মঙ্গলবার | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া Logo এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলো যদি লাইনের বাইরে চলে যায়, তাহলে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে-সাতক্ষীরায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করলেন উপ-উপাচার্য Logo আজ শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী Logo জিয়াউর রহমান : এক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতি গঠনের কারিগর Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা

দেশে প্রতিদিন অপহরণের শিকার গড়ে ৩ শিশু

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:১৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭৬৩ বার পড়া হয়েছে

৩ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজ হয় ৬ বছরের মুনতাহা। নিখোঁজের সাতদিন পর বাড়ির কাছের নালা থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ। ১৫ নভেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুট ও ৮ মাসের শিশু জাইফাকে অপহরণ করা হয়। অবশ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয় জাইফাকে।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, এমন শিশু অপহরণের ঘটনা দেশে প্রতিদিন হয় গড়ে অন্তত তিনটি। অপহৃত ২৯ ভাগ শিশুকে উদ্ধার করা যায়নি। অপহরণ ও নিখোঁজের পর হত্যাসহ ১০ মাসে মারা গেছে ৪৮২ জন শিশু। শিশু অপহরণের পেছনে পারিবারিক শত্রুতা, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, পাচার ও বিক্রি করা প্রধান উদ্দেশ্য বলে পরিসংখ্যানে জানা গেছে।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, ৯ মাসে সারা দেশে অপহরণের মামলা হয়েছে ৬৯৫টি। উদ্ধার হয়েছে ৪৯১ শিশু। উদ্ধার না হওয়া বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা।

আইন ও সালিস কেন্দ্র জানিয়েছে, ১০ মাসে নির্যাতন, সহিংসতা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিখোঁজের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৮২ শিশুর। গত বছর একই সময়ে মারা যায় ৪২১ শিশু।

শিশুদের প্রতি অপরাধ বন্ধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ অপরাধ বিশ্লেষকদের।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে পরিস্থিতিকে অনুকূলে রাখার, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করার যে পরিস্থিতি তাও করতে পারছে না। একটা ঘাটতি বা শূন্যতা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।’

শিশুরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না বলে তারা অপরাধীদের সহজ টার্গেট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারেও বাড়ছে শিশু নির্যাতন।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মেখলা সরকার বলেন, দিন দিন আমরা আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছি। আমরা আইসোলেশন হয়ে যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এবং যখনই আমরা বিচ্ছিন্ন হব, যার ফলে অন্যের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা কমে যাচ্ছে। আমাদের সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। কাছের মানুষের সঙ্গে নানা পরিবর্তন দেখা যায়।

অংশীজনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিশু অধিকার বিষয়ক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া

দেশে প্রতিদিন অপহরণের শিকার গড়ে ৩ শিশু

আপডেট সময় : ১০:১৮:১৬ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

৩ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজ হয় ৬ বছরের মুনতাহা। নিখোঁজের সাতদিন পর বাড়ির কাছের নালা থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ। ১৫ নভেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুট ও ৮ মাসের শিশু জাইফাকে অপহরণ করা হয়। অবশ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয় জাইফাকে।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, এমন শিশু অপহরণের ঘটনা দেশে প্রতিদিন হয় গড়ে অন্তত তিনটি। অপহৃত ২৯ ভাগ শিশুকে উদ্ধার করা যায়নি। অপহরণ ও নিখোঁজের পর হত্যাসহ ১০ মাসে মারা গেছে ৪৮২ জন শিশু। শিশু অপহরণের পেছনে পারিবারিক শত্রুতা, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, পাচার ও বিক্রি করা প্রধান উদ্দেশ্য বলে পরিসংখ্যানে জানা গেছে।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, ৯ মাসে সারা দেশে অপহরণের মামলা হয়েছে ৬৯৫টি। উদ্ধার হয়েছে ৪৯১ শিশু। উদ্ধার না হওয়া বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা।

আইন ও সালিস কেন্দ্র জানিয়েছে, ১০ মাসে নির্যাতন, সহিংসতা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নিখোঁজের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪৮২ শিশুর। গত বছর একই সময়ে মারা যায় ৪২১ শিশু।

শিশুদের প্রতি অপরাধ বন্ধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ অপরাধ বিশ্লেষকদের।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে পরিস্থিতিকে অনুকূলে রাখার, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করার যে পরিস্থিতি তাও করতে পারছে না। একটা ঘাটতি বা শূন্যতা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।’

শিশুরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না বলে তারা অপরাধীদের সহজ টার্গেট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারেও বাড়ছে শিশু নির্যাতন।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মেখলা সরকার বলেন, দিন দিন আমরা আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছি। আমরা আইসোলেশন হয়ে যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এবং যখনই আমরা বিচ্ছিন্ন হব, যার ফলে অন্যের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা কমে যাচ্ছে। আমাদের সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। কাছের মানুষের সঙ্গে নানা পরিবর্তন দেখা যায়।

অংশীজনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিশু অধিকার বিষয়ক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ বিশ্লেষকদের।