নন মাহাথির। তিনি বলেন, ‘এখানে মূল সমস্যাটা হলো ভৌগোলিক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বলতে যে ভৌগোলিক সীমা এখন বোঝায়, বাংলাদেশ তা থেকে অনেক দূরে। আমাদের তো একটা ভৌগোলিক সীমা মেনে চলতে হবে, না হলে আসিয়ান তো দ্বিতীয় জাতিসংঘে পরিণত হবে। তবে বাংলাদেশ আসিয়ান প্লাস ফরম্যাটে ডায়ালগ পার্টনার কিংবা অবজারভার স্ট্যাটাসে আসতে পারে। আমরা জাপান, যুক্তরাজ্য, আমেরিকার সঙ্গেও তো কথা বলি, বাংলাদেশের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব।’

বাংলাদেশ যখন আগামী বছর নতুন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন ১৫ বছর দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিতর্কিত শাসনামলের কথা বিবেচনায় নিলে আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত কি না-এ প্রশ্নে মাহাথির উত্তর দেন দার্শনিক ভঙ্গিতে। তিনি বলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের একটা সমস্যা। মানুষ সব সময় সেরা লোকটাকেই বেছে নেয় না; কখনো কখনো ভুল লোককেও বেছে নেয়। যদি বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাভাবনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমি মনে করি, তারা একটা ভালো সরকার বেছে নিতে পারবে।’ রোহিঙ্গাসংকটে মালয়েশিয়ার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন মাহাথির। রাখাইনে নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া যথেষ্ট করেছে। আমাদের এর বেশি সক্ষমতা নেই। আমরা মিয়ানমারকে বোঝাতে চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হইনি। এখন অন্য দেশগুলোর এগিয়ে আসার সময়।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে নির্বাচনী বিতর্ক, প্রতীকী গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায়

হাসিনাকে উৎখাতের সেই ঐক্য কোথায়

আপডেট সময় : ১১:২২:১৫ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

দারিদ্র্যমোচনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাজের প্রশংসা করলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তরণপর্ব নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল, অভ্যুত্থানের এক বছরের মাথায় সেই ঐক্য আর বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না।’ সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মাহাথির।

মাহাথির মোহাম্মদের শততম জন্মদিন (১০ জুলাই শতবর্ষে পা দেবেন) সামনে রেখে তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আইটিভির প্রতিবেদক মাহাথির পাশা।

সাক্ষাৎকারে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বড় মাপের মানুষ। তিনি যা করেছেন, দরিদ্রদের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেজন্য নোবেল পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য ছিল। তিনি ক্ষমতার লোভ করেননি, তিনি কেবল দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’ ড. ইউনূসের প্রশংসা করলেও বাংলাদেশে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘মানুষ শেখ হাসিনাকে সরাতে ঐক্যবদ্ধ ছিল, কিন্তু কী ধরনের সরকার তারা চায় সে বিষয়ে ঐক্য নেই। প্রত্যেকে চায় তার নিজের মতামতই দেশের সবাই মেনে নিক। আর তাতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এখন সেই লোকজনের মধ্যেই দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে, যারা আগে ঐক্যবদ্ধ ছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে আসিয়ানের সদস্যপদে দেখতে চান। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী নন মাহাথির। তিনি বলেন, ‘এখানে মূল সমস্যাটা হলো ভৌগোলিক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বলতে যে ভৌগোলিক সীমা এখন বোঝায়, বাংলাদেশ তা থেকে অনেক দূরে। আমাদের তো একটা ভৌগোলিক সীমা মেনে চলতে হবে, না হলে আসিয়ান তো দ্বিতীয় জাতিসংঘে পরিণত হবে। তবে বাংলাদেশ আসিয়ান প্লাস ফরম্যাটে ডায়ালগ পার্টনার কিংবা অবজারভার স্ট্যাটাসে আসতে পারে। আমরা জাপান, যুক্তরাজ্য, আমেরিকার সঙ্গেও তো কথা বলি, বাংলাদেশের সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব।’

বাংলাদেশ যখন আগামী বছর নতুন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন ১৫ বছর দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিতর্কিত শাসনামলের কথা বিবেচনায় নিলে আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত কি না-এ প্রশ্নে মাহাথির উত্তর দেন দার্শনিক ভঙ্গিতে। তিনি বলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের একটা সমস্যা। মানুষ সব সময় সেরা লোকটাকেই বেছে নেয় না; কখনো কখনো ভুল লোককেও বেছে নেয়। যদি বাংলাদেশের মানুষ চিন্তাভাবনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমি মনে করি, তারা একটা ভালো সরকার বেছে নিতে পারবে।’ রোহিঙ্গাসংকটে মালয়েশিয়ার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন মাহাথির। রাখাইনে নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া যথেষ্ট করেছে। আমাদের এর বেশি সক্ষমতা নেই। আমরা মিয়ানমারকে বোঝাতে চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হইনি। এখন অন্য দেশগুলোর এগিয়ে আসার সময়।’