যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছে তারা। সার্বদের হাতে ধ্বংস হওয়া ইসলামি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং ধর্মীয় অবকাঠামোর পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেছে। কসোভোর দুই শতাধিক মসজিদ ধ্বংস করে সার্ব বাহিনী। কসোভোর ধর্মবিদ্বেষী কমিউনিস্ট শাসকরা ৭০ বছর ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সকল প্রকার ধর্মীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখে। তারা অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। কসোভোর মুসলিমরা চেষ্টা করছে ইসলামের হারানো ঐতিহ্য ও আবহ ফিরিয়ে আনতে। তারা নতুন করে মাদরাসা মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। বর্তমানে মাদরাসায়ে আলাউদ্দিন নামে একটি প্রাচীন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে এবং একটি বিশেষায়িত ইসলামিক কলেজ চালু হয়েছে।
কসোভোর পুনর্গঠনে সে দেশের জনগণ ধনী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাহায্য প্রত্যাশা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো মুসলিম দেশ এগিয়ে আসেনি। তবে বিভিন্ন দেশের কিছু বেসরকারি সাহায্য প্রতিষ্ঠান সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দানশীল মানুষের উদ্যোগে গঠিত ‘আল মাশিখাতুল ইসলামিয়া’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও ইসলামি শিক্ষার বিস্তারে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে, তারা ২৪টি ইসলামী শিক্ষা ও প্রচার কেন্দ্র এবং ৫৫০টি মসজিদ নির্মাণ করেছে। তাদের অধীনে ৫০০ আলেম ও মুবাল্লিগ কসোভোতে ইসলাম প্রচারের কাজ করছে।
রমজানের চাঁদের ব্যাপারে কসোভোর মুসলিমরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসরণ করে। সাথে সাথে তুরস্ক ও ইউরোপীয় ফতোয়া ও গবেষণা বোর্ডের পরামর্শ গ্রহণ করে। রমজানের আগমনে কসোভোর মুমলিমরা আনন্দে মেতে ওঠে এবং রঙিন ফানুস নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। ছোট বড় সবাই পরস্পরকে অভিনন্দন জানায়। রমজানের কয়েকদিন পূর্ব থেকে তারা মসজিদগুলোকে মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুত করে। স্বাধীনতার পর থেকে কসোভোর মুসলিমরা রমজান মাসে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে সম্মিলিত দোয়ার আয়োজন করে। প্রতিটি মসজিদে বিতর ও ফজরের নামাজে ‘কুনুতে নাজেলা’ পড়া হয়।